রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অব্যবস্থাপনা আর খানাখন্দ সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৫ এএম

শেয়ার করুন:

accident
সড়কে খানাখন্দে বাড়ছে দুর্ঘটনা। ছবি: ঢাকা মেইল
  • প্রাণহানি বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ
  • হঠাৎ ব্রেক ও দিক পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্ঘটনা
  • ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা পরিস্থিতিকে করছে জটিল
  • সমন্বিত পরিকল্পনা ও কঠোর মনিটরিংয়ের তাগিদ

দেশজুড়ে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক, রেল ও নৌপথে অবকাঠামোর দুর্বলতা, চালকের অদক্ষতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণে সড়ক পরিস্থিতি ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশগুলো আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, যার ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও ধীরগতির যান চলাচলের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই বড় বড় গর্ত, দেবে যাওয়া অংশ এবং অনিয়মিত সংস্কারের চিত্র। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। যানবাহনগুলোকে এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে হঠাৎ ব্রেক দিতে হচ্ছে বা দিক পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যার ফলে সংঘর্ষ ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের খানাখন্দ সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। এই ভাঙাচোরা রাস্তা চালকের দক্ষতা বা সতর্কতার ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অনেক সময় অল্প ভুলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।

রাজধানীতে বাস চালান সুজন মিয়া। তিনি জানান, রাস্তার অবস্থা খারাপের কারণে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব হয় না। প্রতিনিয়ত গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে কষ্ট হয়। অনেক সময় হঠাৎ করে ব্রেক করতে হয়, এতে যাত্রীদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, রাস্তা ভালো থাকলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতিতে চালক সাবধান হলেও অনেক সময় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় না।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতিদিনই সড়কের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। খানাখন্দ, যানজট এবং বেপরোয়া গতির কারণে যাত্রা অনেক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং, অদক্ষ চালক এবং দুর্বল সড়ক অবকাঠামো। সংগঠনটির মতে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, বরং রাস্তার গুণগত মান উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলছে, সড়কের খারাপ অবস্থা চালকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা অনেক সময় দুর্ঘটনার দিকে ঠেলে দেয়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সড়ক আলোকসজ্জা, সাইনেজ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাবও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


সংস্থাটি বলছে, চলতি বছর ঈদযাত্রায় আট দিনে ২৬৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত এবং ছয়শো'র বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ দুপুর পর্যন্ত এ তথ্য সংগ্রহ করেছে।

Accident11

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার কম না থাকলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত। এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার প্রবণতা গতবারের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তদারকির অভাব এবং শৃঙ্খলার ঘাটতি দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার কম না থাকলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত।

অন্যদিকে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযান চালালেও পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, এখনো দেশের একটি বড় অংশের যানবাহন ফিটনেস সনদবিহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। একই সঙ্গে অনেক চালকের বৈধ লাইসেন্স নেই বা তারা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। সরকারি তালিকায় অনেক দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সরকারি তালিকায় নেই।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যেও সড়ক পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, আহত ও পঙ্গুত্ববরণের সংখ্যা আরও বেশি। সংগঠনটির মতে, ঈদ ও ছুটির সময় দুর্ঘটনার হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়, কারণ তখন একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন এবং অনেক সময় অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি ও চালকের ক্লান্তি দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ২১.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। ঈদযাত্রার সময় জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২ হাজার ১৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এবারের ঈদেও সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ। নিহতদের মধ্যে চালক ৭১ জন, শিশু ৫৫ জন, পথচারী ৫৪ জন, নারী ৫১ জন এবং শিক্ষার্থী ৪২ জন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৫.৮৩ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৩২.৩৬ শতাংশ পথচারীকে চাপা দিয়ে, ২২.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং বাকি অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কেই বেশি ঘটেছে।

‎যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার শপথ গ্রহণের ২ দিন পরে রমজান শুরু, এক মাসের মাথায় ঈদযাত্রা। সরকার নতুন হলেও পুরোনো আমলা, পূর্বের মাফিয়া নেতাদের অনুসারী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের বর্তমান সরকার সমর্থিত নেতাদের চাপে আওয়ামী লীগ সরকারের মতো এবারও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, বিআইডাব্লিউটিএসহ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় লাখো যাত্রীর পক্ষে কথা বলার মতো যাত্রী ও নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।

মোজাম্মেল হক বলেন, পরিবহন মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা লুফে নিতে এমন অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন প্রভাবমুক্ত থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছিল যা সর্বমহলে প্রশংসা পেয়েছে। এবারের ঈদে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবহনের বিশৃঙ্খলা অতীতের দুটি ঈদের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রিত। ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পদ্ধতি অনুসরণের কারণে সড়ক পরিবহন সেক্টরে সরকারের কিছু কিছু কর্মকাণ্ড ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

সেভ দ্য রোডের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানেও সড়কের চিত্র আরও উদ্বেগজনকভাবে উঠে এসেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে দুর্ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, প্রশাসনিক অবহেলা এবং পরিবহন খাতের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

সংস্থাটি বলছে, ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ১৫ দিনে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৫৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ১৬ থেকে ৩০ মার্চ সময়কালে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩ হাজার ৫০১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৯ জন। সংগঠনটি বলছে, এ সময় পরিবহন খাতে চরম বিশৃঙ্খলা, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনের কিছু অংশের অবহেলা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদের সময়কালে ১ হাজার ৯৩৭ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ২৯৪ জন। ষাটোর্ধ্ব বয়সী ৮১১ জন পুরুষ আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ১১২ জন। এছাড়া ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে ১ হাজার ১১১ জন আহত হয়েছেন এবং ১৮১ জন নিহত হয়েছেন।

নৌপথেও দুর্ঘটনার চিত্র উদ্বেগজনক। কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১০২টি নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ১০৩ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৫ জন। রেলপথে ২০টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২১০ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৪ জন।

সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা জানান, ঈদের সময় অদক্ষ ও ক্লান্ত চালকদের কারণে দুর্ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের হতাহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে পরিবহন খাতে যে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছিল, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাদের মতে, দায়িত্বশীলদের অদক্ষতা, অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের দুর্নীতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

shariatpur01

শান্তা ফারজানা বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্নীতি দমন, আইন প্রয়োগের কঠোরতা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পরিবহন খাতে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। তাদের মতে, অতিরিক্ত গতি, অতিরিক্ত বোঝা বহন এবং মানবিক ভুল সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। এর পাশাপাশি অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালকের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং সড়কের ত্রুটিপূর্ণ নকশাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পুলিশের গবেষণা অনুযায়ী, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশের জন্য দায়ী।

রেলপথে গেটম্যানের ঘাটতি, অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দুর্ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৮২ শতাংশ রেলপথ এখনো অরক্ষিত। একইভাবে নৌপথে অরক্ষিত পন্টুন, রেলিংয়ের অভাব, ঘাট এলাকায় বিশৃঙ্খল যান চলাচল এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞ, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। ঈদকেন্দ্রিক সময়ে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবহন খাতে এখনো সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে, তাই অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা ও তদারকি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

এএইচ/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর