রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

ভূমিকম্পের সময় নামাজ ভেঙে দেওয়া যাবে?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ভূমিকম্পের সময় নামাজ ভেঙে দেওয়া যাবে?

ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো নামাজ। নির্ধারিত সময়ে তা আদায় করা ফরজ। পূর্ণ মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ পড়তে উৎসাহিত করে ইসলাম। এরপরও কিছু ক্ষেত্রে নামাজ ভেঙে দেওয়ার অবকাশ দিয়েছে শরিয়ত। তার মধ্যে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় অন্যতম। 

কোনো ব্যক্তির নামাজ আদায়কালে যদি ভূমিকম্প শুরু হয় এবং যদি তার ধারণা হয় যে, পালিয়ে গেলে তবেই বাঁচা যাবে, সেক্ষেত্রে নামাজ ছেড়ে দেওয়া তার ওপর আবশ্যক। তবে ওই নামাজ বিপদশেষে পড়ে নিতে হবে। (সুরা বাকারা ২৩৯ আয়াতের তাফসির; আল-মুগনি: ৩/৯৭)


বিজ্ঞাপন


আসলে জান বাঁচানোটাই এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো যেকোনো বিপদে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে। এ বিষয়ের মূল দলিল হলো- তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না। আর ভালো কাজ করো; যারা ভাল কাজ করে আল্লাহ তাদেরকেই ভালোবাসেন। (সুরা বাকারা: ১৯২)

নামাজে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে সমস্যা আছে?
নামাজ ভঙ্গের ১৯ কারণ
অজু বারবার ভেঙে যায়, করণীয় কী?
দ্বিতীয় রাকাতেও একই সুরা পড়লে নামাজ হবে কি?

তবে, শরিয়তের বিধানটি না জানার কারণে কেউ ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ও নামাজ না ছাড়লে এবং এতে তার মৃত্যু হলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ। ইসলামে অজ্ঞতার গুনাহ মার্জনীয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয় তাদের তাওবা কবুল করা আল্লাহর জিম্মায় যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে..।’ (সুরা নিসা: ১৭) 

আলেমদের মতে, একইভাবে যদি কেউ পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার আশঙ্কা হয় বা আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার অবস্থা তৈরি হয় কিংবা পাশে কোনও শিশুকে বিষাক্ত প্রাণী ছোবল মারার আশঙ্কা থাকে তাহলেও নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে এবং এক্ষেত্রে বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করা জরুরি। (তাফসির সুরা বাকারা: ১৯২)


বিজ্ঞাপন


নারীর মসজিদে নামাজ পড়া কতটুকু শরিয়তসম্মত?
কাজা নামাজ কি তাওবা করলে মাফ হয়?
তায়াম্মুম করার নিয়ম কী, কখন করতে হবে?
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার সওয়াব

কোনো নির্যাতিত ব্যক্তি যদি নামাজ আদায়কারীর প্রতি সাহায্যের আবেদন জানায় আর নামাজ আদায়কারী যদি মনে করে, সে ওই ব্যক্তিকে জুলুম থেকে রক্ষা করতে পারবে, তাহলেও নামাজ ভেঙে দেওয়া আবশ্যক। (তিরমিজি: ৩৩৫)

ইসলাম জানরক্ষার পাশাপাশি মালের হেফাজত করারও পক্ষে। তাই মোটামুটি মূল্যের জিনিস নষ্ট বা চুরির আশংকায়ও নামাজ ছেড়ে দেওয়া জায়েজ। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক: ৩২৯১; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১০৯; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৫১; সহিহ বুখারি: ৪/৪১২) 

যেমন- দুরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে এবং যানবাহনে থাকা নিজের মালামাল চুরি বা খোয়ানোর আশঙ্কা থাকলে নামাজ ছেড়ে দেওয়া জায়েজ। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১০৯; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৫১)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শরিয়তসম্মত কারণগুলো ছাড়া নামাজ ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ থেকে রক্ষা করুন। নিজের এবং অন্যের জান বাঁচানো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ইলম দান করুন। আমিন। 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর