- এলিটদের কাছে জনপ্রিয় ‘প্রিন্স ডিপার্টমেন্ট’
- এক স্যুটের দামই দেড় লাখ টাকা!
- বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সমাহার
- মন্ত্রী-এমপিরা প্রিন্সের ‘বাঁধা কাস্টমার’
কেনাকাটায় সাধারণত সুপরিচিত লাক্সারি ব্র্যান্ডের পণ্যেই বেশি আস্থা রাখেন এলিট শ্রেণির মানুষেরা। এক্ষেত্রে তারা প্রিমিয়াম কোয়ালিটি এবং আরামদায়ক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি স্টাইলিস্ট, আভিজাত্য ও ট্রেন্ডি ফ্যাশনের প্রতিও তাদের নজর থাকে বরাবরই।
বিজ্ঞাপন
তবে তারা কখনোই আপস করেন না মানের সঙ্গে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত পণ্য সংগ্রহে সুনিদির্ষ্ট বা সুপরিচিত কিছু স্টোরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কারণ সব জায়গার পণ্যে আস্থা রাখা যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলিট শ্রেণির মানুষদের পোশাক–আশাক কেনাকাটায় আস্থার অন্যতম নাম রাজধানীর মগবাজারস্থ বিশাল সেন্টার। তবে বিশাল সেন্টারের সব দোকান নয়, এলিটদের আস্থার জায়গা সেন্টারের ‘প্রিন্স ডিপার্টমেন্ট লিমিটেড’।
বিশাল সেন্টারের নিচতলায় এই প্রতিষ্ঠানের তিনটি শোরুম রয়েছে। তবে কোনো শোরুমই ভবনটির ফ্রন্ট অংশে নয়। এগুলো অনেকটাই আড়ালে। তবু কেনাকাটায় এখানেই দৃষ্টি রাখেন মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে এলিট শ্রেণির মানুষেরা। আবার তাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানটির ‘বাঁধা বা ধরা কাস্টমার (নিয়মিত বা বিশ্বস্ত গ্রাহক)’।
কী আছে দোকানটিতে?
সরেজমিনে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গিয়ে দেখা যায়, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিশাল সেন্টারের প্রিন্স ডিপার্টমেন্টে তিনটি শো-রুমেই নারী, পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের জামা-কাপড়ের পসরা সাজানো। পুরুষদের জন্য রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা, কুর্তা থেকে শুরু করে স্যুট, ব্লেজার, কটিসহ সবধরণের পোশাক-আশাকই।
পাশাপাশি রয়েছে নারীদের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস, কুর্তা, কাপ্তান, টপস, জিন্স, স্কার্ট, লেগিংস, গাউন, বিভিন্ন ওয়েস্টার্ন আউটফিটসহ নানা বৈচিত্রের পণ্য।
এছাড়া ছেলে শিশুদের শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, প্যান্ট, জিন্স, শর্টস এবং মেয়ে শিশুদের ফ্রক, গাউন, সালোয়ার-কামিজ, টপস, স্কার্টসহ সবধরণের জামা-কাপড়।
সুতি, সিল্ক, জর্জেট, লিনেনে তৈরি আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল পোশাকের বিশাল সমাহার শোরুমগুলো। এগুলোর সবই বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পণ্য।

জানতে চাইলে প্রিন্স ডিপার্টমেন্টের একটি শোরুমের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের এখানে নারী-পুরুষ ও বাচ্চাদের সবধরনের জামা-কাপড়ই আছে। সবই ব্র্যান্ডের পণ্য।’
দাম কেমন?
মগবাজার মোড় থেকে মালিবাগ রোডের হাতের বামপাশে বিশাল সেন্টার অবস্থিত। সেন্টারের নিচতলায় বাম পাশ দিয়ে ভেতরে ঢুকলেই উত্তরাংশে প্রিন্স ডিপার্টমেন্টের দুইটি শো-রুম। আর দক্ষিণ অংশের একটি শো-রুম।
উত্তরাংশের ডানপাশের শোরুমে ঢুকলে দূর থেকে দৃষ্টি কাড়ে কাস্টমারদের জন্য সাজিয়ে রাখা একটি নারীদের ‘কাপ্তান’।
জানতে চাইলে সেলসম্যান শোয়েব হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এটি অর্জিনাল দুবাইয়ের। দাম ৯ হাজার টাকা।’
পাশেই থরে থরে সাজানো নারীদের থ্রি-পিস। একটি জর্জেট থ্রি-পিসের দিকে ইঙ্গিত করলে সেটি হাতে দিয়ে শোয়েব বলেন, ‘এটি পাকিস্তানি। দাম ৩২ হাজার টাকা।’
জানতে চাইলে এই বিক্রয় কর্মী বলেন, ‘কাস্টমারদের জন্য ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন দেশের থ্রি-পিস তাদের সংগ্রহে রয়েছে।’
‘আমাদের ৩০/৩২ হাজার থেকে শুরু করে ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত থ্রি-পিস আছে’, যোগ করেন তিনি।
মান কেমন?
