বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

মালিবাগ-মৌচাকে মিশ্র চিত্র: কোথাও উপচেপড়া ভিড়, কোথাও ‘ক্রেতাশূন্য’

মোস্তাফিজুর রহমান
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

মালিবাগ-মৌচাকে মিশ্র চিত্র: কোথাও উপচেপড়া ভিড়, কোথাও ‘ক্রেতাশূন্য’
মালিবাগ-মৌচাকে মিশ্র চিত্র: কোথাও উপচেপড়া ভিড়, কোথাও ‘ক্রেতাশূন্য’
  • শিশুদের কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি
  • শাড়ি-থ্রি পিস ও পাঞ্জাবির দোকানেও বিক্রি ভালো
  • বেশি দামের অভিযোগ ক্রেতাদের 
  • বিক্রি কম থাকায় ‘কেনা দামে’ ছেড়ে দেওয়ার দাবি বিক্রেতাদের

ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ততই জমে উঠছে কেনাকাটা। এর বাইরে নেই মালিবাগ ও মৌচাক এলাকার মার্কেটগুলোও। দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর এসব মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে বেশি। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে বাচ্চাদের পোশাকের দোকানগুলোতে। পাশাপাশি শাড়ি, থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির দোকানেও বিক্রি ভালো। তবে টি-শার্টসহ কিছু দোকানে ভিড় অনেক কম। তবে ঈদ যত কাছাকাছি আসবে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাচ্চাদের জামা-কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের অনেক ভিড়। থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির দোকানগুলোতেও ভিড় আছে। এর বাইরে অন্যান্য দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি।

মার্কেট ঘুরে আরও দেখা যায়, ক্রেতাদের মধ্যে সুতি ও আরামদায়ক সিল্কের থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি। বিভিন্ন বাহারি ডিজাইনের থ্রি-পিসও বিক্রি হচ্ছে ভালো। প্রতি বছরের মতো এবারও ‘আভিজাত্যের প্রতীক’ হিসেবে শাড়ির বেচাকেনা ভালো। একইভাবে পাঞ্জাবির দোকানেও ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ অথবা ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন মানুষ। ফলে ঢাকার প্রায় সব মার্কেটেই এখন ঈদের আমেজ।

31


বিজ্ঞাপন


বাচ্চাদের পোশাকের দোকানে বেশি ভিড়

মৌচাক মোড়ে অবস্থিত ফরচুন শপিং মলের তৃতীয় তলার বাচ্চাদের পোশাকের দোকান ‘রংধনু’। মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট দোকানটিতে ক্রেতাদের অনেক ভিড়।

দোকানটির ম্যানেজার জুমা ইসলাম নূরজাহান বলেন, রমজানের শুরুতে ক্রেতাদের চাপ আরও বেশি ছিল। এত কাস্টমার আসত যে অনেকেই দোকানের ভেতরে ঢুকতে পারত না। এখন সেই তুলনায় চাপ কিছুটা কম। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, আবারও ক্রেতা বাড়বে বলে আশা করছি।

তবে একই ফ্লোরে ‘রাজীর ফাউজান’ নামের শাড়ি ও লেহেঙ্গার দোকানের বিক্রয়কর্মী মো. উজ্জলকে কিছুটা অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘সুতি, টাঙ্গাইলসহ সব ধরনের শাড়ি এবং দেশি-বিদেশি লেহেঙ্গা আছে তাদের দোকানে। কিন্তু কাস্টমার কম। যা বিক্রি হচ্ছে তার বেশিরভাগই শাড়ি।’

অন্যদিকে ‘সুমাইয়া কালেকশান’-এর কর্ণধার হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, তাদের দোকানে বেচাবিক্রি তুলনামূলক ভালো।

তার দোনাকটি সাজানো হয়েছে শুধুমাত্র থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা দিয়ে। ইব্রাহিম বলেন, ‘থ্রি-পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চাদের লেহেঙ্গাও চলছে। আলহামদুলিল্লাহ।’

ফরচুন শপিং মলের নিচতলায় ‘সি-স্কাই’ নামে একটি শোরুমে রেডিমেড স্যুট, কটি, পাঞ্জাবি, প্রিন্সকোট, শেরওয়ানি, হাফ কোর্ট, ড্রেস কোট, ফরমাল শর্ট ও ক্যাজুয়াল শার্টসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয়।

