- বাস্তবায়নের সময় বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার বছর
- এসব সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৭৭ দশমিক ৭২১ মিটার
- প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৫২ শতাংশ
- নকশা বদলে বেড়েছে কয়েকটি সেতুর ব্যয়
- পুরোনো সেতুতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
- ১৭৮ স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করেছে গণপূর্ত
রংপুর অঞ্চলের আট জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ও অন্যান্য সেতু প্রতিস্থাপনের জন্য ২০২১ সালে শুরু হয়েছিল বড় একটি প্রকল্প। জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত সেতুগুলোর জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণ করে নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্প শুরুর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সব কাজ শেষ হয়নি। বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় কয়েকটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরুই করা যায়নি। কোথাও মূল কাঠামোর কাজ এগোলেও জমি না পাওয়ায় এপ্রোচ সড়কের কাজ আটকে আছে। ফলে আড়াই বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকা প্রকল্পটির মেয়াদ এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত বছরে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের নথি অনুযায়ী, ‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প (রংপুর জোন)’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। মূল ডিপিপিতে প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৮৬১ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় ২৭ কোটি ৭৮ লাখ ২ হাজার টাকা কমিয়ে ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা করা হয়েছে। পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার কথা রয়েছে।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ছিল ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথমে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৩০ জুন করা হয়। পরে আবার ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে আরও দুই বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ২০২১ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ মোট সাত বছর ধরে চলবে এই প্রকল্প।
প্রকল্পটির আওতায় রংপুর জোনের আটটি সড়ক বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ৫২টি পিসি ও আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৭৭ দশমিক ৭২১ মিটার। এর পাশাপাশি ১৬টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণের কথা রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ১২১ দশমিক ৭০ মিটার। সেতুগুলোর সঙ্গে প্রায় ১৬ দশমিক ৭৪৮ কিলোমিটার এপ্রোচ সড়কও নির্মাণ করা হবে। অর্থাৎ শুধু সেতু নির্মাণ নয়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও পানি নিষ্কাশনসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো তৈরিও এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
প্রকল্প এলাকার মধ্যে রয়েছে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও জয়পুরহাট। এসব জেলার বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতু ও কালভার্টের কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের ক্ষেত্রে পুরোনো সেতুগুলো ঝুঁকি তৈরি করছে। কোথাও সেতুর প্রস্থ কম হওয়ায় একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। কোথাও আবার কাঠামো দুর্বল হওয়ায় যানবাহনের গতি কমিয়ে পার হতে হয়। এর ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বাড়ছে।
নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হিসেবে একটি নিরাপদ, ব্যয়সাশ্রয়ী, মানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভ্রমণ সময় কমানো, যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় ও পণ্য পরিবহন ব্যয় কমানো, যানবাহন পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ। সংশোধিত ডিপিপির যৌক্তিকতা অংশে বলা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় ঠিকাদারদের কাজের স্থান বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কয়েকটি সেতুর কাজ শুরু করা যায়নি। এর জেরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হয়েছে এবং কয়েকটি কাজের প্যাকেজও পুনর্গঠন করতে হয়েছে।
গাইবান্ধার কয়েকটি সেতুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। ঘাট-২ ও শাকদহ সেতুর মূল কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ হলেও এপ্রোচ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়নি। কারণ প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায়নি। ঘাট-২ ও মাঠেরহাট সেতুর ক্ষেত্রে যথাক্রমে মাত্র দুটি ও ৩৪টি পাইল নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। এরপর কাজ আর এগোয়নি। আর বাজারপাড়া ও হলহলিয়া সেতুর ক্ষেত্রে ভূমি না পাওয়ায় কোনো কাজই করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে আগের ডব্লিউপি-১০ প্যাকেজ ভেঙে ডব্লিউপি-১০এ নামে নতুন প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী আগের ঠিকাদারকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে কাজের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। অসমাপ্ত কাজের প্রাক্কলন সওজ রেট শিডিউল-২০২২ অনুযায়ী নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্যাকেজটির মূল্যও পরিবর্তিত হয়েছে। এখন নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং এই কাজ শেষ করতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্প এলাকায় অধিগ্রহণকৃত জমিতে থাকা ১৭৮টি স্থাপনার নিট মূল্য নির্ধারণ করেছে গণপূর্ত বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে ভিত্তিবিশিষ্ট ভবন, সেমিপাকা ঘর, টিনের ঘর, সীমানাপ্রাচীর, লোহার গেট, সেমিপাকা ও টিনের বারান্দা, টিনের ঝাপড়া ঘর, পার্ক ফ্লোর, ইট সোলিং, টয়লেট, বাথরুম ও নলকূপ। গণপূর্ত অধিদফতরের সিডিউল অব রেইট-২০২২ অনুযায়ী এসব স্থাপনার নিট মূল্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৭ টাকা ৭২ পয়সা।
প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বড় অঙ্কের অর্থও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২১ দশমিক ৭০৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। এ খাতে ১৪০ কোটি ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে জমির মূল্য ও অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ক্ষতিপূরণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় রয়েছে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করা প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে শুধু ভূমি অধিগ্রহণই প্রকল্পের সময় বাড়ার কারণ নয়। কয়েকটি সেতুর নকশায়ও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর-মাদারগঞ্জ-ভিতরবন্দ-নাগেশ্বরী সড়কের বলদিয়া, কুমেদপুর-১ ও কুমেদপুর-২ সেতুর নকশা নিয়ে নতুন করে কাজ করতে হয়েছে। ক্যাচমেন্ট এলাকার হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল স্টাডির পর দেখা যায়, আগের নকশা অনুযায়ী সেতু নির্মাণ করলে প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তাই সেতুর দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা বাড়ানো হয়।
এ কারণে আগের ডব্লিউপি-১২ প্যাকেজ ভেঙে ডব্লিউপি-১২এ ও ডব্লিউপি-১২বি নামে দুটি প্যাকেজ তৈরি করা হয়। প্রথম প্যাকেজে বলদিয়া ও কুমেদপুর-১ সেতু এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে কুমেদপুর-২ সেতুকে রাখা হয়। প্রথম প্রাক্কলনে ডব্লিউপি-১২ প্যাকেজের ব্যয় ছিল ৪৩ কোটি ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। পরে নকশা ও কাজের পরিমাণ পরিবর্তনের কারণে ডব্লিউপি-১২এ-এর প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং ডব্লিউপি-১২বি-এর ব্যয় ২৯ কোটি ৮২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
নকশা পরিবর্তনের কারণে কয়েকটি প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় বাড়েনি। বরং কমেছে। জানা গেছে, বিভিন্ন ঠিকাদার সওজের রেট শিডিউলের চেয়ে কম দরে দরপত্র দাখিল করায় প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় ২৭ কোটি ৭৮ লাখ ২ হাজার টাকা কমেছে। ফলে মূল অনুমোদিত ৮৬১ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা থেকে সংশোধিত ব্যয় ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতির হিসাবেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের তথ্য রয়েছে। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ছিল ৪৪১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ওই সময় পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছিল ৫২ দশমিক ১০৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি কাজ এগোলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেতুর কাজ এখনও জমি ও নকশা-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে রয়েছে।
সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পে সর্বোচ্চ ১৯৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৫৭ কোটি ৬৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪০ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩৪ কোটি ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৭৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৩০ কোটি ২৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব ধরা হয়েছিল।
প্রকল্পের ভৌত লক্ষ্যমাত্রায়ও সময় ধরে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং ১২১ দশমিক ৭০ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৭৯ লাখ ঘনমিটার মাটির কাজ, ২ হাজার ৯৭৭ দশমিক ৭২১ মিটার সেতু এবং ১৫ হাজার ৭৯৮ মিটার টো-ওয়াল নির্মাণ শেষ করার কথা। ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে ২২ হাজার ৯৩৫ দশমিক ৪০ মিটার সারফেস ড্রেন ও ৯১ হাজার ১৫৪ দশমিক ১২২ বর্গমিটার কংক্রিট ব্লক দিয়ে স্লোপ প্রটেকশন নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সারফেস ড্রেন নির্মাণে ২০ কোটি ৯৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাটির কাজে ৪০ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সেতু নির্মাণে ৪৫২ কোটি ৩৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা, টো-ওয়াল নির্মাণে ৩১ কোটি ৩১ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং কংক্রিট ব্লকে স্লোপ প্রটেকশনে ১৫ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যান্য কাজের জন্যও কয়েক কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের লজিক্যাল ফ্রেমওয়ার্কে বলা হয়েছে, এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে প্রকল্প এলাকার মানুষের ভ্রমণ সময় ও ব্যয় কমবে। পণ্য পরিবহনের খরচ কমার পাশাপাশি যানবাহনের পরিচালন ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপনের কারণে দুর্ঘটনা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা, স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক অলিউর রহমান বলেন, গোবিন্দগঞ্জ ফ্লাইওভারের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারার পেছনে ভূমি অধিগ্রহণ ও জমি বুঝে পেতে দীর্ঘ সময় লাগা অন্যতম কারণ। এ কারণে প্রকল্পের কাজ কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে বর্তমানে ফ্লাইওভারের মূল কাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। এখন বাকি সংযোগ সড়ক ও সমাপ্তির কাজগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত প্রায় ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেন থেকে উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অলিউর রহমান বলেন, প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ফ্লাইওভার, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি একাধিক সেতু, আন্ডারপাস, ওভারপাস ও সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অবকাঠামো চালু হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল আগের তুলনায় আরও সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) সম্পাদক কেজিএম ফারুক জানান, এই বৃহৎ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পেতে হলে গোবিন্দগঞ্জ ফ্লাইওভার দ্রুত চালু করা জরুরি। কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাজ অসম্পূর্ণ থাকলে তার প্রভাব পুরো সড়ক করিডোরের গতি ও সক্ষমতার ওপর পড়ে। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়কের অধিকাংশ অংশ চালু হলেও গোবিন্দগঞ্জ ফ্লাইওভার চালু না হওয়ায় পুরো প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে গোবিন্দগঞ্জ ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চললেও এখনো এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে মহাসড়ক ব্যবহারকারী এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বারবার সময় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করা প্রয়োজন। একটি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে জনগণ যেমন কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি চালু করতে হবে।
এএইচ/এএস




