- ৩ কোটি টাকার কনটেইনার গায়েব
- বন্দরে একের পর এক চুরি
- তদন্ত কমিটি, ফলাফল শূন্য
- সিসিটিভির মাঝেই কনটেইনার উধাও
- আতঙ্কে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড়ভর্তি একটি বড় কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সংঘটিত এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে বন্দরজুড়ে। আমদানি-রফতানিমুখি কনটেইনার চুরির এমন ঘটনা একের পর এক চলছে। ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেই দায় সারছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
কনটেইনার চুরির বিষয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকের মাঝে ধারণা থাকলেও তাদের কারও কিছুই বলার সুযোগ নেই। সামগ্রিক ব্যবসায় ক্ষতির ভয়ে মুখ বন্ধ ব্যবসায়ীদের। তাদের মুখে এখন শুধুই প্রশ্ন। যেখান থেকে মিলছে উত্তরও। কিন্তু এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এ অবস্থায় আমদানি-রফতানি নিয়ে চরম আতঙ্কে ভুগছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, কনটেইনার চুরির নেপথ্যে জড়িত খোদ বন্দরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক লোকজন। তাদের মুখে প্রশ্ন, বন্দর চত্বরের মতো সুরক্ষিত ও সিসিটিভি ক্যামেরার ভেতর থেকে বিশাল আকৃতির কনটেইনার চুরি করা একার পক্ষে কীভাবে সম্ভব? এর পেছনে টার্মিনাল অপারেটর, বন্দর ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে।
কিন্তু তারা কারা তা বলার সুযোগ নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সিসিটিভি ব্যবস্থার কারসাজিকে দায়ী করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর আগেও বন্দর থেকে এ ধরনের বেশ কয়েকটি কনটেইনার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা গায়েব হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ ধরনের প্রায় ২৫০টি কনটেইনারের হিসাব মেলাতে পারছে না। যা বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি ফুটিয়ে তোলে।
সূত্র মতে, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি-২ বার্থে কনটেইনার খালাস করে এমভি এমসিসি ডানাং। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে (কনটেইনার নং- এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) আসে সাভারের কালিয়াকৈরের রফতানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স (কাপড়ের রোল)।
আমদানিকারকের পক্ষে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।

এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান।
অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৩০ আগস্ট কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ গোল্ড স্টার গার্মেন্টেসের আমদানিকৃত কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনারটি কিপডাউন দিতে পারেননি। এরপর কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি। এরপর গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ফাঁস হয় কনটেইনারটি গায়েব হওয়ার ঘটনা। এ নিয়ে বন্দরজুড়ে তোলপাড় চলছে।
সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে তা পাওয়া যায়নি। কনটেইনারটিতে আসা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রফতানিমুখী। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে আমাদের গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রফতানি পণ্য বায়ারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।
এই ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের অভিযোগের পর শুনেছি বন্দর কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের কমিটি করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কনটেইনারটির কোনো হদিস দিতে পারছে না। বারবার কনটেইনার চুরির ঘটনা ঘটলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম ঢাকা মেইলকে বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে, পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে। একটি ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একের পর এক কনটেইনার চুরির ঘটনা
কনটেইনার চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়, চলতি বছরে অন্তত চারটি কনটেইনার চুরির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢ-৮১-০০০৩ নম্বরের একটি ট্রেইলার ব্যবহার করে মেসার্স প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সাবেক জেটি সরকার সাইফুল ইসলাম মজুমদারের যোগসাজশে বন্দর থেকে বের করে নেওয়া হয় তিন কোটি টাকা মূল্যমানের এক পণ্যের কনটেইনার।
তার সহযোগী হিসেবে কাজটি করেন একই সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের আরও দুই জেটি সরকার মোরশেদ আলম ও সাইদুর রহমান। এতে বিপদে পড়েন আমদানিকারক ও লোকাল সিএন্ডএফ এজেন্ট। মূলত রাতের এই সময়টিতে বন্দরের নিরাপত্তা তদারকি তুলনামূলক শিথিল থাকার সুযোগেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলার নথিপত্র থেকে মিলেছে এ তথ্য।
বন্দর থানা সূত্র জানায়, ঘটনার পর মোরশেদ আলম ও সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযোগের তীর যার দিকে, সেই সাইফুল ইসলাম মজুমদারকে ঘিরে রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৭ সালেই তার জেটি সরকার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় কীভাবে বন্দরে প্রবেশ করছেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এছাড়া তার নাম মামলার কপিতে না থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য।
এ বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও সাড়া মেলেনি।

তদন্তের নামে ভাওতাবাজি!
চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ওঠানামা করে হাজার হাজার কনটেইনার। এগুলো হ্যান্ডলিং নিয়ন্ত্রণ করেন জেটি সরকার। যাদের দায়িত্ব বন্দর থেকে পণ্য খালাসের সময় সিএন্ডএফ এজেন্টের পক্ষে সমন্বয় করা। কিন্তু এই দায়িত্বই এখন পরিণত হচ্ছে অনিয়মের হাতিয়ারে। ঘটছে অহরহ চুরির ঘটনা।
যা নিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও ফলাফল শূন্য। যা পুরো ভাওতাবাজি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বরং ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, কাস্টমসের ডিউটি ও বন্দরের সব চার্জ পরিশোধের পরও কনটেইনার গায়েব হয়, এটা কীভাবে সম্ভব? ভুয়া ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে বা ডিজিটাল কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেমে
কারসাজি করছে কারা?
জেটি সরকারের কার্যক্রম তদারকির সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, প্রবেশ-বাহিরের বায়োমেট্রিক নজরদারি এবং লাইসেন্স বাতিলের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা কার্যকরেও পরামর্শ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম ঢাকা মেইলকে বলেন, বন্দরকর্মী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া একটি কনটেইনার ছাড়ার সুযোগ নেই। শুধু শ্রমিকদের আটক করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ আল আমিন ঢাকা মেইলকে বলেন, সাধারণত একটি কনটেইনার বন্দর থেকে বের হওয়ার আগে একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়। কাস্টমসের পরিদর্শনসংক্রান্ত তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস গ্রুপ ঘোষিত পণ্যের মূল্য, এইচ এস কোড এবং প্রযোজ্য আইন যাচাই করে শুল্ক ও কর নির্ধারণ করে।
শুল্ক-কর পরিশোধের পর শিপিং এজেন্ট ডেলিভারি অর্ডার দেয় এবং পণ্যের কাস্টডিয়ান হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেলিভারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। একটি কনটেইনার ছাড়পত্র পাওয়ার আগে বিভিন্ন ধাপে এবং একাধিক চেকপয়েন্টে কাগজপত্র যাচাই করা হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বন্দর থেকে পণ্য বের হওয়ার আগে কাস্টমস চূড়ান্ত যাচাই করে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কোন পর্যায়ে কথিত অনিয়ম ঘটেছে, তা তদন্ত করে বের করতে হবে বলে জানান তিনি। কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বা শিপিং এজেন্টের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
জালিয়াতি হচ্ছে যেভাবে
এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজে করে বন্দরে আসার পর কনটেইনারটি এনসিটি-২ জেটিতে খালাস করা হয়। পরে এটি সাইফ পাওয়ার টেক এলটিডি পরিচালিত সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়। কাস্টমসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট সেটি সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কনটেইনারটির সেখানেই থাকার কথা।
কিন্তু মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১১ আগস্ট এন-৪ সিস্টেমে কনটেইনারটির অন-ডেট, অন-চ্যাসিস ডেলিভারি দেখানো হয়। সিস্টেমে দেখা যায়, বন্দরের ম্যানিফেস্ট শাখার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের হাই এক্সটার্নাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নেয়ামুল হক সরকার ১৪৫৩২ নম্বর কর্মী আইডি ব্যবহার করে সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে এন্ট্রিটি করেন।
তবে এজাহারে নেয়ামুল হক নিজে কনটেইনার সরানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কোনো অভিযোগ নেই। শুধু বলা হয়েছে, তার কর্মী আইডি ব্যবহার করে ডিজিটাল এন্ট্রি করা হয়েছে। কে প্রকৃতপক্ষে এন্ট্রিটি করেছেন এবং কার নির্দেশে করেছেন, এখন সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কনটেইনার সরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে আরও একটি বড় অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
বন্দর কর্মকর্তারা অন-ডেট, অন-চ্যাসিস অ্যাসাইনমেন্টের একটি কপিতে ৪০ নম্বর সিরিয়ালের বিপরীতে থাকা স্বাক্ষর পরীক্ষা করে দেখেন। সেটি সিসিটি-এনসিটি ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. ইস্কান্দার ফারুকের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, কাগজপত্র আসল বলে দেখাতে ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। এতে তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে: স্বাক্ষর যদি জাল হয়, তাহলে সেই কাগজের ভিত্তিতে বন্দরের ডিজিটাল সিস্টেমে কীভাবে মুভমেন্ট এন্ট্রি তৈরি হলো এবং সেই এন্ট্রির ভিত্তিতে কনটেইনারটি কীভাবে বাস্তবে বন্দর থেকে বেরিয়ে গেল? তদন্ত কর্মকর্তারা অবশ্য তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা
চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে একের পর এক কনটেইনার চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এ পর্যন্ত সংঘটিত সব কয়টি চুরি সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল থেকে হয়েছে। যা পরিচালনা করছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত সাইফ পাওয়ারটেক।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কনটেইনার চুরির ঘটনা শ্রমিকদের রক্তঝরা ঘাম আর দেশের ব্যাংকিং লোনে পরিচালিত ব্যবসায় কোটি টাকার বড় ধাক্কা। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ মজুর ও অর্থনীতি। যা সামলাতে মাশুল গুনতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতি মাসে কনেটইনার গায়েবের ঘটনা ঘটছে, যা সত্যিই উদ্বেগ ও আতঙ্কের।সম্প্রতি গায়েব হওয়া কনটেইনারের সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, একের পর এক কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা সত্যিই আতঙ্কিত। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখনো এ ধরনের প্রায় ২৫০টি কন্টেইনারের হিসাব মেলাতে পারছে না বলে জানান তিনি।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘কনটেইনারগুলো কীভাবে বন্দর থেকে বের হচ্ছে এবং বন্দর বা টার্মিনালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব ঘটনার সাথে জড়িত আছে কি না, তা নজরে রাখছে পুলিশ।’
আইকে/জেবি