শোরুমটি ঘুরে দেখা যায়, পুরুষের জন্য ইংল্যান্ড-ইতালি-হাঙ্গেরিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের প্যান্ট ও শার্টের কালেকশান রয়েছে। রয়েছে ইন্ডিয়ান-থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য অনেক দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের প্যান্ট-শার্টও।
একটি শার্ট ধরিয়ে দিয়ে সেলসম্যান শোয়েব বলেন, ‘এটির দাম ৪২ হাজার ৭৫০ টাকা। শার্টভেদে একেকটার দাম একেক রকম। এগুলো সবই বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডের পণ্য।’
প্রিন্সে সারিবদ্ধভাবে স্যুট ও ব্লেজারও সাজানো রয়েছে। জানতে চাইলে এই সেলসম্যান বলেন, ‘দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত স্যুট আছে।’
দীর্ঘদিন ধরেই প্রিন্স ডিপার্টমেন্টে সেলসম্যান হিসেবে রয়েছেন শোয়েব হাসান। তিনি বলেন, ‘২২ বছর ধরে এখানে (কাজে) আছি। যতটুকু দেখে আসছে এখানে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় কোয়ালিটির বিষয়টি। কোয়ালিটিতে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হয় না। এরপর ডিজাইন বা কাস্টমারদের চাহিদার কথা চিন্তা করা হয়।’

‘মালিকের নিজস্ব শোরুম তো তাই পণ্যের মানের বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে মেন্টেন করতে পারছেন’, যোগ করেন তিনি।
এলিটদের কেন জনপ্রিয়?
ঈদের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। অথচ মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে প্রিন্স ডিপার্টমেন্টের ক্রেতাদের আনাগোনা তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। প্রিন্সের কর্মীরা অবশ্য এ নিয়ে গুরুত্ব নেই। কর্মীরা বলছেন, তাদের অনেক বাঁধা (নিয়মিত) কাস্টমার আছে। তবে নতুন কাস্টমার একটু কম।
মূলত সঠিক পণ্য ও গুণগত মান ‘শতভাগ’ সঠিক পাওয়ায় কাস্টমারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে প্রিন্স ডিপার্টমেন্ট। এ কারণেই উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যায় তাদের নিজস্ব কাস্টমার রয়েছে। এসব কাস্টমারের অনেকেই আবার আসেনও না, প্রতিনিধি দিয়ে পণ্য সংগ্রহ করেন।
আলোচনা আছে, সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপিরাও প্রিন্স ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত কাস্টমার। অনেক রাজনৈতিক নেতারাও এখান থেকে কেনাকাটা সারেন। চাহিদা ও মান অনুযায়ী পোশাক-আশাক থাকায় প্রিন্সই তাদের অন্যতম ভরসা।
তবে এলিট শ্রেণির কাস্টমারদের ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি ম্যানেজার মোহাম্মদ আলি। বলেন, ‘আমাদের কাস্টমার কারা, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। পণ্য সঠিক না হলে কাস্টমার দ্বিতীয়বার আসবে না। সেটি বিবেচনায় নিয়েই পণ্য সংগ্রহ করা হয়। তাই আমাদের অনেক পুরনো কাস্টমার আছে, তারা নিয়মিতই আসেন।’
এলিটদের যাতায়াতের বিষয়টি এড়িয়ে যান প্রিন্স ডিপার্টমেন্টের কর্ণধার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন মাইকেলও। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আসলে গুণগত মান ও কাস্টমারদের চাহিদার বিষয়টি চিন্তা করেই আমরা পণ্য সংগ্রহ করি। আমাদের পণ্য নিয়ে কোনো কাস্টমারই অভিযোগ করতে পারেন না। এ কারণে অনেক কাস্টমারই চোখ বুঝে পণ্য নিয়ে যান।’
‘কাস্টমার একবার এলে যেন দ্বিতীয়বার আসেন এবং বারবার আসেন সেভাবেই পণ্য সংগ্রহ করি। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মান দেখে পণ্য কালেশান করি। এজন্যই অনেকে নিয়মিত এখানে আসেন’, বলেন প্রিন্সের কর্ণধার।
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন মাইকেল আরও বলেন, ‘আগের তুলনায় এবারের ঈদে কাস্টমার কিছুটা বেড়েছে।’
এএম/জেবি














