ঠাকুরগাঁওয়ে অপহৃত মিলন হত্যাকাণ্ডে প্রথমে দুজন, পরে একজন ও তারপর আরও একজকে গ্রেফতার করা হয়। এ পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর মিলন হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত আড়াইটায় বিষয়টি ঢাকা মেইলকে নিশ্চিত করেন ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন - সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর গ্রামের মো. মতিয়ার রহমানের ছেলে সেজান আলী (২৮), তার মা শিউলি বেগম, সেজান আলী ভাগ্নি মোছা. রত্না আক্তার ইভা (১৯)। রত্না আক্তার ইভা সালন্দর শাহীনগর (তেলীপাড়া) গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে এবং আরাজি পাইকপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মুরাদ(২৫)।
বিজ্ঞাপন
ওসি মামুনুর রশিদ ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রথমে গ্রেফতার হওয়া সেজান, মুরাদ ও রত্না আক্তার ইভাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও আমলী আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মিলন হোসেন নামের এক যুবককে অপহরণ করেছিল একটি চক্র। তবে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা দিয়েও কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে জীবিত পায়নি পরিবার। ২৫ দিন পর বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সেজান আলী বাড়ির পরিত্যক্ত একটি টয়লেটের নিচ থেকে মিলনের লাশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
মিলন হোসেন (২৩) দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও চাপাপাড়া এলাকার পানজাব আলীর ছেলে।
মিলনের লাশ উদ্ধার পরে সেজান ও মুরাদের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এছাড়াও মিলন হত্যার কাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাওসহ ঠাকুরগাঁও শহরের চৌরাস্তায় প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় ও মিলনের স্বজনরা।
প্রতিনিধি/এসএস