এক মাস সিয়াম সাধনার পর সারা বিশ্বের মুলসমানদের ঘরে ঘরে ঈদ উৎসব চলছে। খাওয়া-দাওয়া এই উৎসবের অন্যতম অঙ্গ। ঈদ উৎসব পালনের রীতি স্থান ও ঐতিহ্য অনুযায়ী একেক দেশে একেক রকম। তবে ঈদ সেমাই, পায়েস, জর্দা, কাস্টার্ড ও দুধজাত মিষ্টি খাবারের বিশেষ কদর রয়েছে। এমনকি রয়েছে বাদাম, কিশমিশ ও খেজুরের ব্যবহার।
ইরাকে ঈতে গোলাপজল ও খেজুর মিশ্রিত পেস্ট্রি খাওয়ার রীতি রয়েছে। এর নাম ক্লাইকা। সৌদি আরবে ইদের দিন দেবেআজাহ নামে এক ধরনের ডেজার্ট খাওয়ার চল। সেই সঙ্গে আসিদা নামে এক ধরনের খাবার সৌদি আরব, লিবিয়া, সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে খাওয়া হয়ে থাকে।
বিজ্ঞাপন
লেবানন ও সিরিয়াবাসী ঈদের ভোরে খেজুর ও আখরোটের পুর দেওয়া মামৌল কুকি খেয়ে সিয়াম সাধনার মাসের অবসান ঘটান। ফিলিস্তিনে ঈদ তৈরি করা হয় আমন্ড ও পাইন নাটের তৈরি গ্রেইবে বাটার কুকি।
ইন্দোনেশিয়ানরা ল্যাপিস লেজিট নামক মশলাদার লেয়ার কেক বানানো হয়। ঔপনিবেশিক ডাচদের কাছ থেকে এই কেকের ধারণা এসেছে। অন্যদিকে আবার নেদারল্যান্ডসে ইদ ফুড মেনুর অন্যতম আকর্ষণ।
বিজ্ঞাপন
ভারত ও বাংলাদেশে ঈদের বিশেষ খাবার হচ্ছে সেমাই। ঈদের দিন সকালে ঘিয়ে ভাজা বা দুধে ভেজানো সেমাই দিয়ে ব্রেকফাস্ট করা হয় ভারত ও বাংলাদেশে।
আরও পড়ুন: ঈদে সেমাই খাওয়ার প্রচলন যেভাবে হলো
অন্যদিকে, দুধে ভেজানো ড্রাই ফ্রুট ও খেজুর সমেত সেমাইয়ের স্যুপি পুডিংকে শের খুরমা বলা হয় পাকিস্তানে।
ইরাকে ঈদের দিনের আহার শুরু হয় মহিষের দুধের সর, রুটি ও মধু দিয়ে।
এই দিন শিশুদেরও খুশির দিন। তুরস্কে শিশুরা পরিবার আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি বেড়াতে গেলে তাদের ছোট ছোট অনেক উপহার দেওয়া হয়। পেস্তা, গোলাপজল, চিনি ইত্যাদি দিয়ে তৈরি লোকুম খেতে দেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সবাই একত্র হয়ে বড় খানাদানার আয়োজন করে। নানা স্বাদের খাবার পরিবেশন এবং সার্ভিংয়ে বিশেষ যত্ন ও নজর দেওয়া হয়।
মিশরে ঈদে মাছ সবসময়ই বিশেষ আকর্ষণ। অন্যদিকে ইরাক, ইন্দোনেশিয়ায় ইদের দিন ভেড়ার মাংস জনপ্রিয়। মালয়েশিয়ায় ইদে নারকেল দিয়ে ঝাল গরুর মাংস রান্না হয়। এর নাম বিফ রেন্ডাং।
এজেড