সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫৫টি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৭৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা। এর আগে ২০১৮-১৯ সেশনের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় ২০তম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। প্রায় ছয় হাজার মেডিকেল শিক্ষার্থীর মধ্যে এ ফলাফল করে নামের সামনে ডাক্তার লেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন ডা. ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা।
বুধবার (১৯ মার্চ) ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা হয় উত্তরবঙ্গের এই কৃতি সন্তানের। আলাপচারিতায় উঠে আসে তার সাফল্যের নানা গল্প।
বিজ্ঞাপন
অনুভূতি
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: এমবিবিএস শেষ করে এখন ইন্টার্নশিপ করছি, তাই আনন্দের পাশাপাশি দায়িত্ববোধও বেড়ে গেছে। একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, যা আমার জন্য অনেক সম্মানের বিষয়। তবে সামনে আরও অনেক পথ বাকি, তাই নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি।
অনুপ্রেরণা
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: শৈশব থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল। পরিবার, বিশেষ করে বাবা-মায়ের উৎসাহ এবং মানুষের সেবা করার ইচ্ছাই আমাকে এই পথে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। চিকিৎসা একটি মহান পেশা, যেখানে মানুষকে সরাসরি সাহায্য করার সুযোগ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
পড়াশোনার কৌশল
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: আমি বুঝে পড়ার চেষ্টা করতাম। ক্লাসের লেকচার ফলো করা, কিছু না বুঝলে সেই টপিকের ভিডিও দেখা বা শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করা। ওয়ার্ডে পেশেন্ট দেখা এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করতাম।
এমবিবিএস’র পথ-পরিক্রমা
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: এই পাঁচ বছর দারুণ অভিজ্ঞতাময় ছিল। অনেক আনন্দের দিনও পার করেছি বন্ধুদের সাথে যা সারাজীবন সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে। প্রথম বছর বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, কারণ নতুন বিষয়গুলো বুঝতে সময় লেগেছিল। ফাইনাল ইয়ার ছিল সবচেয়ে ব্যস্ত সময়, তবে এই সময়ই চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার মূল ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চান
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: এখনও ঠিক করিনি। ইন্টার্নশিপের সময় যেটা ভালো লাগবে ওইদিকেই যাওয়ার ইচ্ছা আছে, ইনশাল্লাহ্।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: আমি পোস্ট-গ্রাজুয়েশন করতে চাই এবং নিজেকে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ভবিষ্যতে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে চাই, যেখানে রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারব এবং চিকিৎসা শিক্ষায়ও অবদান রাখতে পারব ইনশাল্লাহ্।
জুনিয়রদের জন্য পরামর্শ
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: শিক্ষকরা ক্লাসে যা বলেন ফলো করা, ওয়ার্ডে পেশেন্ট দেখা এবং মেডিকেলের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; তাই শেষ মুহূর্তে পড়ার চেয়ে প্রতিদিন একটু একটু করে পড়াই ভালো। আমার শিক্ষকরা সবসময় বলতেন, মেডিকেল লাইফ কোনো ১০০ মিটার স্প্রিন্ট না বরং ম্যারাথন; তাই কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না।
মেডিকেল ও পরিবারের সহযোগিতা
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: পরিবারের সমর্থন সবসময় ছিল, যা আমার জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। মেডিকেলে এমন কিছু সিনিয়র পেয়েছি যারা অসাধারণ দিকনির্দেশনা দিতেন। শিক্ষকরা সবসময় সহায়তা করেছেন, তাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। বন্ধুরাও অনেক সহযোগিতা করেছে।
চ্যালেঞ্জ ও কাটিয়ে ওঠা যেভাবে
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: মেডিকেলের নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো, পরীক্ষার চাপ ইত্যাদি। আল্লাহ্ তাআলার রহমত এবং সবার সহযোগিতা ছিল বলেই মোকাবিলা করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ্। সবার কাছে আমার জন্য দোয়ার দরখাস্ত রইলো।
এমবিবিএসে বিগত সাফল্য
এমবিবিএস থার্ড প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে মেডিকেলের সর্বোচ্চ নাম্বার অনার্স পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ঢাকা মেডিকেলের তিন শিক্ষার্থী, এরমধ্যে ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা একজন। এর আগে ফার্স্ট প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি দুইটাতেই অনার্স মার্ক পেয়েছেন তিনি।
বেড়ে উঠা
ফাবিহার গ্রামের বাড়ি উত্তরবঙ্গের রংপুর জেলায়। তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন। দুইবোনের মধ্যে বড় তিনি। রংপুরের দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ফাবিহা। তার বাবা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. ফেরদৌসুর রহমান একজন শিশু বিশেষজ্ঞ এবং শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। ফাবিহার মাতা নুরা নাহিদ জান্নাতুল ফেরদৌস রংপুর ক্যান্টপাবলিক কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
এসএইচ/এফএ