দোকানটির ম্যানেজার ওলিউর রহমান বলেন, ‘ক্রেতা তুলনামূলক কম। যারা আসছেন, তাদের বেশিরভাগই পাঞ্জাবি খুঁজছেন।’

32

বেশি দামের অভিযোগ ক্রেতার

৯ বছরের মেয়ে আসিয়া জাহানকে নিয়ে ফরচুন শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসেন হাসিবুল হাসান। মেয়ের জন্য একটি লেহেঙ্গা কেনেন তিনি।

হাসিবুল ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ও একটা লেহেঙ্গা পছন্দ করেছে। প্রায় এমনই একটা লেহেঙ্গা ছয় মাস আগে ওর খালার বিয়ের সময় কিনেছিলাম। তখন নিয়েছিল ২৩০০ টাকা টাকার মতো। কিন্তু এখন ৬ হাজার টাকার নিচে দিচ্ছেই না। শেষ পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা দিয়ে লেহেঙ্গাটা নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কেটের সব দোকানেই চড়া দাম। গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণের বেশি দাম চাচ্ছে, এর কমে দিচ্ছেও না। বিশেষ করে বাচ্চাদের কাপড়ে। এদের কাপড় কিনতে গেলেই দাম কমাচ্ছেন না দোকানদাররা। বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। কী আর করার।’

প্রায় একই রকম অভিব্যক্তি জানান হোসনা বেগম। দুই মেয়েকে নিয়ে শপিং করতে আসা হোসনা বেগম বলেন, ‘এক ঘণ্টা হয়ে গেল মার্কেটে এসেছি এখনও কিছুই কিনতে পারিনি। মনে হচ্ছে, দাম অনেক বেশি চাচ্ছে। এজন্য ঘুরে ঘুরে দেখছি।’

একই অভিযোগ করেন আরেক ক্রেতা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যে দাম চাচ্ছে কেনাকাটা করবো কিনা বুঝতেছি না। যা পছন্দ করি কিন্তু দামে গিয়ে বাজেট কুলাচ্ছে না।’

33

‘কেনা দামে’ বিক্রির দাবি বিক্রেতাদের

তবে দোকানিদের দাবি, তারা ‘কম দামেই’ পণ্য ছেড়ে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ‘কেনা দামে’ বিক্রি করে দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন কেউ কেউ।

মৌচাক মার্কেটের ‘মনে রেখো শাড়ীজ’ নামে দোকানের ম্যানেজার কাউছার বলেন, ‘কাস্টমার কম তাই অনেক ক্ষেত্রে কেনা দামে ছেড়ে দিচ্ছি।’

ফরচুনের ‘রাজীর ফাউজান’ দোকানের বিক্রয়কর্মী মো. উজ্জলও বলেন, ‘কাস্টমারের যে পরিস্থিতি, আমরা কেনা দামেই বিক্রি করে পুঁজি উঠাচ্ছি।’

মৌচাক মার্কেটের ‎কে.বি ফ্যাশনের কর্ণধার ‎নূর ইসলাম বলেন, ‘‎বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে। তাই কম দামেই কাপড় বিক্রি করতে হচ্ছে।’


একই মার্কেটের ‘‎মুশফিক বোকরা হাউজ’-এর বিক্রয়কর্মী ‎মহিন বলেন, তাদের দোকানেও ক্রেতা কম। তাই অনেকটা ‘লাভ ছাড়াই’ বোকরা বিক্রি করছেন।

জানতে চাইলে ‎রংধনু ফ্যাশনের কর্ণধার ‎মো. রিপন বলেন, ‘আমরা কম দাম বিক্রি করলেও ক্রেতাদের অভিযোগ থাকবেই। কম দামে যে দিচ্ছি সেটা তাদের বিশ্বাস করানোই মুশকিল।’

মালিবাগ এলাকার ‘‎এইচএস ওয়ার হাউজ’ নামে ‎শার্ট প্যান্ট ও টিশার্টের দোকানের পরিচালক আরমান বলেন, ‘ক্রেতা নেই বললেই চলে। যারা আসেন তাদের কম দামেই দিয়ে দিচ্ছি।’

এএম/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর