মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

আরাফাতে হাজিরা কতক্ষণ থাকবেন, কী আমল করবেন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

আরাফাতে হাজিরা কতক্ষণ থাকবেন, কী আমল করবেন

হজের মূল ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। ৯ জিলহজ নির্ধারিত সময়ে সেখানে উপস্থিত হতে না পারলে হজ আদায় হয় না। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘হজ হলো আরাফা।’ (সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯) 

অবস্থানের সময়সীমা ও বিধান

ফিকহবিদদের ঐকমত্য অনুযায়ী, ৯ জিলহজ সূর্য ঢলে যাওয়ার (জোহরের ওয়াক্ত শুরু) পর থেকে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের ফরজ। হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়া ও ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সামান্য সময়ের জন্য হলেও আরাফার সীমানায় উপস্থিত থাকলে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। এমনকি কেউ রাতের বেলায় পৌঁছলেও হজ সহিহ হবে।

আরও পড়ুন: আরাফাতের ময়দানে দাঁড়ালেই মানুষ কেন কেঁদে ওঠে?

তবে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (স.) বিদায় হজে এভাবেই আমল করেছেন- জোহরের পর আরাফায় পৌঁছে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করেন। এরপর সূর্যাস্তের পর তিনি মাগরিব না পড়েই মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কেউ সূর্যাস্তের আগে ময়দান ত্যাগ করলে তার ওপর ‘দম’ (কোরবানি) ওয়াজিব হবে। (ফতোয়ায়ে শামি)

হাজিদের করণীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল

আরাফার দিন আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়ে হাজিদের করণীয় গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো হলো-

তাওবা ও ইস্তেগফার: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮)। তাই বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও তাওবা করাই এ দিনের প্রধান আমল।
সর্বোত্তম দোয়া: হাদিসে এসেছে, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৮৫) রাসুলুল্লাহ (স.) এ দিন যে দোয়াটি বেশি পড়তেন- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন কাদির।’
তালবিয়া ও জিকির: উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং তাসবিহ, তাকবির, তাহলিল ও দরুদ শরিফে মশগুল থাকা। তালবিয়া হলো- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’

আরও পড়ুন: আরাফার ময়দানে কতক্ষণ থাকতে হবে, কী দোয়া পড়বেন- সম্পূর্ণ গাইড

কোরআন তেলাওয়াত: এ দিন বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে সময় কাটানো অত্যন্ত ফজিলতের আমল।
খুতবা শোনা ও নামাজ আদায়: আরাফার দিন মসজিদে নামিরা থেকে ইমাম খুতবা প্রদান করেন। এরপর জোহরের ওয়াক্তে জোহর ও আছরের নামাজ একত্রে (জমে তাকদিম) আদায় করা সুন্নত। তবে যারা মসজিদে নামিরার জামাতে শরিক হতে পারবেন না, তারা নিজ নিজ তাঁবুতে জোহর ও আছর আলাদা আলাদা সময়ে আদায় করবেন।

আলেমরা বলেন, এই মূল্যবান সময় অহেতুক কথাবার্তা বা ছবি তুলে নষ্ট না করে পুরো সময় ইবাদত ও দোয়ায় কাটানো উচিত। আরাফার ময়দান আমাদের পরকালের হাশরের ময়দানকেও স্মরণ করিয়ে দেয়-যেখানে সাদা ইহরামের কাপড়ে লাখো মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে থাকেন। ধনী-দরিদ্রের কোনো ভেদাভেদ নেই। 

আল্লাহ তাআলা সকল হাজির হজ কবুল করুন, তাদের গুনাহ মাফ করুন এবং আমাদেরও একদিন তাঁর পবিত্র ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর