শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হিসাব মিলছে না শতকোটি টাকার প্রকল্পে!

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

শেয়ার করুন:

হিসাব মিলছে না শতকোটি টাকার প্রকল্পে!
  • শতকোটি টাকার প্রকল্পে ৯৮% ব্যয়, সব সেবা মেলেনি
  • অডিট আপত্তিতে ২৮ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
  • আড়াই বছর পূর্ণকালীন পিডি ছাড়াই চলেছে প্রকল্প
  • নিয়মিত হয়নি প্রকল্পের সভাবারবার প্রকল্প পরিচালক বদলে তৈরি হয়েছে সমস্যা

দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা দিতে নেওয়া হয়েছিল প্রায় শতকোটি টাকার প্রকল্প। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে বরাদ্দের প্রায় ৯৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। তবে প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নে দেখা গেছে, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও সব ধরনের সেবা সমানভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে শিশু ও পুষ্টিসেবার কয়েকটি সূচকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

‘২১টি জেলার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল ৬৫ কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ছিল ৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সংশোধিত বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৯৫ কোটি ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় আট বিভাগের ২১ জেলার প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে গর্ভকালীন সেবা বা এএনসি গ্রহণের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রসব-পরবর্তী সেবা বা পিএনসি গ্রহণের হার ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রকল্পের কয়েকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সূচকে অর্জন ৯৯ শতাংশের বেশি হলেও শিশু ও পুষ্টিসংক্রান্ত সব সূচকে একই ধরনের সাফল্য পাওয়া যায়নি। কিছু সূচকে অর্জন ৯৫ শতাংশের বেশি হলেও অন্য কয়েকটিতে তা নেমে এসেছে ৮৫ দশমিক ৬, ৭৬ দশমিক ৮ ও ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশে। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পের সব সেবা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আইএমইডি ৭২০ জনের ওপর পরিমাণগত জরিপ করে। তাদের মধ্যে ৪৮০ জন ছিলেন প্রকল্পের সেবাগ্রহীতা এবং ২৪০ জন তুলনামূলক গোষ্ঠীর সদস্য। এর পাশাপাশি ৪০ জন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার, আটটি দলীয় আলোচনা, ছয়টি কেস স্টাডি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মশালা করা হয়।

প্রতিবেদনে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক ও আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ৩ দশমিক ৭০ এবং অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ৭৭ দশমিক ২৪ শতাংশ পাওয়া গেছে। আর্থিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ১ দশমিক ২৩২ এবং আর্থিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

তবে প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু দুর্বলতার কথা উঠে এসেছে আইএমইডির প্রতিবেদনে। প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের পরও কয়েক মাস প্রকল্প পরিচালক হিসেবে পূর্ণকালীন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন না।

আইএমইডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত উপসচিব ড. আবুল হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদ আলী অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন।

এতে প্রকল্প পরিচালনায় প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও সমন্বয় ব্যাহত হয়েছে বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বানের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০১৯ সালের মার্চে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হলেও প্রকল্পের শেষ সময় পর্যন্ত কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন ও চালুর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কারিগরি প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও প্রকল্প পরিচালনা কমিটির সভাও নিয়মিত হয়নি। ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমন্বয় ছিল না বলে আইএমইডির মূল্যায়নে উঠে এসেছে।

প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৯৫ কোটি ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থের অংশ ছিল ৬২ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং পরিবার পরিকল্পনা সমিতির নিজস্ব অর্থায়ন ছিল প্রায় ৩৩ কোটি ৮ লাখ ২ হাজার টাকা।

প্রকল্পের রাজস্ব খাতের ব্যয়ের মধ্যে সম্মানী ও পারিশ্রমিক বাবদ ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, ওষুধ ও টিকা বাবদ ৫ কোটি ৯৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা, স্যাটেলাইট ক্লিনিক পরিচালনায় ১ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সভা বাবদ ২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এবং প্রশিক্ষণে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

মূলধন খাতে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এতে ৪ হাজার ৫০৮টি সরঞ্জাম কেনা হয়। এ ছাড়া ১২টি জেলার জন্য ১২টি অ্যাম্বুলেন্স কিনতে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।

করোনা মহামারির সময়ও প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রকল্পটিতে ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ টাকার চারটি অডিট আপত্তি ওঠে। এর মধ্যে করোনাকালে স্যাটেলাইট ক্যাম্পে যাতায়াত বাবদ ১২ লাখ ১৭ হাজার ৯৬০ টাকা এবং প্রশিক্ষণের নামে ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে। এ ছাড়া ডিপিপিতে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়ায় হলরুম ও সাউন্ড সিস্টেম বাবদ ১ লাখ ৯ হাজার ৬২০ টাকা এবং আর্থিক ক্ষমতার বাইরে মোটরগাড়ি মেরামতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকা ব্যয়ের বিষয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে।

এর আগে ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরেও প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আটটি অডিট আপত্তি উঠেছিল। পরে সেগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরের চারটি আপত্তি মূল্যায়নের সময় পর্যন্ত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় ছিল।

প্রকল্পটি গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা না করার বিষয়ে প্রকল্প কার্যালয়ের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার বাধ্যবাধকতা ছিল না। অডিট আপত্তিগুলোর জবাবও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার সুপারিশ করেছে আইএমইডি। একই সঙ্গে প্রকল্পের শুরু থেকেই বড় প্রকল্পে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও সুপারিশ রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা সমিতির নিজস্ব অর্থ ও সেবার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিস্থাপনের জন্য আলাদা তহবিল গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এ জন্য পৃথক কাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

আইএমইডি আরও বলেছে, এ ধরনের প্রকল্পকে দেশের বিদ্যমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। তথ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং ওষুধ সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের প্রায় পুরো অর্থ ব্যয় হলেই সেটিকে সফল বলা যায় না। প্রকল্পের মাধ্যমে নির্ধারিত জনগোষ্ঠী কতটা কার্যকর ও মানসম্মত সেবা পেয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জিত হয়েছে, সেটিই সাফল্য মূল্যায়নের প্রধান বিষয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতেই সম্ভাব্যতা যাচাই, সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প নেওয়ার আগে বাস্তবভিত্তিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, পরিমাপযোগ্য ফলাফল নির্ধারণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির (বিএনটিটিপি) কনভেনর স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ড. রুমানা হক ঢাকা মেইলকে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় সমস্যা শুরু হয় প্রকল্প তৈরির পর্যায় থেকেই। অনেক ক্ষেত্রে যারা প্রকল্প তৈরি করেন, তাঁদের প্রকল্প প্রণয়ন, কার্যক্রম নির্ধারণ ও সেই অনুযায়ী বাজেট তৈরির বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা থাকে না। ফলে পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়নের অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতাও অর্থ ব্যয়ের বড় বাধা। তিন বা পাঁচ বছরের প্রকল্প হলেও বাজেট প্রতিবছর অনুমোদন করতে হয়। অনেক সময় প্রথম বছরে পরিকল্পিত কাজ শুরু করা যায় না। পরে সেই অর্থ পরবর্তী বছরে পুনর্বিন্যাস করতে গিয়ে আবার সময়ক্ষেপণ হয়। এর সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বা ব্যবস্থাপনায় থাকা কর্মকর্তাদের পরিবর্তন হলে নতুন কর্মকর্তাদের প্রকল্প বুঝতেও অতিরিক্ত সময় লাগে।

তিনি বলেন, প্রকল্প তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি, প্রয়োজন ও বিদ্যমান সমস্যার গভীর বিশ্লেষণ করা জরুরি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয় না। ফলে পরিকল্পনায় ঘাটতি থেকে যায়। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা রয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রমের সঙ্গে নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোডের মিল না থাকলে অনেক সময় বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করা যায় না। স্বাস্থ্য খাতের ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রীর মতো বিষয়গুলো অন্য মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনৈতিক কোড দিয়ে পরিচালনা করায় জটিলতা তৈরি হয়।

ড. রুমানা হক আরও বলেন, স্বাস্থ্য প্রকল্প তৈরির দায়িত্ব অনেক সময় ক্লিনিক্যাল চিকিৎসকদের ওপর দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পে জনস্বাস্থ্যের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বদলে চিকিৎসাকেন্দ্রিক কার্যক্রম বেশি গুরুত্ব পায়। অথচ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক, উন্নয়নমূলক ও চিকিৎসাসেবার সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। প্রকল্পগুলো অনেক সময় বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি থেকে যায়। এ সমস্যা কাটাতে প্রকল্প তৈরির সময় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল যুক্ত করা, বাস্তব পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ মতামত কাজে লাগানো এবং প্রকল্পের কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কোড নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা ও সমন্বিত জনস্বাস্থ্যভিত্তিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর