শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিন পার করেছে। এই সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, তৃতীয় ভাষা, শিক্ষকদের ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণের মতো বেশ কিছু উদ্যোগ সামনে এসেছে। তবে ঘোষিত পরিকল্পনার বিপরীতে বাস্তবায়নের চিত্র অনেকটাই অস্পষ্ট। বরং শিক্ষা সংস্কারের মৌলিক কাঠামো, নীতি-নির্ধারণে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদেরা।
১৮০ দিনের মেয়াদ শেষের দিকে এসে সরকারের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, কিছু উদ্যোগে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও বড় একটি অংশ এখনও পরিকল্পনা, প্রস্তুতি বা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ফলে ছয় মাসের এই কর্মসূচি কতটা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পেরেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে অপর্যাপ্ত ও অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। বরং কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়ো এবং নীতি-নির্ধারণে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সেই কমিশন গঠন হয়নি। এটিকে শিক্ষা খাতে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বিশ্লেষণেও শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতির উল্লেখ পাওয়া যায়।
পরিকল্পনায় ৩৬ কাজ, বাস্তবায়নের চিত্রে ঘাটতি
চলতি বছরের ৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৮০ দিনের কর্মসূচি নিয়ে সভা হয়। পরে ২৪ মার্চ শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসনুল হক মিলন ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেখানে শিক্ষাকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগসহ একাধিক উদ্যোগের কথা বলা হয়।
অগ্রধিকার পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে ছিল প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা। মার্চে প্রকাশিত কর্মসূচির বিবরণ অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্তরের ৫০ হাজার শিক্ষকের হাতে ট্যাব, ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার মতো উদ্যোগ ছিল। একই কর্মসূচিতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন ও শিক্ষা টিভি চালুর উদ্যোগও রাখা হয়।
কিন্তু পরে সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে ১৮০ দিনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যমাত্রার সংখ্যা ভিন্নভাবে উঠে আসে। ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব, ৩ হাজার ৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইতালিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা এবং ৪১৮টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্চে ঘোষিত সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা এবং পরবর্তী সংসদীয় বক্তব্যে ১৮০ দিনের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই পরিকল্পনার সংখ্যাকে সরাসরি বাস্তবায়নের অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ট্যাব-মাল্টিমিডিয়ায় উদ্যোগ
‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিকে সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনার অন্যতম দৃশ্যমান উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ১৮০ দিনের মধ্যে সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব পৌঁছে গেছে তা নয়। বরং ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব দেওয়ার লক্ষ্য জানান।
একইভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঘোষিত লক্ষ্যের পুরোটা সম্পন্ন হয়েছে কি না, সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, প্রযুক্তি বা তৃতীয় ভাষার মতো উদ্যোগ নেওয়া খারাপ নয়; সমস্যা হলো এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সক্ষমতা ও বাস্তব সংকট বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কি না। যে দেশে এখনও প্রাথমিক শিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করা যায়নি এবং বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়েই শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখানে তৃতীয় ভাষা বা কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার মতো বড় সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশন রয়েছে।
এসব বিষয় বাধ্যতামূলক করার আগে সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজনে শুরুতে ঐচ্ছিকভাবে চালু করে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করা যেত বলে মন্তব্য করেনি তিনি।

স্কুল ড্রেসে বাস্তব কাজ, তবে সার্বজনীন নয়
১৮০ দিনের কর্মসূচিতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা দেওয়ার উদ্যোগ ছিল। প্রধানমন্ত্রী ১ এপ্রিল সংসদে জানান, দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও জুতা দেওয়ার কাজ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এটি অন্য অনেক কর্মসূচির তুলনায় মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান একটি উদ্যোগ। তবে মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় দুই লাখ সংখ্যাটি যথেষ্টই কম।
ওয়াই-ফাইয়ের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা
১৮০ দিনের কর্মসূচিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী এপ্রিলে ৪১৮টি কারিগরি ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে জুনের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর কথা জানান। পরে বিএনপির দুই মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদনে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর পরিকল্পনার কথা বলা হয়।
অর্থাৎ কর্মসূচির পরিধি পরবর্তী সময়ে আরও বড় করা হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের কতগুলোতে ওয়াই-ফাই চালু হয়েছে তা জানা যায়নি।
তৃতীয় ভাষা: লক্ষ্য আছে, বাস্তবায়ন সীমিত
মাধ্যমিক পর্যায়ে তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনাও ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে ছিল। প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতালিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শেখানোর জন্য ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এটিকে পুরো মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করার বাস্তবায়ন বলা যাবে না। এটি মূলত সীমিত পরিসরের একটি উদ্যোগ বা পাইলটধর্মী কার্যক্রম।
এ বিষয়ে অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক স্তরে শিক্ষক ও অবকাঠামোর ঘাটতি দূর না করে নতুন নতুন বিষয় বাধ্যতামূলক করা নীতিনির্ধারণের অগ্রাধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে।”
কারিগরি শিক্ষা নিয়ে বড় লক্ষ্য
সরকার মাধ্যমিক পর্যায় থেকে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে। নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রচলিত কারিকুলামে ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।
১৮০ দিনের কর্মসূচিতে কারিগরি শিক্ষার ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো, শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ভাষা দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরও সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আলাদা নোটিশ দিয়েছে।
কিন্তু প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে এটিকে এখনও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্য হিসেবেই দেখা যায়।
আনন্দময় শিক্ষা: প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমের উদ্যোগ
পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশে শেখানোর জন্য ‘Learning with Happiness’ ধারণাকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এটি ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় থাকা তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক দিক হলেও, এর ফলাফল দৃশ্যমান দেখা যায়নি।

শিক্ষা সংস্কারের জায়গাতেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
১৮০ দিনের কর্মসূচিতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের উদ্যোগের কথা ছিল। মার্চে প্রকাশিত কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সংস্কারের পথ তৈরি করতে কমিশন গঠনের আগে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু অধ্যাপক মজিবুর রহমানের মতে, এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় ঘাটতি। তিনি বলেন, “শিক্ষা সংস্কারের সঠিক প্রক্রিয়া হলো প্রথমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কমিশন গঠন করা। সেই কমিশন জাতীয় শিক্ষা দর্শন নির্ধারণ করবে; তার ভিত্তিতে শিক্ষানীতি, এরপর কারিকুলাম এবং সর্বশেষে পাঠ্যপুস্তক তৈরি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার যেন প্রক্রিয়াটি উল্টো দিক থেকে পরিচালনা করছে। আগে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করা হয়েছে, এখন কারিকুলাম পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে। শুধু দু-একটি গল্প বা কবিতা বদলে শিক্ষা ব্যবস্থা বদলে ফেলা যায় না; এর জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার মূল কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।”
সাম্প্রতিক শিক্ষা পরিকল্পনায় দেখা যায়, সরকার ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, একই সঙ্গে নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের কথাও বলছে। অর্থাৎ নীতি, কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক—এই তিন স্তরের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসছে। ২০২৬-২৭ বাজেটেও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই, শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্র আইডি, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং এআই, রোবোটিকস ও কোডিং শেখানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
দলীয় নয়, জাতীয় কমিশনের দাবি
শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও অধ্যাপক মজিবুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলের কমিশন হওয়া উচিত নয়। স্বাধীনতার পর গত কয়েক দশকে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষা কমিশন ও নীতির পরিবর্তন হওয়ায় শিক্ষায় ধারাবাহিকতা তৈরি হয়নি।”
তাই নতুন কমিশনে নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ, গ্রাম-শহর এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন এই শিক্ষাবিদ।
এছাড়া অধ্যাপক মজিবুর রহমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারে এক ধরনের তাড়াহুড়োও দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচিত সরকারের সামনে পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট রয়েছে। তাই এক বছরের মধ্যে সব পরিবর্তন করে ফেলার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা রাস্তা বা ভবনের মতো নয়, ভুল হলে ভেঙে আবার নতুন করে তৈরি করা যায় না। একটি ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে এবং তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেতে পারে। তাই শিক্ষা সংস্কারে ‘চমক’ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণা, পরীক্ষিত পদ্ধতি এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন।
শিক্ষা খাতের নীতি-নির্ধারণেও সমন্বয়হীনতা দেখছেন এই শিক্ষাবিদ। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, আমলা কিংবা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অনেক সময় ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এতে একটি সামগ্রিক নীতির বদলে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের ধারণা তৈরি হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এই অধ্যাপক বলেন, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান থাকা প্রয়োজন। সেই পরিকল্পনার আলোকে কোন কাজ আগে হবে, কোনটি পরে হবে, কোনটার জন্য কত অর্থ প্রয়োজন এবং কীভাবে ফলাফল পরিমাপ করা হবে তার সবকিছু নির্ধারণ করতে হবে।
১৮০ দিনে কতটা বদল?
১৮০ দিনের কর্মসূচির হিসাব করলে সরকারের কিছু উদ্যোগ দৃশ্যমান। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা দেওয়ার কাজ এগিয়েছে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণের সীমা বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ট্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কর্মসূচি শুরু হয়েছে, ওয়াই-ফাই ও তৃতীয় ভাষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ঋণের ক্ষেত্রে ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণসীমা বাড়ানোর কথা প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন।
কিন্তু এসব উদ্যোগের বড় অংশ এখনও লক্ষ্যমাত্রা ও চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
অধ্যাপক মজিবুর রহমানের মতে, সরকারকে এখন পর্যন্ত নেওয়া উদ্যোগগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। তাড়াহুড়ো না করে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গবেষক, প্রশাসন, শিল্পখাত এবং বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে।
এমএইচ/এএস




