আব্দুল হাকিম
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ছে ১৪২%
প্রথম গ্রেডে বেতন বেড়ে হচ্ছে দ্বিগুণ
সুবিধা পাবেন সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত
পোশাক খাতে নতুন মজুরি বোর্ডে বিলম্ব
আয় না বাড়লেও বাড়বে জীবনযাত্রার ব্যয়
বেতন বাড়ানো প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত
ঢাকার একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন মনিরুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তিনি। চাকরির শুরুতে যে বেতন দিয়ে সংসার চালানো তুলনামূলক সহজ ছিল, সময়ের সঙ্গে আয় কিছুটা বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খরচ মেটাতে এখন মাসের শেষ দিকে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদনের পর মনিরুল ইসলামের মতো বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাড়লেও বেসরকারি খাতে একই ধরনের বেতন সমন্বয়ের কোনো অভিন্ন কাঠামো নেই। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়ার পাশাপাশি বাজারে পণ্য ও সেবার দাম বাড়লে নির্দিষ্ট বেতনে চলা বেসরকারি কর্মীদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে তাদের আয় বাড়বে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু বেসরকারি চাকরিতে নিয়মিত বেতন বাড়ার নিশ্চয়তা নেই। অথচ বাজারে চাল, ডাল, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষার খরচ সবই বাড়ছে। বেতন একই গতিতে না বাড়লে একসময় সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে যায়।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং প্রথম গ্রেডে ১০০ শতাংশ।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। এরপর ১২তম গ্রেড থেকে নিচের দিকে বৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে বেড়েছে। ১২তম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ, ১৩তম গ্রেডে ১১৮ শতাংশ, ১৪তম গ্রেডে ১৩০ শতাংশ, ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ, ১৭তম গ্রেডে ১৩৮ শতাংশ, ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ এবং ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ। ২০তম গ্রেডে এই হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও তা একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ভাতার আওতায় মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে। পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই সামনে এসেছে বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও কর্মপরিবেশের প্রশ্ন। দেশের কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ বেসরকারি খাতে হলেও এই খাতের কর্মীদের জন্য সরকারি চাকরির মতো অভিন্ন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো নেই। শিল্প, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, গণমাধ্যম, রপ্তানি, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবা খাতে কর্মরত মানুষের বেতন প্রতিষ্ঠানভেদে নির্ধারিত হয়।
কোনো প্রতিষ্ঠানে বছরে একবার বেতন বাড়লেও অন্য প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছরেও বেতন সমন্বয় নাও হতে পারে। আবার একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও পদ, বিভাগ, দায়িত্ব ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির হার ভিন্ন হয়। ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও একজন বেসরকারি কর্মীর আয় একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
আরও পড়ুন: জমি না পেয়ে থমকে আছে সেতুর কাজ!
বেসরকারি চাকরিজীবীদের উদ্বেগ শুধু বেতন নিয়ে নয়; চাকরির নিরাপত্তা, নিয়োগপত্র, কর্মঘণ্টা, ছুটি, ওভারটাইম, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, পেনশন ও অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও এর সঙ্গে জড়িত। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেসব আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো রয়েছে, বেসরকারি খাতে কর্মরত সবাই একই ধরনের সুবিধা পান না।
ফলে কোনো কর্মী চাকরি হারালে তার পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার দীর্ঘদিন বেতন সমন্বয় না হলে মূল্যস্ফীতির কারণে একই বেতনে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয়। অর্থনীতির ভাষায় এটিই প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের সরাসরি তুলনা করার সুযোগ অবশ্য সীমিত। দুই খাতের চাকরির ধরন, দায়িত্ব, নিয়োগব্যবস্থা ও সুবিধা আলাদা। তবে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি যখন মজুরি, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলে, তখন বেসরকারি খাতে কর্মরত মানুষের বিষয়টিও নীতিনির্ধারণের আলোচনায় থাকা প্রয়োজন।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি ন্যূনতম বেতন কাঠামো, নিয়মিত বেতন পর্যালোচনা, কর্মঘণ্টা ও ছুটির নিশ্চয়তা, চাকরির নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি এ কারণে সামনে আসছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয়ের কার্যকর কোনো কাঠামো করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়লেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণে চাপ, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খাতের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে অতিরিক্ত এই ব্যয় কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এই বাড়তি ব্যয়ের অর্থনীতি সামলানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে বেসরকারি খাতের কর্মীদের ওপর পরোক্ষ চাপ বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদ ও শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের আলোচনায়ও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করা হলে তার প্রভাব শুধু সরকারি খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। সরকারি কর্মীদের আয় বাড়ার ফলে বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে। একই সময়ে উৎপাদন ও সেবা খাতে শ্রম ব্যয় বাড়লে তার একটি অংশ পণ্য ও সেবার দামে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হলে বেসরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় আরও কমে যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও নতুন পে স্কেল নিয়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, পে স্কেলে সরকার বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করেছে। তবে বেতন বৃদ্ধির কারণে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদনের পর বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার সময় তিনি বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় আসার কথা জানান।
নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি হবে বলে জানিয়েছেন নাসিম উল গণি। তিনি বলেন, ১২ বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি ঘটেনি। পাঁচ বছর অন্তর যেখানে পে-স্কেল পরিবর্তন হয়, সেখানে এটা ১২ বছরে হয়নি। তাদের জন্যও এটা খুব কষ্টকর এবং জীবনযাত্রার মানও কমে গেছে অনেক। সেটিকে বিবেচনায় রেখে একটা ব্যালেন্স করে, এই উভয় দিকে ব্যালান্স করে যেটুকু করা যায়, সেটাই করা হয়েছে।’
নাসিমুল গনি জানান, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিধান থাকবে। অনুমোদিত বেতন স্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পাশাপাশি বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ!
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হলে বেসরকারি খাতেও বেতন সমন্বয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেতন বাড়াতে সরকার সরাসরি বাধ্য করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ও নিজস্ব নীতির ওপর নির্ভর করবে তারা কতটা বেতন বাড়াবে। ফলে সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে বেসরকারি খাতে কর্মীদের বেতন বাড়ানোর দাবি জোরালো হলেও, সব প্রতিষ্ঠানে একই হারে বেতন বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ঢাকা মেইলকে বলেন, সরকারি খাতে বেতন বাড়ানোয় বেসরকারি চাকরিজীবীদের ওপর অবশ্যই এক ধরনের চাপ তৈরি হবে। তবে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বেতন বাড়াতে সরাসরি চাপ দিতে পারবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হলে বেসরকারি খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা বেতন বাড়াবে, সেটি সরকার নির্ধারণ করতে পারবে না। ফলে সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর একটি চাপ তৈরি হলেও, তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা ও নীতির ওপর নির্ভর করবে।
এই বিশ্লেষক বলেন, কিছুদিন আগেই বেসরকারি খাতে অনেক প্রতিষ্ঠান বেতন স্কেল বা বেতন কাঠামো সমন্বয় করেছে। এরপর আবার নতুন করে কতটা বেতন বাড়ানোর বিষয়টি প্রতিষ্ঠানগুলো বিবেচনা করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সরকারি বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তের পর কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি মনে করে তাদের কর্মীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন, তাহলে তারা সেটি করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা মূলত পরামর্শ দেওয়া পর্যন্ত সীমিত থাকবে। সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট হারে বেতন বাড়ানোর জন্য বাধ্য করতে পারবে না।
আরও পড়ুন: খেলার মাঠে খেলা নেই, বসে মাদকের আসর!
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন ঢাকা মেইলকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও নতুন পে স্কেলের প্রভাব বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। শ্রমবাজারের বড় অংশ বেসরকারি খাতে থাকলেও এসব কর্মীর আয় একই হারে না বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য আরও নষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আয় ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবধান বাড়লে সামাজিক বৈষম্য ও ক্ষোভও তৈরি হতে পারে।
নিটওয়্যার শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঢাকা মেইলকে বলেন, বেসরকারি খাতের শিল্পকারখানাগুলো এমনিতেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত তিন বছরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর চাপ তৈরি হলে শিল্পমালিকদের পক্ষে তা বহন করা কঠিন হবে।
এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী তৈরি পোশাক খাতে ২০২৮ সালের আগে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন বা নতুন করে মজুরি নির্ধারণের সুযোগ নেই। ২০২৩ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সময়ের আইনি বিধান অনুযায়ী পাঁচ বছর পর নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কথা রয়েছে।
এএইচ/জেবি