রাজবাড়ীর কালুখালীতে নিখোঁজের তিন দিন পর নিরব শেখ (১৭) নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের সালেপুর এলকার পদ্মা নদীর কোল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
নিরব শেখ রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিণবাড়িয়া গ্রামের বাধাই মালের ব্যবসায়ী জিয়ারুল শেখের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে নিরব ছিল বড়।
নিরবের বাবা জিয়ারুল শেখ বলেন, তিন বছর আগে নিরবের মা তাসলিমা বেগম মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর নিরব মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়ে। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করলেও পরে তা বাদ দিয়ে দেয়। এরপর মাঝে মাঝে ঢাকায় গিয়ে চায়না দুয়ারি (মাছ ধরার ফাঁদ) বানানোর কাজ করত। এক মাস আগে সে বাড়ি আসে এবং এরপর থেকে বাড়িতে কোনো কাজকর্ম করত না। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে সে বাড়ির পাশের মাধবপুর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি ফেসবুকে নিরবের ছবিসহ নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দেই।
তিনি বলেন, শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর (০১৩০১-৫২৬৮০৫) থেকে আমাকে ফোন করে বলে, ‘তোর ছেলে আমার কাছে আছে। যদি ২০ লাখ টাকা দিস, তাহলে তোর ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফেরৎ পাবি। নাহলে তোর ছেলেকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবো।’ এরপর ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শনিবার (২২ মার্চ) আমি এ ঘটনায় কালুখালী থানায় জিডি করি। রোববার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে সালেপুর এলকার পদ্মা নদীর কোল থেকে স্থানীয়রা একটি লাশ ভাসতে দেখে আমাকে খবর দেয়। আমি গিয়ে আমার ছেলের লাশ শনাক্ত করি।
বিজ্ঞাপন
নিরবের ফুপু মোমেনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, আমার ভাতিজার সাথে কারো কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। আমরা তার হত্যার বিচার চাই।’
কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পদ্মা নদীর কোল থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহটি অনেকটা গলে যাওয়ায় আঘাতের কোনো চিহ্ন বোঝা যাচ্ছে না। মরদেহের কোমড়ে শিকল দিয়ে একটি ভারী বস্তা বাঁধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ডুবিয়ে দিতেই হত্যাকারীরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
প্রতিনিধি/একেবি