শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

তাওয়াফের সময় রমল করা কি জরুরি?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

তাওয়াফে রমল করা কি জরুরি?

তাওয়াফের সময় রমল করা সুন্নত। এটি শুধু পুরুষের জন্য; নারীদের জন্য রমলের বিধান নেই। রমল হলো (তাওয়াফে কুদুম) তাওয়াফের সময় প্রথম তিন চক্করে মুজাহিদের মতো বীরদর্পে দুই কাঁধ ও শরীর দুলিয়ে ঘন ঘন পায়ে দ্রুত চলা। যেসকল তাওয়াফের পর সাঈ করতে হয় সেই তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করতে হয়। 

রাসুল (স.) হিজরতের পর যখন মদিনা থেকে বায়তুল্লায় আগমন করেন, তখন মক্কার মুশরিকরা বলাবলি করতে লাগলো যে, মদিনার (ইয়াসরিবের) আবহাওয়া মুসলমানদেরকে দুর্বল ও রুগ্ন করে ফেলেছে। তখন নবীজি মুসলমানদেরকে মুশরিকদের এই অপবাদকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য কাবা শরিফের তাওয়াফে ‘রমল’ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সাহাবিদের প্রতি দয়াবশত সবক’টি চক্করে রমল করতে আদেশ করেননি। তখন থেকেই তাওয়াফে রমল করার বিধান চালু হয়। যা এখনও বিদ্যমান। তবে নফল তাওয়াফে রমল এবং ইজতিবা নেই।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন
ঋতুমতী নারীদের হজ-ওমরার বিধান কী?
হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করলে কী হয়?
হাজরে আসওয়াদকে ইশারায় চুম্বনের নিয়ম

মাতাফে কখনও কখনও অস্বাভাবিক ভীড় হয়। বিশেষ করে হজের আগে দুয়েক দিন এবং জিলহজের ১০-১১ তারিখে। তখন মাতাফে চলাই মুশকিল। এমন কঠিন ভীড়ে রমল করার প্রয়োজন নেই। এতে শুধু নিজের কষ্ট হয় না, মানুষকেও কষ্ট দেওয়া হয়। মনে রাখা জরুরি, রমল ছাড়াও তাওয়াফ আদায় হয়ে যায়।

তাই প্রচণ্ড ভীড়ে অন্যকে কষ্ট দিয়ে রমল করা যাবে না; বরং তখন স্বাভাবিকভাবে চলবে। চলতে চলতে কখনো সামান্য ফাঁকা পেলে এবং অন্যের কষ্ট না হলে স্বাভাবিক গতিতে রমলের চেষ্টা করবে। (সহিহ মুসলিম: ১/৪১০; মানাসিক মোল্লা আলি ক্বারি: পৃ. ১৩৩-১৩৪; আলমুগনি ইবনে কুদামা: ৫/২১৭; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২২৬)

আল্লাহ তাআলা হজযাত্রীদের সুন্নতের অনুসরণে হজ-ওমরা সম্পন্ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর