ইসলামের দৃষ্টিতে কেউ অসুস্থ হলে সেবা-শুশ্রূষা পাওয়া তার অধিকার। তাই অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা উচিত এবং চিকিৎসা করার মতো টাকা না থাকলে সাধ্যমতো তার চিকিৎসার খরচ বহনের চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য জাকাত দেওয়ার নিয়ম নেই। কেননা জাকাতের খাতগুলো নির্দিষ্ট। অর্থাৎ জাকাত দিতে হয় নির্ধারিত খাতে। অন্যথায় জাকাত আদায় হয় না, কবুলও হয় না। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত নির্ধারিত ৮টি খাত হলো- ১. ফকির ২. মিসকিন ৩. আমেল তথা জাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি ৪. (নওমুসলিমের) মন জয় করার জন্য ৫. দাসমুক্তি তথা দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ লোক। ৬. ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধে জাকাত দেওয়া যাবে ৭. ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে এবং ৮. মুসাফির। (সুরা তাওবা: ৬০)
বিজ্ঞাপন
অবশ্য রোগী যদি এতটা গরিব হয় যে, তিনি জাকাতের টাকা গ্রহণের উপযুক্ত তথা জাকাতের খাতভুক্ত, তাহলে তার সেবার জন্য বা চিকিৎসার প্রয়োজনে জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে। এক কথায়, অসুস্থ ব্যক্তির নিকট যদি প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তাহলে চিকিৎসার জন্য তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না। বরং সেক্ষেত্রে তাকে নফল দান-সদকা দ্বারা সহায়তা করা যাবে।
কাউকে চিকিৎসার জন্য জাকাতের টাকা দিতে হলে চিকিৎসার পূর্বেই তাকে জাকাতের এই পরিমাণ টাকা দেওয়া যাবে না, যাতে সে সুস্থ হওয়ার আগেই নেসাবের মালিক হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: যেসব সম্পদের জাকাত দেওয়া ফরজ
এক্ষেত্রে নিয়ম হলো- চিকিৎসা বা অপারেশনের পরেই তাকে জাকাতের টাকা প্রদান করা। যাতে সে ডাক্তারের ফি দিতে পারে বা হাসপাতালের যাবতীয় খরচাপাতি ওই টাকার মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৫৬-২৫৭; রদ্দুল মুহতার: ২/২৫৭; আলবাহরুর রায়েক: ২/২০১; ফাতহুল কাদির: ২/১৪৪)