ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ১৬ জনের স্থানে অবৈধভাবে ২০ জনকে নিয়োগ ও ডাটা শিটে আবেদনকারীর নাম না থাকার পরও বর্তমান সেকশন অফিসার শারমিন চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়ার অপরাধে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন, রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোশারফ আলী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান এবং বর্তমান সেকশন অফিসার শারমিন চৌধুরীর নামে গোপালগঞ্জ দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
রোববার (২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় গোপালগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জের স্মারক নং ৭৬৩, তারিখ: ২০-০৯-২০১৮ খ্রি. প্রশাসনিক কর্মকর্তার ১৬টি পদসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ১৬টি শূন্য পদের স্থলে আসামি শারমিন চৌধুরীসহ ২০ জনকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। উক্ত পদে ৮৭০ জন আবেদনকারীর ডাটা শিট যাতে তৎকালীন ভিসি ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে। জব্দপূর্বক পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, উক্ত তালিকায় আসামি শারমিন চৌধুরীর নাম নেই। তাছাড়া নিয়োগ কমিটির সুপারিশে তালিকার ৮৭৩ নম্বর ক্রমিকের শারমিন চৌধুরীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও বাস্তবে ৮৭৩ নম্বর ক্রমিক ডাটা শিটে নাই। অর্থাৎ আবেদন তথা তালিকায় না থাকার পরও জাল-জালিয়াতিপূর্ণভাবে তাকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ছিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে প্রার্থীর বয়স ৩২ বছর হওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে আসামি শারমিন চৌধুরী বয়স ৩২ বছরের বেশি ছিল। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় ২০-০৯-২০১৮ তারিখে। শারমিন চৌধুরর জন্ম তারিখ ২০-০৬-১৯৮৫ । অর্থাৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে তার বয়স ৩৩ বছর ৩ মাস ছিল। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আসামি শারমিন চৌধুরী বয়স ৩২ বছরের স্থলে ৩৩ বছর ৩ মাস থাকার পরও বেআইনিভাবে নিয়োগ, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ১৬টি শূন্য পদের স্থলে ২০ জনকে নিয়োগ ও ডাটা শিটে নাম না থাকার পরও নিয়োগ দিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন, রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোশারফ আলী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান এবং বর্তমান সেকশন অফিসার শারমিন চৌধুরী অসৎ উদ্দেশে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করত। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের চেয়ে বয়স বেশি, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ১৬টি শূন্য পদের স্থলে ২০ জনকে নিয়োগ ও ডাটা শিটে তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন, বিধায় তাদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এছাড়া মামলা তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে অন্যান্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে বা তাদেরকে আইনামলে আনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিষয়ে জানার জন্য গোপালগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায় বলেন, এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেই জানিয়েছি। যেহেতু এটা তদন্তাধীন আছে তাই এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতঃপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে দুদকের অভিযানের সময় পাওয়া দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে একাধিক বিষয়ে কাজ করছি। সময় হলে আপনারা সব জানতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান চালান দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। অভিযানে তারা বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পায় বলে সে সময়ে উল্লেখ করেন তারা।
প্রতিনিধি/এসএস