সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

পশু-পাখিও মুর্ছা যেত যার মোহনীয় সুরে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০২:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

পশু-পাখিও মুর্ছা যেত যার মোহনীয় সুরে

প্রত্যেক নবীকে আল্লাহ তা’আলা স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন। তেমনি হজরত দাউদ আলাইহিস সালামকে দিয়েছিলেন সুরলহরী। এছাড়াও বীরত্ব, সাহসিকতা, খেলাফত, বিচারিক দক্ষতা, পশুপাখির ভাষা বোঝার ক্ষমতা ছিল তাঁর। বনি ইসরাইলের নবী ছিলেন। ছন্দময় মহান কিতাব যাবুর তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল।

‘আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসুল দাউদের ওপর পার্থিব ও অপার্থিব রহমত নাজিল করেছিলেন। তাঁকে নবুয়ত, রাজত্ব, সৈন্য-সামন্ত ও শক্তি-সামর্থ্য দান করেছিলেন। এর সঙ্গে অতিরিক্ত আরেকটি মোজেজাও প্রদান করেছিলেন—একদিকে দাউদ আলাইহিস সালাম মিষ্টি সুরে আল্লাহর একাত্মবাদের গান ধরতেন, অপর দিকে বিকেলে ফেরা ভোরের পাখিরা দাউদের কণ্ঠে আল্লাহর প্রশংসা শুনে থেমে যেত ও হজরত দাউদের সুরে সুর মিলিয়ে গান করত। দাউদ আলাইহিস সালাম পাখিদের ভাষাও বুঝতেন। পাখিদের সঙ্গে কথা বলতেন। পাহাড়-পর্বতও তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করত।’

আল্লাহ তায়ালা হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আমরা দাউদের প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ প্রদান করেছিলাম এই মর্মে যে— হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং (একই নির্দেশ দিয়েছিলাম) পাখিদেরও।’ (সুরা আস-সাবা, আয়াত: ১০)

প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনে কাসির তাঁর প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থে বর্ণিত আয়াতের তাফসিরে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসুল দাউদের ওপর পার্থিব ও অপার্থিব রহমত নাজিল করেছিলেন। তাঁকে নবুয়ত, রাজত্ব, সৈন্য-সামন্ত ও শক্তি-সামর্থ্য দান করেছিলেন। এর সঙ্গে অতিরিক্ত আরেকটি মোজেজাও প্রদান করেছিলেন— 

একদিকে দাউদ আলাইহিস সালাম মিষ্টি সুরে আল্লাহর একাত্মবাদের গান ধরতেন, অপর দিকে বিকেলে ফেরা ভোরের পাখিরা দাউদের কণ্ঠে আল্লাহর প্রশংসা শুনে থেমে যেত ও হজরত দাউদের সুরে সুর মিলিয়ে গান করত। দাউদ আলাইহিস সালাম পাখিদের ভাষাও বুঝতেন। পাখিদের সঙ্গে কথা বলতেন। পাহাড়-পর্বতও তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করত।’

ইমাম বুখারি ও মুসলিম থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের সুরের প্রশংসা করেছেন এভাবে— ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নামাজ হচ্ছে হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের মতো নামাজ ও সবচেয়ে প্রিয় রোজা হচ্ছে দাউদ আলাইহিস সালামের মতো রোজা। দাউদ আলাইহিস সালাম রাতের প্রথম অর্ধেক সময় ঘুমাতেন, তারপর এক-তৃতীয়াংশ নামাজে কাটাতেন এবং এক–ষষ্ঠাংশ আবার ঘুমিয়ে কাটাতেন। এক দিন পরপর রোজা রাখতেন। আর শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কখনো ভয়ে পালাতেন না।’

মোহনীয় সুরের কারণে হজরত দাউদ (আ.) কিয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত হবেন। তাঁর হৃদয়কাড়া সুরে জান্নাতের অধিবাসীরা মুগ্ধ হবে। স্বয়ং আল্লাহ তাঁকে সুরের ঝংকার তুলে মুগ্ধ করার আদেশ দেবেন এবং নিজেও শ্রবণ করবেন। আল্লামা ইবন কাসির রাহমাতুল্লাহি আলাইহ বলেন—

হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম কিয়ামতের দিন আরশে আজিমের স্তম্ভের কাছে দণ্ডায়মান থাকবেন। আল্লাহ তখন বলবেন, হে দাউদ! দুনিয়ায় তুমি যে মধুর সুরে আমার প্রশংসা ও মহত্ত্ব প্রকাশ করতে, সে রকম মধুর সুরে আজ আমার প্রশংসা ও মহত্ত্ব প্রকাশ করো। দাউদ বলবেন, হে আল্লাহ! আপনি তো সে সুর আমার থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন। এখন আমি কীভাবে প্রশংসা করব। আল্লাহ বলবেন, আজ আমি আবারও তোমাকে সে সুর ফিরিয়ে দিচ্ছি। সুতরাং প্রশংসা করো। এরপর দাউদ সুমধুর সুরে প্রশংসা করবেন। আর সে সুরে জান্নাতবাসীরা মুগ্ধ হবেন।’ (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা: ৬১৮)

এমএ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর