দেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে দু’টিই বাগেরহাটে অবস্থিত। একটি খানজাহানের অমর সৃষ্টি ঐতিহাসিক ষাটগুম্বুজ মসজিদ অপরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন। যা দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে আর্কষণীয় স্থান রূপে বিবেচিত হয়েছে। এ দু’টি স্থানকে ঘিরে বাগেরহাটে আরও কয়েকটি পর্যটনস্পট গড়ে উঠেছে। এসব দর্শনীয় স্থানে সারা বছরই কমবেশি দর্শনার্থী আসে দেশ বিদেশ থেকে। তবে বিশেষ কিছু দিনকে কেন্দ্র করে এই দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায় অনেকগুণ।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে বাগেরহাটে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট সুন্দরবন ও ষাটগুম্বুজ মসজিদ। বাইরে থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ, জেলা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বাগেরহাট জোনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
বিজ্ঞাপন
এ সময়টায় এক শ্রেণির চোরা হরিন শিকারি নানা কৌশলে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকদের হরিনের মাংসের প্রতি আকৃষ্ট করে। আর বেপরোয়া হয়ে ওঠে শিকারীরা। তাই হরিন শিকারীদের দমন ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঈদের ছুটি বতিল করা হয়েছে সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের।
ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার, সদর উপজেলার হাকিমপুরে অবস্থিত ভারতের তাজমহলের আদলে করা ‘চন্দ্রমহল’ ইকো পার্ক, বারাকপুরে অবস্থিত সুন্দরবন রির্সোট সেন্টার, শহরের দশানী পার্কসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের কছে আকর্ষণীয় করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
বিজ্ঞাপন
বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদের কাস্টডিয়ান মো. জায়েদ জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। জেলার বাইরে থেকে চোখে পড়ার মতো দর্শনাথীরা এখানে ঘুরতে আসে। এ বছর লম্বা সরকারি ছুটির কারণে পর্যটক আরও বেশি আসতে পারে। পর্যাটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
হাকিমপুরের চন্দ্রমহলের ব্যবস্থাপক কাবুল আহম্মেদ বলেন, এ বছর ঈদে লম্বা একটা ছুটি পাওয়া গেছে। বছরের টানা এ ছুটিতে অনেক বেশি দর্শনার্থী আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য পর্যটক বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করেছি।
পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, রমজান শেষে গরমের তীব্রতা কম থাকার কারণে এ বছর পর্যটক আসার সম্ভাবনা খুবই বেশি। প্রতি বছরই ঈদুল ফিতর উপলক্ষে করমজলে দেশি-বিদেশি পর্যাটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। ঈদের দিন মূলত স্থানীয় লোকজন এখানে ঘুরতে আসেন। ঈদের পরদিন থেকে দর্শনার্থী বা পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এবারও ঈদ উপলক্ষে করমজলকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিস জানান, ঈদে সুন্দরবনের করমজল, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট ও দুবলারচরসহ পর্যটন স্পটগুলোতে আগমন ঘটে প্রচুর পর্যটকদের। ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল, শরণখোলা রেঞ্জসহ সন্নিহিত বন লোকালয়ে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে আগত দেশি-বিদেশি ইকোট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা ও বন্যপ্রাণীসহ বনজ সম্পদ রক্ষার জন্য পূর্ব-সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারির ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বাগেরহাট জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। ঈদের ছুটিতে বাগেরহাটের পর্যটন স্পটগুলোতে প্রচুর পর্যটকদের আগমন ঘটে। তাই এসময়ে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করি। এ বছরও পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস