শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

দল গোছাচ্ছে বিএনপি, আস্থা তরুণ নেতৃত্বে

মো. ইলিয়াস
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img
বিএনপিতে গুরুত্ব পাচ্ছেন তরুণ নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছে বিএনপি। এই লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে দল পুনর্গঠন ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে দেওয়া হচ্ছে নতুন কমিটি। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে একদিনেই ১৩ জেলায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। জেলায় জেলায় চলছে সম্মেলন। বেশ কয়েকটি জেলায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও করা হয়েছে। এসব কমিটিতে সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের দিকে নজর দিয়েছেন। আমরাও চাই নেতৃত্বে নতুন প্রজন্ম আসুক। প্রায় জেলাগুলোতেই সাবেক ছাত্রদলের নেতারা নেতৃত্বে রয়েছেন। অন্যান্য জেলাগুলোতে পর্যায়ক্রমে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। আগামী দিনের নেতৃত্ব পুরোপুরি সাবেক ছাত্রদলের নেতাদের হাতে দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তরুণ নেতৃত্ব। স্থবির ও গুটিয়ে যাওয়া বিএনপির আন্দোলন চাঙ্গা হওয়ার পেছনে তরুণ নেতাদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। মাঠ পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করতেও অগ্রণী অবস্থান তাদের। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিকে সফল করতে উদ্যোগী রয়েছেন তরুণ নেতারা। তাই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতারা।

আরও পড়ুন

ডিসেম্বরেই ভোট, তবু কেন মাঠে নামছে বিএনপি?

গতকাল বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের ‘সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ নবায়ন ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন ধারার রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ছাত্রদলের সাফল্য কামনা করছি। এই প্রত্যাশা করছি ছাত্রদল বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে।


বিজ্ঞাপন


BNP3

সূত্র জানায়, বর্তমান বাস্তবতা ও বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত তরুণদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মেধা, পরিশ্রম ও ত্যাগকে বিবেচনায় রেখে গঠন হচ্ছে এসব কমিটি। তরুণ নেতৃত্বে আস্থা রেখে দলকে পুনর্জাগরণের চেষ্টা চলছে। দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে অনেকে সংসদ নির্বাচনেও পেতে পারেন মনোনয়ন।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম ঢাকা মেইলকে বলেন, বিগত সময়ে যেসব নেতা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কমিটিগুলোতে তাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। আমাদের মূল ফোকাস থাকবে ছাত্রদল থেকে যারা উঠে এসেছে তাদের এগিয়ে নেওয়া। বিএনপির মূল নেতৃত্বে ছাত্রদলের সাবেক নেতারা প্রায়োরিটি (অগ্রাধিকার) পাবেন। এছাড়া প্রায় জেলাগুলোতেই সাবেক ছাত্রদলের নেতারা নেতৃত্বে রয়েছেন। তাছাড়া অন্যান্য জেলাগুলোতে পর্যায়ক্রমে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আমরা চাই আগামী দিনের নেতৃত্ব পুরোপুরি সাবেক ছাত্র নেতৃত্ব নির্ভর হোক।

জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি এক দিনেই ১৩ জেলায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি দিয়েছে বিএনপি। এসব কমিটিতে যেমন ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তেমনি কিছু পুরোনো মুখও স্থান পেয়েছে। ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের বিভিন্ন কমিটির শীর্ষ পদসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। ১৩টি জেলার নতুন কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় সব কমিটিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলার নতুন কমিটির আহ্বায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ ছিলেন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সদস্য। সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, তাজকিন আহমেদ চিশতী ও আখতারুল ইসলাম ছাত্রদলের সাবেক নেতা। মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতা ছিলেন। সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদারবক্স হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম মেহেরপুর কলেজ ও অধ্যাপক ফয়েজ মোহাম্মদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা ছিলেন।

আরও পড়ুন

পিছিয়ে যাচ্ছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা!

গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। বিগত কমিটিতেও তিনি সভাপতি ছিলেন। মাগুরা জেলার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিব কিশোর, খান হাসান ইমাম সুজা একসময় জেলা যুবদলের শীর্ষ পদে ছিলেন। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুকুজ্জামান ফারুক, আলমগীর হোসেন, শাহেদ হাসান টগর ও পিকুল খান ছাত্রদলের জেলা শাখার শীর্ষ পদে ছিলেন। নোয়াখালী জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো ও সদস্য সচিব হারুনুর রশীদেরও রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্রদল দিয়ে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলা কমিটিতেও একাধিক নেতা রয়েছেন যাদের রাজনীতির শুরু ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে।

BNP22

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলার শীর্ষ পদে ছিলেন। যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী বাবুল, মিজানুর রহমান ডিউক, মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাবও ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা। বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজাও ছাত্রদল থেকে উঠে আসা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত হোসেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির, আতাউর রহমান আতা, অ্যাডভোকেট আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার ও সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খানের ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ ও সদস্য আব্দুল বাতেন শামীমও যুবদল থেকে উঠে আসা। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদের ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু। প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূঁইয়া যুবদল ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাশেকুল ইসলাম রাজিব ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতা।

আরও পড়ুন

খুলছে কপাল, বহিষ্কৃতদের সবুজ সংকেত দিয়েছে বিএনপি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় ভোটের মাধ্যমে বিএনপির বিভিন্ন কমিটি হচ্ছে। যারা আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, দলের প্রতি যাদের কমিটমেন্ট রয়েছে, কমিটিতে তাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদলের সবার তো আর দলের প্রতি কমিটমেন্ট নেই, দলের প্রতি যাদের কমিটমেন্ট রয়েছে তারা অবশ্যই নেতৃত্বে আসবেন।’ 

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘নীলফামারীতে আমাকে জনসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাকে সম্মেলন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। নোয়াখালীতে সম্মেলন হলে আমি বলতে পারব কে আগামী দিনের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে পারবে। অন্যান্য জেলায় কীভাবে কী হলো সেটার দিকে আমার নজর নেই। তারেক রহমান বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের দিকে নজর দিয়েছেন, আমিও চাই নতুন প্রজন্ম আসুক। আমার জেলায় যখন সম্মেলন দেবে তখন সেখানকার বিষয় বলতে পারব। অন্যান্য জেলার বিষয়ে কথা বলার শক্তিও নেই, জানাও নেই। তবে বিষয়টি অত্যন্ত মহৎ কাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। অনেক দিন ধরে সম্মেলন নেই, সম্মেলনগুলো হোক, নেতৃত্ব ভোটে আসুক। তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব আসুক। এই আমাদের কামনা।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ঢাকা মেইল বলেন, ‘আগামী দিনের কমিটিগুলোতে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যারা ভূমিকা রেখেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা কষ্ট করেছেন তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

এমই/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


News Hub