আব্দুল হাকিম
২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
যানবাহন ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে পুলিশ বাহিনী। এতে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিয়মিত টহল ও অপরাধ দমনে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাহিনীর বহরে থাকা যানবাহনের বড় অংশই বহু বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। গত আট বছরে যতসংখ্যক গাড়ি অকেজো হয়েছে, এর বিপরীতে নতুন গাড়ি কেনা হয়েছে অর্ধেকেরও কম। এ অবস্থায় পরিবহন সংকট কাটিয়ে পুলিশের কার্যক্রমে গতি আনতে চার হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে চার হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের ৬৩৯টি থানায় যানবাহনের স্বল্পতা, বিদ্যমান যানবাহনের পুরোনো অবস্থা এবং অপরাধ দমনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন যানবাহন যুক্ত হলে মাঠপর্যায়ে পুলিশের টহল, অভিযান, অপরাধী গ্রেফতার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের পুরো অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৯৬ দশমিক ৬৫ শতাংশই যানবাহন কেনার জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া যানবাহনের নিবন্ধন ফি, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য পুলিশের যানবাহনের ঘাটতি পূরণ করে জনসেবায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, পুলিশের ব্যবহৃত অনেক যানবাহন পুরোনো হয়ে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, অপরাধীকে গ্রেফতার করা, আলামত সংরক্ষণ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন প্রয়োজন।
কমিশন জানিয়েছে, আধুনিক ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন থাকা জরুরি। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে টহলযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে একাধিক স্থানে একই সময়ে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে যানবাহনের স্বল্পতার কারণে পুলিশের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সারাদেশে পুলিশের যানবাহন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পুলিশের অধীন ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানার মাধ্যমে পুলিশ জনসেবা দিয়ে থাকে। এর বাইরে রেলওয়ে পুলিশের অধীন ২৪টি এবং হাইওয়ে পুলিশের অধীন ৭৩টি থানা রয়েছে। ৬৩৯টি থানায় বর্তমানে এক হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় টহলসহ পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। অর্থাৎ, পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনের একটি বড় অংশ এক দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রকল্পের যৌক্তিকতায় বলা হচ্ছে, পুরোনো যানবাহনের ওপর নির্ভরতা এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম যানবাহন থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। একটি থানার আওতাধীন এলাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একই সময়ে টহল পরিচালনা বা জরুরি ঘটনায় সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকলে একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় অন্য এলাকায় পুলিশের তৎপরতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে নতুন যানবাহন কেনার মাধ্যমে থানাভিত্তিক যানবাহনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত চার হাজার ৮২৯টি যানবাহনের মধ্যে কোন ধরনের যান কতটি থাকবে এবং সেগুলো কোন ইউনিট বা থানায় কীভাবে বণ্টন করা হবে, তার বিস্তারিত বিভাজন প্রকল্পের সারসংক্ষেপে উল্লেখ নেই।
থানাপ্রতি প্রয়োজন পাঁচটি টহলযান
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে থানাগুলোতে গড়ে দুটি বা তার কম যানবাহন রয়েছে। সাধারণ পরিস্থিতিতেও একটি থানার বিভিন্ন এলাকায় কার্যকরভাবে টহল পরিচালনার জন্য অন্তত চার থেকে পাঁচটি পিকআপ বা টহলযান প্রয়োজন হতে পারে। জনবহুল, ব্যস্ত ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বেশি যানবাহনের দরকার হতে পারে।
একটি থানার আওতাধীন এলাকায় একাধিক ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড এবং বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা থাকতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকলে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় টহল পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো একটি এলাকায় অপরাধের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করতে গেলে অন্য এলাকায় নিয়মিত টহল বা জরুরি সাড়াদানের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পরিকল্পনা কমিশন আরও জানায়, জাতীয় নির্বাচনসহ বড় ধরনের অনুষ্ঠান বা বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানায় অতিরিক্ত যানবাহনের প্রয়োজন হয়। এ সময় যানবাহনের ঘাটতি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য ও সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের সীমাবদ্ধতা কমানো জরুরি।
পর্যাপ্ত যানবাহন থাকলে পুলিশ একই সময়ে একাধিক এলাকায় টহল পরিচালনা করতে পারবে। অপরাধের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের কাজেও সুবিধা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
যানবাহন কেনায় ব্যয় ৪১৮৪ কোটি টাকা
প্রকল্পের ব্যয় বিভাজন অনুযায়ী, মোট চার হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার মধ্যে যানবাহন কেনার জন্য চার হাজার ১৮৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ব্যয় মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৯৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ফলে প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রমই হচ্ছে পুলিশের জন্য নতুন যানবাহন সংগ্রহ করা।
যানবাহনের নিবন্ধন ফি বাবদ ৪৪ কোটি ৫৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। চালকদের প্রশিক্ষণ এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্যও আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনার জন্য ১৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট সংখ্যা চার হাজার ৮২৯টি যানবাহন কেনা হবে।
সরকারি অর্থে এত বড় অঙ্কের যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য নির্ধারণ, বাজারদর যাচাই, যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা এবং কেনার পর সেগুলো সচল রাখার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায়ও এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন যানবাহন কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে আরও ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিশন বলছে, প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে দেশেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাফিদ ও ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
নতুন যানবাহন সচল রাখার পরিকল্পনা চায় কমিশন
শুধু যানবাহন কিনলেই পুলিশের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে না, কেনার পর সেগুলো সচল রাখার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্প শেষে কেনা যানবাহনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া পুলিশের যানবাহনের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো বা টিওঅ্যান্ডই অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান টিওঅ্যান্ডই সংশোধনের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি ও নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি, অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করে ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একই ধরনের ক্রয় প্যাকেজ একত্র করা, প্যাকেজের সংখ্যা কমানো এবং নির্দিষ্ট ক্রয়পদ্ধতি উল্লেখ করার বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির তালিকা, প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের হিসাব এবং বাজারদর যাচাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এসব শর্ত পূরণের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তিন অর্থবছরে ব্যয়ের পরিকল্পনা
প্রকল্পের মোট ব্যয় ২০২৬-২৭, ২০২৭-২৮ ও ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভাগ করে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম অর্থবছরে এক হাজার ৬৩৩ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় অর্থবছরে এক হাজার ৯৫১ কোটি ৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং তৃতীয় অর্থবছরে ৭৪৪ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, প্রকল্পের দ্বিতীয় অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরো প্রকল্পের অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। এতে বিদেশি ঋণ বা অনুদানের অর্থ ব্যবহারের প্রস্তাব নেই।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুলিশের যানবাহনের ঘাটতি পূরণ করা সহজ হবে এবং জনসেবায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। এ কারণে প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য বলে মত দিয়েছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন ও বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়ার তথ্যও নথিতে রয়েছে।
পুলিশের যানবাহনের ঘাটতি পূরণে এ প্রকল্প বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব। তবে প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করবে যানবাহনগুলো যথাযথভাবে কেনা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে বণ্টন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর ব্যবহারের ওপর। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে পুলিশের টহল ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গত ৩০ মার্চ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারাদেশে পুলিশের অর্ধেকের বেশি গাড়ি পুড়ে গেছে বা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ও পুলিশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক লজিস্টিক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে যানবাহনের। ওই সময় পুলিশের অর্ধেকের বেশি গাড়ি পুড়ে গেছে অথবা পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
যানবাহন সংকটের কারণে পুলিশের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিপুলসংখ্যক গাড়ি নষ্ট হওয়ায় পুলিশের স্বাভাবিক টহল ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমে শুরুতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে এই লজিস্টিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে। পুলিশের সক্ষমতা ফেরাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলোর জায়গায় নতুন গাড়ি পুলিশ বহরে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কমিটিকে জানান, পুলিশের বহরে মোট যানবাহনের সংখ্যা ১৬ হাজার ২০০টি (যার মধ্যে ৯ হাজার ৮৭৮টি মোটরসাইকেল)। কিন্তু বর্তমান বহরের ৬ হাজার ২৫৫টি গাড়ির বয়স ৮ বছরের বেশি এবং ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৩ হাজার ৬৮২টি যান অকেজো ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন কেনা সম্ভব হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২৪৯টি যানবাহন। তিনি জানান, প্রতিটি থানায় দুটি করে ডাবল কেবিন পিকআপ ও একটি করে সিঙ্গেল কেবিন পিকআপের প্রয়োজন। এই সংকট মোকাবিলায় বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
এএইচ/এফএ