সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ঢাকা

উড়োজাহাজ নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪৭ এএম

শেয়ার করুন:

উড়োজাহাজ নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য জানুন

উড়োজাহাজ বিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। অনেকে ‍উড়োহাজাকে বিমান নামেও চেনেন। উড়োজাহাজ বা বিমান-এই আকাশযানটি যে নামেই পরিচিত হোক না কেন, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন এনেছে। যদিও উড়োজাহাজ একদিনেই এতটা উন্নতি করেনি। দিনের পর দিন গবেষণার ফলে উড়োজাহাজ আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। 
 
উড়োজাহাজ উদ্ভাবনের শুরুর দিকে এর যে মডেল ছিল তা এখন অনেকটাই বদলেছে। এ যুগের উড়োজাহাজ এমন সব কাজ করতে পারে যা আগে মানুষের কল্পনাতেও ছিল না। তো চলুন জেনে নিই উড়োজাহাজ নিয়ে কয়েকটি চমকপ্রদ তথ্য।
 
planeউড়োজাহাজ বজ্রপাত থেকে নিরাপদ
 
আকাশে উড়ন্ত বিমান মেঘের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে। অনেকের মনেই হয়তো প্রশ্ন জাগে বজ্রাঘাত থেকে কতটা নিরাপদ বিমান? কিংবা বিমানের ওপর বজ্রপাত হলে কী হবে? এ প্রশ্নের উত্তর জানার আগে একটি পরিসংখ্যান জানুন। পরিসংখ্যান বলছে , প্রতিটি প্লেন বছরে অন্তত একবার অথবা প্রতি ১০০০ ঘণ্টা উড্ডয়নের মধ্যে একবার বজ্রঘাতেরর শিকার হয়। কিন্তু তার পরও  বিমানের কোন ক্ষতি হয় না। কেননা, বিমান বজ্রপাতরোধী হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।
 
planeবিমানের টয়লেটের বর্জ্য কোথায় যায়?
 
বিমানের টয়লেট নিয়ে সাধারণের আগ্রহের কমতি নেই। কেননা, সাধারণ মানুষ ট্রেনে, লঞ্চে টয়লেট ব্যবহার করে অভ্যস্ত। কিন্তু বাসে টয়লেট খুব একটা দেখেননি। যারা কখনো বিমান ভ্রমণ করেনি, তারা ভাবতেই পারেন না উড়ানের টয়লেট সম্পর্কে। 
 
বিমান ভ্রমণ লম্বা দূরত্বের হয়। তাই খাওয়া-দাওয়া, প্রাকৃতিক কাজ ওখানেই সারা হয়। এজন্যই বিমানে টয়লেট থাকে।  অনেকের মনেই প্রশ্ন উড়ানের যাত্রীদের দেহের যাবতীয় বর্জ্য বিমানের টয়লেট থেকে কোথায় যায়?
 
বিমানের টয়লেট ট্রেনের থেকে আলাদা হয়। বিমানে থাকে ভ্যাকুয়াম টয়লেট। এ টয়লেট সিট অনেকটা নন স্টিক ফ্রায়িং প্যানের মতো হয়। ফ্লাশ করা মাত্রই মুহূর্তে সব গায়েব হয়ে সিট শুকনা হয়ে যায়। কিন্তু যায় কোথায়?
 
ফ্লাশ বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যায় টয়লেটের সঙ্গে যুক্ত ভ্যাকুয়ম পাইপের মুখ। সেকেণ্ডের মধ্যে সেই পাইপ দিয়ে বর্জ্য গিয়ে জমা হয় বিমানের লেজে। বিমান গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর পর সেখানে বিমানের পেট খালি করা হয়। দুর্গন্ধ যুক্ত সব বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার জন্য আসে হানি ট্রাক।
 
বিমানের সঙ্গে একটি ভ্যাকুয়াম পাইপ লাগিয়ে সব বর্জ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় হানি ট্রাকের বিশাল ট্যাঙ্কে। পরে বর্জ্যগুলো রিসাইকেল করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
 
plane
বিমানের ইঞ্জিনে কেন মুরগি ছুড়ে মারা হয়
 
বিমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর ইঞ্জিন। এর সামান্য ত্রুটির কারণেও ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এমনকি বিমান বিধ্বস্তও হতে পারে। তাই, ইঞ্জিন তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বেশ কিছু ধাপে পরীক্ষা করা হয় এর কার্যক্ষমতা। এগুলোতে টিকলে তবেই ইঞ্জিনই বিমানে ব্যবহৃত হয়। নয়তো সেটি বাদ দেওয়া হয়। 
 
বিমানের কার্যদক্ষতা ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য যে পরীক্ষাগুলো করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো, চলন্ত ইঞ্জিনে মুরগি ছুড়ে মারা। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যিই এই কাজটি করা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমন কাজ করা হয়? 
 
এই পরীক্ষাটির জন্য একটি চিকন ক্যাননের মাধ্যমে কয়েকটি মৃত মুরগি ইঞ্জিনে ছুড়ে মারা হয়। এই কামানটি চিকেন গান নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট মাপের মৃত মুরগি ব্যবহার করা হয়। ১৯৫০ সালে প্রথম এই পরীক্ষা করা হয়। 
planeযে কারণে মুরগি ছুড়ে মারা হয়
 
মধ্য আকাশে বিমান যখন উড়ে বেড়ায় তখন হঠাৎ পাখির ঝাঁক এসে বিমানটিকে ধাক্কা দিতে পারে। পাখি গিয়ে পড়তে পারে ইঞ্জিনে। যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। 
 
এদিকে, বেশিরভাগ পাখির সঙ্গেই মুরগির সামঞ্জস্যতা রয়েছে। আকারে, আকৃতিতে অন্যান্য পাখির সঙ্গে মুরগির মিল অনেক। এটি সহজলভ্য ও সস্তাও। তাই, ইঞ্জিনের কার্যদক্ষতা পরীক্ষা করে দেখার জন্য মুরগি ছুড়ে মারা হয়। ইঞ্জিন যদি এই পরিস্থিতি সামলে সচল থাকতে পারে তাহলে তার কার্যদক্ষতা ঠিক আছে। নাহয়, সেটি বাতিল করা হয়। 
 
একইভাবে বিমানের উইন্ডশিল্ড বা সামনের কাঁচের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করতে চিকেন গানের মাধ্যমে মুরগি ছোড়া হয়। কারণ, পাখির ঝাঁক বিমানের সামনের কাঁচেও ধাক্কা মারার আশংঙ্কা থাকে। 
 
যদিও আধুনিক বিমানের ইঞ্জিনে পাখির আক্রমণ খুব একটা হয় না। কেননা, ইঞ্জিনের কেন্দ্রে ঘূর্ণায়মান বিশেষ নকশা আঁকা থাকে। যা দেখে পাখিরা আগাম সতর্ক হয়ে যায়। পুরোনো মডেলের ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে।
plane
 
বিমানের ইঞ্জিন কেন ডানায় থাকে?
 
অন্যান্য যানবাহনের মতো বিমানেও ইঞ্জিন থাকে। বিমান ওড়ে ইঞ্জিনের শক্তিতে। সাধারণত একটি বিমানে এক বা একাধিক ইঞ্জিন থাকে। তবে একটি ইঞ্জিন দিয়েও বিমান উড়তে পারে। দুই ইঞ্জিনে বিমানে একটি ইঞ্জিন বিকল হলে অন্য ইঞ্জিন দিয়েও গন্তব্যে পৌঁছান সম্ভব। 
 
অনেকের মনেই প্রশ্ন বিমানের ইঞ্জিন কেন ডানায় থাকে? চলুন এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক।
 
বিমানের উইং বা ডানায় জেট ইঞ্জিনচালিত কম্প্রেসর ঘুরলে বাইরের বায়ু প্রচুর পরিমাণে ইঞ্জিনের ভিতরে প্রবেশ করে। ইঞ্জিনে দুইটি চেম্বার থাকে। একটি কম্বাশসন চেম্বার, অন্যটি এয়ার চেম্বার।
 
এই দুই চেম্বার থেকে প্রচন্ড বেগে বের হওয়া এক্সহস্ট গ্যাস পেছনের বায়ুতে আঘাত করে, ফলে নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুসারে পিছনের বায়ু থার্স্ট প্রয়োগ করে বিমান কে সামনের দিকে চলতে সাহায্য করে।
plane
কোন জ্বালানিতে বিমান চলে
 
যান চলাচলের জন্য প্রয়োজন হয় জ্বালানির। বিমানের ক্ষেত্রেও তাই। কিছু বিশেষ জ্বালানির মাধ্যমে আকাশযান উড়ে থাকে। 
 
একটি বিশেষ ধরনের পেট্রোলিয়াম ভিত্তিক জ্বালানী এভিয়েশন ফুয়েল। এটি পাওয়ার এয়ারক্রাফটে ব্যবহৃত হয়। হিটিং বা রোড ট্রান্সপোর্টের মতো কম তাৎপর্যপূর্ণ ব্যবহৃত জ্বালানির তুলনায় এটি উচ্চ মানের হয়ে থাকে। এতে কিছু বিশেষ মিশ্রণ থাকে যার কারণে উচ্চ তাপমাত্রায় আইসিং বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি কমায় এটি। 
 
জেট জ্বালানি বা কেরোসিন 
 
বর্তমানে বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা এবং সামরিক বিমানগুলো সর্বাধিক জ্বালানি দক্ষতা এবং সর্বনিম্ন ব্যায়ের জন্য জেট জ্বালানি ব্যবহার করে। জানলে অবাক হবেন যে এক্ষেত্রে সুপরিচিত কেরোসিন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। জেট ফুয়েল বলতে পরিশোধিত কেরোসিন ভিত্তিক জ্বালানিকে বোঝায় যা টারবাইন ইঞ্জিন, টার্বোপ্রপস এবং জেট ইঞ্জিনসহ বিমানে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। 
 
দুই ধরনের জেট ফুয়েল রয়েছে। এগুলো হলো জেট এ এবং জেট এ১। এই দুই ধরনের জ্বালানির মধ্যে উৎপাদনগত মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জেট এ১ এর ফ্রিজিং পয়েন্ট -৪৭ ডিগ্রি। অর্থাৎ এই তাপমাত্রায় এই জ্বালানি হিমায়িত হয়। অন্যদিকে, জেটএ এর ফ্রিজিং পয়েন্ট -৪০ ডিগ্রি। নিম্ন হিমাঙ্ক হওয়ায় দীর্ঘ আন্তর্জাতিক উড়ানে জেট এ১ ব্যবহৃত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জেট এ জ্বালানি বেশি প্রচলিত। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে জেট এ১ বেশি ব্যবহৃত হয়। 
plane
বিমানের জানালা খোলা যায় না কেন
 
অন্যান্য যানবাহনের মতো বিমানেও জানালা থাকে। কিন্তু সেই জানালা খোলা যায় না। বাসে যেমন জানালা খুলে মাথা গলিয়ে দেওয়া যায়। বিমানে সেই সুযোগ নেই। কিন্তু কারণ কী?
  
এর পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে। মহাকর্ষের কারণে, বায়ুর অণুগুলো ভূমির কাছাকাছি ঘনীভূত থাকে। আপনি যত উপরে উঠবেন, বাতাস পাতলা হয়ে যাবে। তাই উড্ডয়নের পূর্বে বিমানের কেবিনকে চাপ দিতে হয় যাতে আমাদের অক্সিজেনের অভাব না হয়।
black box
ব্ল্যাক বক্স কিন্তু কমলা রঙের
 
প্রতিটি বিমানেই একটি ব্ল্যাক বক্স থাকে। সাধারণত বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে ফ্লাইট বক্স সবার আগে খোঁজা হয়। এটা মূলত ফ্লাইট রেকর্ডার। ইলেকট্রনিক রেকর্ডিং ডিভাইস। যার মধ্যে বিমানের সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে ব্ল্যাক বক্স ব্যবহৃত হয়। এভিয়েশন বা বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এটিকে ব্ল্যাক বক্স না বলে ফ্লাইট রেকর্ডার নামে চেনেন।
 
নামে ব্ল্যাকবক্স হলেও এটি কিন্তু কমলা রঙের। 
feul tank
বিমানের ফুয়েল ট্যাংক কোথায় থাকে?
 
যেহেতু বিমানের ইঞ্জিন থাকে এর ডানায়, তাই এ ফুয়েল ট্যাংকও থাকে ডানায়। 
 
বিমানের যে দুইটি বিশাল পাখা থাকে সেখানেই তেল নেওয়ার জন্য ট্যাংক থাকে । পাখার দুই পাশেই ট্যাংক স্থাপন করা থাকে। এই ফুয়েল ট্যাংক এমনভাবে নকশা করা থাকে যেনো দুর্ঘটনার সময় ফুয়েল ট্যাংকে আগুন না ধরে যায়। 
 
জানলে অবাক হবেন, দুই ডানায় অবস্থিত দুইটি ফুয়েল ট্যাংকের একটির ট্যাংকের সঙ্গে অন্যটার সংযোগ থাকে। যখন তেল শেষ হয়ে যায় তখন অন্য ট্যাংক সচল হয়ে যায়।
 
একটি বিমান যদি ১০ ঘন্টা একটানা ওড়ে তাহলে তার ট্যাংকে কমপক্ষে দেড় লাখ লিটার তেল মজুদ থাকে। বুঝতেই পারছেন কী পরিমাণ তেল নিতে সক্ষম বিমানের ফুয়েল ট্যাংক। 
engine
একটি ইঞ্জিন দিয়েই উড়তে পারে বিমান
 
উড়োজাহাজ বা বিমানে চলাচলের জন্য সাধারণত দুইটি ইঞ্জিন থাকে। কিন্তু আশ্চর্যজনক তথ্য হচ্ছে বিমান ওড়ার জন্য একটি ইঞ্জিনই যথেষ্ট। 
 
কমার্শিয়াল বড় প্লেনগুলোতে সাধারণত দুইটি ইঞ্জিন থাকে। দুইটি ইঞ্জিন প্লেনের রেঞ্জ আর ফুয়েল ফুয়েল ইফেসিয়েন্সি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সত্যি বলতে প্লেনগুলো শুধুমাত্র একটা ইঞ্জিন দিয়েও খুব ভালোভাবেই উড়তে পারে।
 
এজেড

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর