রিকশা চালক মো. সাদেকের বয়স প্রায় ৭০ বছর। জীবন-জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে উত্তরের জেলা গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান। পারিবারিক অসচ্ছলতা, অভাব-অনটনের সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে এ বয়সেও তাকে রিক্সার প্যাডেলে পা চালাতে হয়। শারীরিক অসুস্থতা এবং অনেক কষ্ট হলেও আপনজনদের মুখে হাসি ফোটাতে এ কাজটি তিনি নিয়মিত করে যাচ্ছেন।
রাজধানী ঢাকা থেকে বেশিরভাগ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে গেলেও যাননি বৃদ্ধ সাদেক। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, এ সময় একটু বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। অনেকেই আবার কিছু ঈদ বকশিশও দেয়। দুই পয়সা বেশি আয় করতে পারলে পরিবারকে একটু ভালো রাখতে পারবেন, এ আশায় ঢাকায় আছেন তিনি। এখন খারাপ লাগলেও স্বজনদের ভালোর কথা চিন্তা করে তিনি এ ইট-পাথরের শহরে রয়ে গেছেন।
বিজ্ঞাপন
এবারের ঈদেও কোনো কিছু কেনা হয়নি তার। যে কয়টা টাকা আয় করেছেন, তা বিকাশে নিজের পরিবারের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন। এভাবে কষ্টের কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে বৃদ্ধ মানুষটি কেঁদেই ফেললেন। চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আল্লাহ যেন আমার পরিবারের প্রতি সহায় হন এবং আমার মৃত মা-বাবাকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করেন।
মো. সাদেকের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর থানার ধাপেরহাট হাসানপাড়া গ্রামে। এক ছেলে এবং এক মেয়ের জনক তিনি। বর্তমানে ঢাকার রামপুরা ওয়াপদা রোড পাওয়ার হাউজের পাশে গ্যারেজপট্টিতে থাকেন।
প্রতিনিধি/ এমইউ