নিজের তৈরি বিমান আকাশে উড়ালেও জীবনে কখনো হেলিকপ্টার বা প্লেনে চড়েননি মানিকগঞ্জের জুলহাস মোল্লা। ছোট ভাই ও মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে আজ তার স্বপ্ন পূরণ হলো। একইসঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো যমুনার চরে উড়াল দিলেন তার তৈরি বিমান দিয়ে। এ সময় জুলহাসের বিমান উড়ানোর দৃশ্য দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে চরে।
রোববার (৯ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে জুলহাসের স্বপ্ন পূরণ করতে বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক একটি চার আসনের প্রাইভেট হেলিকপ্টার নিয়ে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার যমুনা নদীর চরে নামেন। সেখানে জুলহাস তার মা ও ভাইকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রায় ২০ মিনিট আকাশে উড়ে বেড়ান। এ সময় জুলহাসের বিমান উড়ানোর দৃশ্য দেখতে নদীর চরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে জুলহাস তার তৈরি বিমানটি আকাশে উড়িয়ে দেখান। উপস্থিত সবাই আনন্দিত হয়ে জুলহাসের প্রশংসা করতে থাকেন।
বিজ্ঞাপন
জুলহাস মোল্লা (২৮) মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ষাইটঘর গ্রামের জলিল মোল্লার ছেলে। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম।
জুলহাস মোল্লা বলেন, ‘আমি বিমান বা হেলিকপ্টারে কখনো চড়িনি। আজ মা ও ভাইকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে আকাশে ঘুরে বেড়ালাম। খুবই আনন্দিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘চার বছর আগে বিমানের প্রতি ইচ্ছা জন্ম নেয়। সেই থেকে গবেষণা শুরু করি। তিন বছর গবেষণার পর বিমান বানানোর চেষ্টা চালাই। এই বিমানটি তৈরি করতে আমার এক বছর সময় লেগেছে। আজ দ্বিতীয়বারের মতো বিমানটি আকাশে উড়িয়ে দেখালাম।’
ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক জুলহাসের স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলায় যদি ছোট ছোট এয়ারপোর্ট তৈরি করা হয়, আর এসব বিমান নিয়ে আরও গবেষণা করে অল্প খরচে ৪ থেকে ৫ সিটের বিমান তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে দেশ ও মানুষের অনেক উপকার হবে।’
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি