সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

সুপ্রিম কোর্ট বারের ভোট

নির্বাচন কমিশনের কাজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

নির্বাচন কমিশনের কাজ গভীরভাবে অবজারভেশন করছি: কাজল

আগামী ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বারের ভোট। ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। বিগত দুই-বারের নির্বাচন নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ, হামলা মামলা। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থার প্রস্তাব। এবারের নির্বাচন এই কমিশনের অধীনে কেমন হবে সেটি নিয়েও রয়েছে সংশয়।

এদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে ঘোষণা করেছেন তাদের হেভিওয়েট প্রার্থীদের নাম। আপাতদৃষ্টিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার পরিবেশ লক্ষ্য করা গেলেও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের। শেষ পর্যন্ত ভোটে যাবেন কী, যাবেন না সেটি নিয়েও রয়েছে তার গভীর অবজারভেশন। ঢাকা মেইলকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন কথা বলেছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


ঢাকা মেইল: নির্বাচনী পরিবেশ কেমন দেখছেন?

রুহুল কুদ্দুস কাজল: আপনারা জানেন ২০২৩ সালে আমি সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরেও আমি পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। এ কারণে সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ৪২ দিন পর সম্পাদক পদটি জবর-দখল করা হয়। পরবর্তীতে আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সুতরাং আমি তিন বছরের জন্যই আইনজীবীদের ভোটে নির্বাচিত হলেও দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এক বছর করতে পারিনি। পরের বছর নির্বাচনে অংশ নিয়েছি কিন্তু নির্বাচনের দিন পুলিশ ও বহিরাগতদের দিয়ে আমি এবং আমার সকল প্রার্থী-আইনজীবী, সাংবাদিক ভাইদের মেরে বের করে দিয়েছে।

ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে তারা একতরফা তথাকথিত নির্বাচনের আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি জবর দখল করে নিয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং যে কমিশন গঠন করা হয়েছে সেই কমিশনের দুইজন সদস্য যারা গত দুই বছর সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনের জবর দখলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা মনে করি এ ধরনের অন্তর্ভুক্তি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক ধরনের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তবুও আমরা প্রত্যাশা করব যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা গত দুই বছরের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছে তা কলঙ্কজনক।

এই নির্বাচন মানুষের কাছে যে হেট হয়েছে, সেটি থেকে বের হয়ে আসার জন্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক ধরনের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাজ গভীরভাবে অবজারভেশন করছি। তবুও আমরা প্রত্যাশা করছি যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গত দুই বছরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে নজিরবিহীন ঘটনা কলঙ্কের অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের কাছে আইনজীবীদের মাথা যে হেঁট হয়েছে সেটি থকে বেরিয়ে আসার জন্য অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাজ অবজারভেশন করছি, এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তারা নির্বাচনটা স্বচ্ছ করবেন কি না। তবে আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। আমরা বিজ্ঞ আইনজীবীদের আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা ভোট দিন, আপনারা নেতা নির্বাচিত করুন। সুপ্রিম কোর্ট বারে দীর্ঘদিনের অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতন্ত্রের চর্চা আছে সেটি যেন অব্যাহত থাকে।
 
ঢাকা মেইল: বিগত ও সামনের দিনের ভোটের প্রেক্ষাপট জানতে চাই


বিজ্ঞাপন


রুহুল কুদ্দুস কাজল: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবীদের ভোট ও দোয়া কামনা করছি। ২০২০-২১ ও ২০২২ সালে আপনারা আমাকে সম্পাদক পদে নির্বাচিত করেছিলেন। আইনজীবীরা আমাকে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাধারণ আসনে সদস্য নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের সুখে-দুঃখে সবসময় ছিলাম। প্রতিদান হিসেবে বিজ্ঞ আইনজীবীরা আমাকে বার বার নির্বাচিত করেছেন। আমি বিশ্বাস করি আইনজীবীরা আগামী দিনেও আমাকে ভোট দেবেন। তাদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, সংমিশ্রণ বন্ধুত্ব এগুলোকে মূল্যায়ন করে তারা আমাকে সুপ্রিম কোর্টে সম্পাদক পদে তাদের মূল্যবান ভোট দেবেন। এদেশের মানুষের ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সুপ্রিম কোর্ট বার অতীতের মতো ভূমিকা রাখুক সেটি আমি প্রত্যাশা করি।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক হিসেবে সাধারণ আইনজীবী বন্ধুদের সঙ্গ আমার আন্তরিকতা ছিল, এখনো আছে। তাদেরকে নিয়ে আমি কাজ করেছি। আজকে সুপ্রিম কোর্ট বারের যে সাজসজ্জা অবয়ব সবগুলো আমার হাত দিয়ে হয়েছে। আইনজীবীরা সবসময় ফিল করত যে আমাদের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন, যিনি আমাদের কল্যাণে কাজ করেছেন। আমি বিশ্বাস করি আমার পুরোনো কাজের মূল্যায়ন আইনজীবীদের প্রতি আমার ভালোবাসা, তাদের প্রতি আমার সম্পৃক্ততা সেগুলো তারা মূল্যায়ন করে পুনরায় আমাকে সম্পাদক পদে নির্বাচিত করবেন।

ঢাকা মেইল: পেশাগত দিক থেকে আইনজীবীরা বর্তমানে কোন সমস্যাটি বেশি ফিল করছেন?

রুহুল কুদ্দুস কাজল: বর্তমান আইনজীবীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা, পেশার সমস্যা। ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনজীবীরা ভূমিকা পালন করেন। আাদালতে প্রকৃতপক্ষে সেই বেঞ্চ গঠন না করার কারণে ন্যায়বিচার অনেকাংশেই লঙ্ঘিত হচ্ছে। এছাড়া হাইকোর্টের যেকোনো আদেশের বিরুদ্ধে যখন তখন আপিল বিভাগে স্টে করার কারণে দীর্ঘদিন সেসব মামলার শুনানি হচ্ছে না। এ সমস্ত বিষয় সর্বাগ্রে সমাধান করা দরকার। এটা শুধুমাত্র আমাদের পেশার জন্য নয়, দেশের মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ও দ্রুত বিচার পাওয়া যে অধিকার সেটি সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্যই আমাদের এই ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আমি মনে করি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একটা বার্গেনিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করব। আইনজীবী ও দেশবাসীকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমি সক্ষম হবো।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২০২৫ সেশনের কার্যকরী কমিটির নির্বাচন আগামী ৬ ও ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়।

এআইএম/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর