জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের লক্ষ্যে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের দুই বছর পূর্ণ হলো বুধবার (১৪ অক্টোবর)।
২০২৪ সালের এই দিনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর জুলাই আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বিগত সরকারের আমলের গুম-খুনের অভিযোগের বিচার শুরু হয়।
গত দুই বছরে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ৭০টি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৮ জনে। তাঁদের মধ্যে ২০৩ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৫২ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।
এ সময়ে দুটি ট্রাইব্যুনালে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের সংখ্যা ২৩টি।
এ ছাড়া ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৩৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে রাজসাক্ষী হিসেবে ক্ষমা করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল দুটিতে আরও ২৬টি মামলা নিয়মিত বিচারাধীন রয়েছে।
দুই ট্রাইব্যুনালের মামলার পরিসংখ্যান
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ মিলিয়ে বিবিধ (মিসকেস) ও নিয়মিত (বিডি) মামলার সংখ্যা ৭০টি।
ট্রাইব্যুনাল-১: এ ট্রাইব্যুনালে মোট ৪৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বিডি মামলায় আসামি ১২০ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ৩২ জন, পলাতক ৮৮ জন। অন্যদিকে ৩১টি বিবিধ মামলায় আসামি ১৩৩ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ৭৩ জন, পলাতক ৫৯ জন এবং একজন মারা গেছেন।
সব মিলিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১-এ মোট আসামি ২৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ১০৫ জন, পলাতক ১৪৭ জন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-২: এ ট্রাইব্যুনালে মোট মামলা ২৭টি। এর মধ্যে ১৪টি বিডি মামলায় আসামি ২০৮ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ৫২ জন এবং পলাতক ১৫৬ জন। অন্যদিকে ১৩টি বিবিধ মামলায় ২৭ আসামির মধ্যে ২৬ জন গ্রেফতার হয়েছেন, পলাতক একজন।
অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মোট ২৩৫ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ৭৮ জন এবং পলাতক ১৫৭ জন।
উভয় ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে মোট আসামির সংখ্যা ৫৫৮ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ২০৩ জন, পলাতক ৩৫২ জন এবং একজন মারা গেছেন।
নিষ্পত্তি হওয়া সাত মামলার খতিয়ান
ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ এ পর্যন্ত সাতটি বিডি মামলার রায় দিয়েছেন। এসব মামলায় মোট ৬৮ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ২২ জনের ১৮ জনই পলাতক, কারাগারে আছেন চারজন।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন রায়: মৃত্যুদণ্ড আটজনের
১. শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল: ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ঘোষিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
২. চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং সাবেক তিন কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৩. রামপুরায় তরুণকে গুলি: কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলির ঘটনায় গত ২৮ জুন দেওয়া রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকে দ্বিতীয়বারের মতো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই রায়ে খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন এবং সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর চার রায়: মৃত্যুদণ্ড ১৫ জনের
১. আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলা: সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ কর্মী রনি ভূঁইয়াসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়।
২. রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা: ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার দায়ে সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
৩. হাসানুল হক ইনুর সাজা: গত ৩০ জুন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে কমান্ড রেসপনসিবিলিটি এবং কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৪. ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ড: শীর্ষ নেতৃত্বের দায় বা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির কারণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
পলাতক এই সাত আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
কাঠগড়ায় ১২ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাসহ ২০৩ জন
জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যসহ ১২ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
তাঁরা হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
শাপলা চত্বরের গণহত্যার মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীও।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিচার চলছে।
মেজর জেনারেল (সাবেক) জিয়াউল আহসান: র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। ট্রাইব্যুনাল-১-এ বর্তমানে তাঁর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলছে।
১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে ও সাবজেলে: গুম, অপহরণ ও হত্যার পৃথক তিনটি মামলায় মোট ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে, এমইএস ভবনের ৫৪ নম্বর ভবনে রাখা হয়েছে। তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।
যাঁদের নাম আলোচনায় এসেছে: এই ১৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসানসহ বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তারা রয়েছেন। এ ছাড়া পৃথক একটি মামলায় বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল
এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত, লেখক ও সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবীর, সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলম ও হাবিব হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতা মিলিয়ে মোট ২০৩ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আদালত অবমাননার মামলা
ট্রাইব্যুনাল নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় দুটি আদালত অবমাননার মামলা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-১: ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান, সাবেক আইন উপদেষ্টা ও প্রসিকিউটরদের জড়িয়ে ফেসবুকে ভিত্তিহীন প্রচারণার দায়ে যুবলীগ নেতা এম এইচ পাটোয়ারী বাবুকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে পাটোয়ারী বাবু সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত থেকে জামিন পান।
ট্রাইব্যুনাল-২: ওবায়দুল কাদেরের রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মো. হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ২৬ অক্টোবর।
প্রতিটি মামলায় লাগছে ৭-৮ মাস, ডিসেম্বরে শেষ হতে পারে কয়েকটির সাক্ষ্য
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠনের পর অবকাঠামোগত শূন্যতা কাটিয়ে বিচারকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। প্রায় ৭০০টি প্রাথমিক অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন ও আনিসুল হকসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের কাজও চলছে।
বিচারপ্রক্রিয়ার সময়কাল নিয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন বলেন, আসামিপক্ষের অভিযোগ, দ্রুত বিচার হচ্ছে; অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে প্রতিটি মামলার বিচার শেষ হতে গড়ে সাত থেকে আট মাস এবং তদন্তে ছয় মাস থেকে দেড় বছর সময় লাগছে, যা আইনানুগ প্রক্রিয়ারই অংশ।
তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০১০ সালে গঠিত প্রথম ট্রাইব্যুনালের তুলনায় বর্তমান ট্রাইব্যুনাল অনেক দ্রুততার সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি করছে।
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনে তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আজ তাঁকেই এই ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচার প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।
এদিকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির স্বার্থে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, মামলার ক্রমবর্ধমান সংখ্যার তুলনায় তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরের সংখ্যা অপ্রতুল। কার্যক্রমের গতি ধরে রাখতে অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ও জনবল বাড়ানো জরুরি।
আগের ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পরে ২০১২ সালের ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ওই দুটি ট্রাইব্যুনালে ৫৬টি মামলায় ১৯৭ জনের বিচার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন খালাস পান এবং ১৯৫ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান। ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
আগের ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রায় তিন বছর পর ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম রায় ঘোষণা করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন রুকন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি পলাতক থাকায় তাঁর দণ্ড কার্যকর হয়নি।
পুনর্গঠনের পর ১১ মাসের মধ্যেই বর্তমান ট্রাইব্যুনালে প্রথম রায় দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর। ওই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালকেই বেছে নেয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনে আরেক দফা সংশোধনীও আনা হয়।
আরএনবি/এআর



