বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

জমজমাট নিউমার্কেট, ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি

সাখাওয়াত হোসাইন
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

শেয়ার করুন:

জমজমাট নিউমার্কেট, ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি
জমজমাট নিউমার্কেট, ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি
  • কাছাকাছি স্থানে মিলছে সবধরনের পণ্য
  • নিউমার্কেটের বিশেষ আকর্ষণ ফুটপাত
  • ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বাড়ছে ভিড়,
  • সাশ্রয়ী দামে মিলছে পছন্দের পোশাক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জমে উঠেছে রাজধানীর নিউমার্কেট। এই এলাকায় রয়েছে গাউছিয়া, চাঁদনী চক, হকার্স ও নূরজাহান মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট। সেইসঙ্গে এখানকার কেনাকাটায় আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে ফুটপাত। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ঢল থাকে নিউমার্কেটে। উপচেপড়া ভিড়ে হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে পথচারীদের। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নগরবাসী কেনাকাটা করতে ছুটে আসেন এই মার্কেটে। ফলে অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখানকার ভিড়টা একটু বেশি।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কেটের দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাবেচা। পোশাক, স্যান্ডেল, কসমেটিকস, গহনা, ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। আবার তুলনামূলক কম দামের কারণে অনেক ক্রেতাই ফুটপাতের দোকান থেকে কেনাকাটা করছেন। তরুণ-তরুণীরা বেশির ভাগ কিনছেন থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি এবং এই পোশাক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া বিশেষ করে জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের সামগ্রীর দোকানগুলোতে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এতে করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানের শুরুতে বেচাকেনা তুলনামূলক কম থাকলেও এখন প্রতিদিনই বিক্রি বাড়ছে। ঈদের সময় যত এগিয়ে আসছে ভিড়ও তত বাড়ছে। ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে বিক্রি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এতে হাসি ফুটেছে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মুখে।

দুই দশক ধরে নিউমার্কেট ব্যবসা করছেন হাসান মাহমুদ। কয়েকটি পোশাকের দোকান রয়েছে তার। জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর এই সময় এবারের তুলনায় কম বিক্রি হয়েছে। এবছর একেবারেই উল্টা চিত্র; পুরোদমে বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতারা তাদের চাহিদা নতুন পোশাক কিনতে পারছেন। ক্রেতারা দরদাম করে সীমিত পরিসরে লাভ হলেই আমি ছেড়ে দিই।’

4


বিজ্ঞাপন


হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ঈদের আগে শেষ কয়েক দিন সাধারণত সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। তখন অনেক সময় রাত গভীর পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়। এবারও আমরা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি, কারণ ক্রেতাদের চাপ দিন দিন বাড়ছে। আশা করছি, বিগত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হবে।’

আরেক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিউমার্কেটে বিভিন্ন দামের ও ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যায় বলে ক্রেতারা এখানেই বেশি আসেন। আমরা নতুন নতুন কালেকশন এনেছি। এবার থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের পোশাকের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা নতুন ডিজাইনের পোশাক খুঁজছেন।’

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘নিউমার্কেটে সব ধরনের ক্রেতা আসে। কারণ এখানে বিভিন্ন দামের পোশাক পাওয়া যায়। অনেকেই বড় বড় শপিংমলের তুলনায় এখানে এসে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দরদাম করে কেনার সুযোগ থাকাও এই মার্কেটের বড় একটি সুবিধা।’

এদিকে কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে চার হাজার টাকার মধ্যে। দেশীয় কটন ও লনের চাহিদা বেশি। জমকালো কাজের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। শাড়ি মিলছে এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কাপড় ও কাজের ধরনভেদে দাম বাড়ছে। তবে মাঝামাঝি দামের কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।

এছাড়া, পুরুষদের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের পোশাকের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বাচ্চাদের ফ্রক, পাঞ্জাবি-পায়জামা সেট ৮০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর লালবাগ থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী তাসফিয়া তামান্না। জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, নিজের ও ছেলে-মেয়েদের জন্য জামা আর জুতা কিনেছি। কেনার সময় দরদাম করে নিয়েছি। দাম হাতের নাগালেই ছিল এবং পোশাক সুন্দর মনে হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় একটু দাম বেশি মনে হয়েছে। এবছর আর ঈদের মার্কেট করতে হবে না।

5

ঈদের কেনাকাটা করতে যাত্রাবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে নিউমার্কেটে এসেছেন ব্যাংকার মোহাম্মদ রাশেদ। তিনি জানান, প্রতি বছরই ঈদের আগে তিনি নিউমার্কেটে এসে কেনাকাটা করেন। তার ভাষায়, ‘নিউমার্কেটে একই জায়গায় অনেক ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। পুরুষ, নারী ও শিশু—সব বয়সের মানুষের জন্য আলাদা আলাদা ডিজাইন ও দামের পোশাক রয়েছে। তাই পরিবারের সবার জন্য একসাথে কেনাকাটা করা সহজ হয়। এবার বিশেষ করে থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের পোশাকের নতুন অনেক ডিজাইন এসেছে, যেগুলো ক্রেতাদের বেশ আকর্ষণ করছে।’

রাশেদ বলেন, ‘বড় বড় শপিংমলে একই ধরনের পোশাকের দাম অনেক বেশি থাকে, কিন্তু নিউমার্কেটে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। তাই এখান থেকে ঈদের কেনাকাটা করি। এখানে দরদাম করার সুযোগও আছে, যা অনেক ক্রেতার জন্য সুবিধাজনক।’

মার্কেটের বাইরে ফুটপাতেও কেনাবেচার হিড়িক পড়েছে। মূলত কম দামে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যাওয়ায় ফুটপাতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এসব অস্থায়ী দোকানে জামা-কাপড়, জুতা, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন পণ্যের সমারোহ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।

মিরপুরের বাসিন্দা আসমা খাতুন বলেন, ‘আমি এসেছি অনেক আগেই। মার্কেটে ঘুরে ঘুরে কিছু কিনলাম। এখানেও দেখছি কিছু কেনা যায় কি না। তাদের কাছেও অনেক সময় কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায়। আর দোকানের যেহেতু একটা ভাড়া আছে সেটাও তো আমাদের কাপড়ের দামে যোগ হচ্ছে, তাদের তো সেটা নাই। তাই দেখা যায়, দোকান থেকে যেটা বেশি দামে কিনছি, সেটা এখানে পেয়ে যাচ্ছি কম দামে। সে জন্যই ঘুরে দেখা।’

এসএইচ/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর