রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

‘সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা দুর্ঘটনার মূল কারণ’

আব্দুল কাইয়ুম, বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

hadiujjaman
অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। ছবি: ঢাকা মেইল

সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে গতিকে সাধারণত দায়ী করা হলেও এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক এই পরিচালক মনে করেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। সড়কে যে সমস্যা এর পেছনে ৫ শতাংশ বিজ্ঞান হলেও ৯৫ শতাংশ রাজনৈতিক বলে মনে করেন তিনি। এজন্য সড়ক নিরাপদ করতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ এবং তা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ঢাকা মেইলের কাছে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বোরহান উদ্দিন ও নিজস্ব প্রতিবেদক একে সালমান

‎ঢাকা মেইল: এবারের ঈদের লম্বা ছুটিতে একের পর এক দুর্ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। আপনার দৃষ্টিতে দুর্ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে, নাকি নিয়ন্ত্রিত আছে?‎

‎ড. হাদিউজ্জামান: সাধারণত ঈদকেন্দ্রিক যে দুর্ঘটনার চিত্র আমরা দেখি, এবারের দুর্ঘটনা তার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি বছর দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানটা ভারী হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, ঈদের সময় মানুষের যে চাপ, সে চাপটা আসলে নগরকেন্দ্রিক। মানুষ জীবিকার জন্য ক্রমাগত ঢাকা শহরে ঢুকছে। পরিসংখ্যান বলে, প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার মানুষ জীবিকার জন্য ঢাকায় আসে এবং তারা ঢাকায় থেকে যাচ্ছে। আমাদের জিডিপির ৪০ শতাংশ ঢাকা থেকে দিচ্ছে। ঢাকা শহরে যানজট হচ্ছে। দুর্ঘটনার একটা কারণ হচ্ছে, জনসংখ্যার চাপ। ঈদ আসার কারণে, মানুষের চাপ ও গণপরিবহনের সংকট এবং এই চাপ আসার কারণে আমরা দেখছি যাত্রীরা যানজটের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। পুরো পরিবহন খাত ও তাদের নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। ঈদ উৎসব এলে একটা বড় জনসংখ্যা গ্রামের বাড়িতে ছুটে যায়। এতে দেখা যায়, দুর্ঘটনা বাড়ছে।

‎এবারের ঈদে আমরা দেখেছি কোথায়ও খালি নেই। সড়কপথ, রেলপথ, নৌপথ সব জায়গায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ মানুষ। এবার ঈদে বেশ কয়েকটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। এবার আমরা দেখলাম দুর্ঘটনার যেমন সংখ্যা বেড়েছে, তেমনি ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়েছে। নতুন করে সড়কে শত শত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যার ফলে, আমাদের দুর্ঘটনাগুলোর ভয়াবহতার মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ‎

‎ঢাকা মেইল: দুর্ঘটনা কেন বাড়ছে। আপনাদের গবেষণায় কী উঠে এসেছে?

‎ড. হাদিউজ্জামান: প্রথমে একটা জিনিস বলে নিই। আমাদের পলিসি মেকার যারা আছেন, তাদের আমরা বলতে শুনি যে, মাত্রাতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চলাচলের জন্য দুর্ঘটনা হচ্ছে। আমি এটা বলবো যে, এটা একটা উপসর্গ। আপনি সড়ক তৈরি করছেন, হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন মূলত গতি বাড়ানোর জন্য। আমরা বিগত দেড় যুগে অনেক এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করেছি, দুই লেন থেকে চার লেনের সড়ক নির্মাণ করেছি। আপনি এক্সপ্রেওয়ে তৈরি করছেন, দুই লেন থেকে চার লেন সড়ক বানাচ্ছেন, সড়ককে প্রশস্ত করছেন এবং অনেক সড়ক চকচকে করছেন। গতি বাড়ানোর জন্য আপনি লাখ, কোটি বিনিয়োগ করছেন। আবার দুর্ঘটনা ঘটলে গতিকে দোষ দিচ্ছেন। এটা আসলে দ্বিচারিতা। ‎


বিজ্ঞাপন


‎দুর্ঘটনা আসলে গতির কারণে হচ্ছে এটা বলা যাবে না। আসলে সড়কে সমস্ত ঝুঁকি রেখে আমরা গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের ব্যবস্থাপনায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। যেমন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় কোনো পরিবর্তন হয়নি, চালক ব্যবস্থপনায় পরিবর্তন হয়নি, মালিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হয়নি, যানবাহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হয়নি, এমনকি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। যারা আসলে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা তারা নিয়ন্ত্রক হয়ে গেছে। ‎পরিবহন খাত এখন আর বিআরটিএ নিয়ন্ত্রণ করছে না। এ খাতে মুঘল আছে। তারা পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করছে। আপনি অটোরিকশার কথা বলেন, ট্রাক বলেন, বাস বলেন, এখানে অনেক মুঘল আছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মূল কারণ হলো- ব্যবস্থাপনায় চরমভাবে অবহেলা। এবারের ঈদে যে কয়টা দুর্ঘটনা ঘটেছে, এর মূল কারণ ছিল- অব্যবস্থাপনা। ব্যাপক অবস্থাপনা।‎

‎আমরা দৌলতিয়া ফেরি ঘাটে এবারের যে দুর্ঘটনা দেখলাম, এটাতে চরমভাবে অব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে। এমনিতে যখন সড়ক থেকে বাস ফেরিতে উঠবে তখন প্রায় সব বাসেই দেখা যায়- চালক গাড়ি থেকে নেমে দোকানে চা সিগারেট খাচ্ছে। আর হেলপার চালিয়ে ফেরিতে গাড়ি তুলছে। ফেরি থেকে গাড়ি নামার সময় দেখা যাচ্ছে, হেলপার বাস নামাচ্ছে। কিন্তু ঘাট ব্যবস্থাপনায় যারা আছে এটা তো তাদের দেখার কথা। সরকারের বয়স মাত্র দেড় মাস। কিন্তু যারা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে তাদের বয়স তো দেড় মাস না। তারাতো যুগের পর যুগ ফেরি পরিচালনার দায়িত্বে আছে। তাহলে এই অব্যস্থাপনা কেন হবে? সদরঘাটে দেখলাম, দুইটা লঞ্চের মাঝখানে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এটাতো পুরোপুরি অব্যস্থাপনার ফসল। এটাতো লঞ্চঘাটের দায়িত্বরতরা আছে। এটা দেখভালের দায়িত্ব তাদের। সরাসরি সরকারি নির্দেশনা আছে, ঈদের আগে সদরঘাটে কোনো ডিঙ্গি নৌকা চলতে পারবে না।

‎‎এই যে সারাদেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনাগুলো ঘটল, সব অব্যস্থাপনার জন্য হয়েছে। আমাদের দেশে লঞ্চঘাট ও ফেরি দেখভালের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও সরকারি সংস্থা আছে। রেল দেখভালের জন্য রেলওয়ে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে। আপনি যখন দুর্ঘটনায় দায়মুক্তি চাইবেন, তখন সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালকের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া, রেল দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যানের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়।

‎আমরা দেখি যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন দায়টা মূলত এসব ছোট পদে যারা আছে তাদের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। বড় বড় অফিসারদের দিয়ে একটা তদন্ত কমিটি করা হয়। এরপর এসব ছোট পদের লোকদের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। অথচ সরকার কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। আমরা দেখেছি গত দেড় যুগে রেলের পেছনে সরকার কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু কিছু হলেই দেখি, বাসের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লাগছে, ট্টেন লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে, কখনো কখনো ট্রেন বগি ছুটে যাচ্ছে। তাহলে এত কোটি টাকার বিনিয়োগ করে ব্যবস্থাপনায় যাদের রাখা হলো, তারা কী করছে?

‎উন্নয়ন মানে শুধু ফ্লাইওভার আর সড়ক বানানো না। উন্নয়ন করতে হলে ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে। দুর্ঘটনার ধরন এখন অনেক বেশি। প্রতিটা দুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যায় এটা নিয়ে গবেষণা না হয়ে গবেষণা হওয়া উচিত- আরও কেন দুর্ঘটনা হচ্ছে না। শত শত ঝুঁকির মধ্যে আরও দুর্ঘটনা হওয়ার কথা।

‎ঢাকা মেইল: উৎসবের ছুটিতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় বেশি থাকে। কোনো দুর্ঘটনার পর দেখি অদক্ষ চালকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতি পরিবর্তন আনা সম্ভব কি না?

‎ড. হাদিউজ্জামান: অবশ্যই পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে, এ পরিবর্তনটা শুধু ঈদকেন্দ্রিক হওয়া উচিত না। আপনি ব্যবস্থাপনাটা দরদ দিয়ে সারা বছর করতে হবে। এই যে ফিটনেসের কথা বলছেন, আমরাতো রাজধানী ঢাকায় দেখি- সবচেয়ে আনফিট গাড়িগুলো চলছে। একদিকে লক্কর ঝক্কর বাস এবং বাসগুলোর ছাল বাকল নাই। এ বাসগুলো রাজধানী ঢাকায় সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই চলছে। আপনি সারা বছর বাসগুলোর রুট পারমিট আছে কি না সেটা দেখছেন না, চালকের উপযুক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না, সারা বছর মহাসড়কের পাশে অবৈধ হাটবাজার বসে আছে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এটা একটা বড় ঝুঁকি। কিন্তু সেখানে আপনি সারা বছর নিয়ন্ত্রণ করছেন না। অথচ, ঈদ এলে সরকার বড় হুঁশিয়ারি দেয়- হাট বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হবে, অটোরিকশা বা ধীরগতির যানবাহন সড়কে উঠতে দেব না, ট্রাক দিয়ে আপনি যাত্রী পরিবহন করতে দেবেন না। এটা শুধু ঈদকেন্দ্রিক কেন হয়? সারা বছরই তো এরকম থাকার কথা। ঝুঁকি মানে সব সময় ঝুঁকি। সমস্যাটা এ জায়গায়। সারা বছর সড়কে যে কালচার ধরে রাখছেন, ঈদের সাত দিনের মধ্যে রাতারাতি সে কালচার পরিবর্তন হয়ে যাবে? টাকা থাকলে আপনি একটা বাস কিনতে পারবেন। কিন্তু টাকা দিয়ে রাতারাতি ভালো মানের একজন চালক তৈরি করা যায় না।

Road2
দেশের সড়কে নেই শৃঙ্খলার কোনো বালাই। ছবি: সংগৃহীত

‎একজন চালক হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, স্বশরীরে গাড়ি চালানোসহ নানা রকম পরীক্ষা দিতে হয়। এটাতো রাতারাতির বিষয় না। সমস্যাটা হচ্ছে এ জায়গায়। যারা আমাদের নীতি নির্ধারক আছেন, তারা মনে করেন- উৎসবে বা ঈদে একটা চাপ তৈরি হবে। আমি বিশৃঙ্খলা ঠেকাবো। আসলে পুরো বছর আপনি বিশৃঙ্খলা ঠেকালে ঈদের আগে আর এমন পরিবেশে পড়তে হবে না। অটোমেটিক দেখবেন সড়কে একটা শৃঙ্খলা চলে আসবে। এ ব্যবস্থাপনাটা সারা বছর ধরে হওয়ার কথা। কিন্তু আপনি সারা বছর কিছু করছেন না। ঈদ এলেই রাতারাতি সব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন করতে চান। এটা ভাবাটাও বিজ্ঞানসম্মত না।

‎ঢাকা মেইল: আমরা দেখি, শখের মোটরসাইকেল অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ আসলে কীভাবে সম্ভব এবং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হারটা কেন বেশি?‎

‎ড. হাদিউজ্জামান: সারাদেশে যে পরিমাণ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে, তার মধ্যে ৩০-৪০ ভাগ মানুষ মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী। যে দেশগুলোতে সড়ক ব্যবস্থাপনা ব্যাপক উন্নত, লেনভিত্তিক প্রতিটি গাড়ি আলাদা আলাদা চলে, চালক দক্ষ; সে দেশগুলোতে আমরা দেখি- দুই চাকার বাহন অর্থাৎ মোটরসাইকেল চার চাকার বাহনের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত দেশগুলো এটা বললে আমরা সেখানে কোথায় আছি? আমাদের দেশে মিশ্র ট্রাফিকব্যবস্থা। কোনটা হালকা যানবাহন, কোনটা ভারী যানবাহন, অটোরিকশা, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি সব একসাথে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা দেখছি, অনেক চালকের উপযুক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে না৷ অনেক মোটরসাইকেল চালক আছে- তারা ভুতুড়ে চালক। যাদের বয়স এখনো ১৮ বছরের নিচে। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে বয়স হওয়ার কথা সে বয়সও হয়নি। এমন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের একটি ভিডিও আমাদের চোখে দেখেছি, একজন ১০ বছরের শিশু দুজন আরোহীকে নিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। সে আরোহীদের বয়সও ১০ বছরের নিচে।

‎যেখানে উন্নত বিশ্ব বলছে, চার চাকার বাহনের চেয়ে দুই চাকার বাহন ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে আমাদের দেশে বলতে হবে, বহুগুণ মাত্রায় আমাদের সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, আমাদের সড়কে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, মোটরসাইকেল এবং বাস ও অন্যান্য চার চাকার গাড়ির মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, চার চাকার বড় যানবাহনগুলোতে দুর্ঘটনার সময় সে দ্বিতীয় ধাপের আঘাতে নিহত হয়। কিন্তু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চালক বা আরোহী প্রথম ধাপের ইমপ্যাক্টেই নিহত হয়। কারণ সে চার চাকার বাহনের মতো লোহার খাঁচার ভেতর বসে নেই। সে খোলা যানবাহন দুই চাকার ওপর চলছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে রাষ্ট্রের পলিসি লাগবে। জানতে হবে আসল ঘাটতিটা কোথায়। ঘাটতিটা হচ্ছে মূলত আমরা গণপরিবহনটা যোগান দিতে পারিনি। সেজন্য মানুষ বিকল্প পরিবহন হিসেবে মোটরসাইকেলকে বেছে নিচ্ছে।

‎তবে সরকারের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমরা দেখি মহাসড়কে হেলমেটবিহীন আরোহী বা চালক মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। লাইসেন্স ছাড়া চালক বাস চালাচ্ছে। বিশেষ করে, ঈদের সময় মহাসড়ককে রেসিং রোড বানিয়ে ফেলছে। ঈদের সময় তারা পাল্লা দিয়ে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। ঈদ বা উৎসবে সড়ক মহাসড়কে পুলিশের যে নজরদারিটা থাকে, অন্য সময় সে নজরদারি ঢিলেঢালা হয়ে যায়। এই সুযোগে মহাসড়ক মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত করছে। এই জায়গায় মহাসড়কে বয়স নির্ধারণ করা, মহাসড়কে কত সিসির মোটরসাইকেল ওঠতে পারবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া। রাজনৈতিক সদিচ্ছায় পলিসিগুলো নেওয়া গেলে দুর্ঘটনা কমে যাবে। আবার পলিসিগুলো কেতাবি পলিসি থাকলেই হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে ধীরে ধীরে মোটরসাইকেলের মৃত্যুর মিছিল কমে যাবে।

‎ঢাকা মেইল: ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় আসলে সরকারের কেমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

‎ড. হাদিউজ্জামান: অটোরিকশা আসলে মহামারির মতো হয়ে গেছে। ২০০৩ সালের পর থেকে আমাদের দেশে চীন ও আশপাশের দেশগুলো থেকে এসব যান সড়ক ব্যবস্থপনায় ঢুকে পড়েছে। আমরা বারবার বলেছি, এ অটোরিকশাগুলো রাষ্ট্রীয় কোনো পলিসির আওতায় না আনা গেলে সেটা ক্যানসারে পরিণত হবে। আপনি অবাধে পঙ্গপালের মতো সড়কে নামতে দিয়েছেন, কোনো নিয়মনীতির আওতার মধ্যে তা রাখেননি। যিনি চালক তার কোনো প্রশিক্ষণ লাগছেনা, তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগছে না। কিস্তিতে একটা অটোরিকশা কিনে রাতারাতি সে চালক হয়ে যাচ্ছে। এখন এই অটোরিকশা কোনো জীবিকার বাহন না। একজন অটোরিকশা চালক সে জীবিকার জন্য একটা অটোরিকশা কিনে সড়কে নামছে, বিষয়টা এমন না। যেহেতু এ অটোরিকশা কিনতে আপনার বৈধ কোনো কাগজপত্র লাগছে না, ফলে যাদের কাছে কালো টাকা আছে তারা এ পথে বিনিয়োগ করে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি অটোরিকশা কিনে সড়কে নামিয়ে দিয়ে মহাজন হয়ে গেছে। তারা একসঙ্গে ২০০-৩০০ অটোরিকচার মালিক হয়ে যাচ্ছে। তারা বুঝে ফেলেছে, তারা একটা সিএনজির দাম দিয়ে অনেক অটোরিকশা কিনতে পারবে এবং সিএনজির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আয় হবে। রাষ্ট্রীয় পলিসি দুর্বল হওয়ার কারণে, রাজধানীতে অসংখ্য অটোরিকশা তৈরির গ্যারেজ গড়ে ওঠেছে। যারা দিনে ৫-৬টা অটোরিকশা তৈরি করছে। রাজধানীতে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার অটোরিকশার জন্ম হচ্ছে।

‎এই যে অবাধে তাদের জন্ম এবং শাখা সড়ক থেকে মূল সড়কে চলাচল করতে করতে এখন তারা মহাসড়কে চলে এসেছে। যতদূর তাদের চোখ যায়, ততদূর তারা অনায়াসে বাধাহীনভাবে চলে যেতে পারছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনই একটা পলিসি হওয়া উচিত যে, যারা নেমে গেছে তাদের বাদ দিয়ে যেন নতুন করে কোনো অটোরিকশা তৈরি না হয়। নতুন করে যেন সড়কে আর কেউ নামতে না পারে, সেদিকে রাষ্ট্রকে খেয়াল করতে হবে। কারণ, অটোরিকশা নামক যে শিশুটার এখনো জন্ম হয়নি আমি তাকে বৈধতা দিয়ে সড়কে নামতে দিতে পারি না।

‎বিশেষ করে, অটোরিকশা বানাতে যে সরঞ্জাম আসছে, সে জায়গায় যদি এসব সরঞ্জাম আমদানিকারকদের নিয়ন্ত্রণ করে তা বন্ধ করে দেওয়া যায়, তাহলে সড়কে কোনো গাড়ি নতুন করে নামতে পারবে না, কোনো গাড়ি আর নতুন করে তৈরি হবে না। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা যেসব ওয়ার্কশপ এসব রিকশা বানাচ্ছে, তাদের কাছে এটা মূলত একটা শিল্প। এটা এখন শিল্পে পরিণত হয়েছে। যেহেতু এটা শিল্পে রূপান্তর হলো- তাহলে কি শিল্প মন্ত্রণালয়ের এটা তদারকি করা উচিত ছিল না? অটোরিকশার যন্ত্রাংশ কৃষি যন্ত্রাংশের নামে বাণিজ্যিকভাবে দেশে আসছে। তাহলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কি এটার নজরদারি করার কথা না? আমি অনুমোদন দিয়েছি এই মোটর আনার জন্য। কিন্তু এই মোটর কোথায় সংযোজন হচ্ছে এটাতো বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শুধু অনুমোদন দেওয়া পর্যন্ত কাজ না, একই সাথে আমদানিকারক ও ওয়ার্কশপগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়াও, যেসব চার্জিং স্টেশন আছে সেগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। সে টাকাগুলো সরকার পাচ্ছে না। অটোরিকশাগুলোর চার্জিং পয়েন্টে তারা বাসা বাড়ির নামে বৈদ্যুতিক সংযোগ এনে তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। সেখানে রাষ্ট্রের লোকসানের সঙ্গে ক্ষতি হচ্ছে। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

‎এসব অটোরিকশা এখন চলাচলের জন্য একটা নীতিমালা প্রয়োজন। যেসব অটোরিকশা সড়কে চলাচল করবে তাদের কাঠামোগত স্ট্যান্ডার্ড কী হবে, যান্ত্রিকগতভাবে তাদের স্ট্যান্ডার্ড কী হবে তা নির্ধারণ করা থাকবে। এ স্ট্যান্ডার্ড না থাকার কারণে ঢাকায় অটোরিকশাগুলো বিভিন্ন আকার আকৃতি ও সাইজ তৈরি হচ্ছে। এ আকৃতির রিকশাগুলো সড়কে যানজট থেকে শুরু করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। যেসব অটোরিকশা সড়কে নেমে গেছে তাদের স্ট্যান্ডার্ড একটা নীতিমালা দিতে হবে। সে নীতিমালায় থাকবে কারা সড়কে চলতে পারবে এবং তাদের একটা নিবন্ধনের মধ্যে আনতে হবে। না হলে, এসব অবৈধ অটোরিকশাকে ঘিরে চাঁদাবাজি চলবে এবং একটি চক্র এতে লাভবান হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের করের পয়সায় রাস্তা তৈরি করে অবৈধ যানবাহন চলাচলে নীতিমালা করে নিবন্ধনের আওতায় আনলে সরকার লাভবান হবে। এ পলিসিগুলো সরকার গ্রহণ করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

‎ঢাকা মেইল: সড়কে দুর্ঘটনায় শাস্তির ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন আইন ঠিকমতো কার্যকর না করার কারণে কি বেপরোয়া যানবাহনে দুর্ঘটনা ঘটছে, আর তা তদন্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে?

‎ড. হাদিউজ্জামান: সামগ্রিকভাবে আমি বলব, সড়ক দুর্ঘটনা কেন ঘটছে এটা যদি মূল্যায়ন করতে চান, তাহলে এই রোগটা টেকনিক্যাল কোনো রোগ না। এটা একটা রাজনৈতিক রোগ। একেবারে রাজনৈতিক সদিচ্ছায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পারে। আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালক দেখছেন, রুট পারমিট ছাড়া পরিবহন দেখছেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি দেখছেন অথবা মহাসড়ের পাশে অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী মার্কেট দেখছেন, এগুলো টেকনিক্যাল জিনিসের মধ্যে নাই। কারণ, আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি এটা যদি সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড কিংবা পাশ্চাতের কোনো দেশ হতো তাহলে টেকনিক্যাল সমস্যা টেকনিক্যালভাবে সমাধান করা যেত। যেহেতু এটা বাংলাদেশ, গত ৫৪ বছরের পুঞ্জীভূত জঞ্জাল তৈরি হয়ে গেছে। পরিবহন খাত থেকে শুরু করে প্রতিটা সেক্টরে যারা নেতৃত্ব দেন তাদের 'মুঘল' আছে। আপনি টেকনিক্যাল জিনিস আর টেকনিক্যালভাবে করতে পারবেন না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এটা সম্ভব না। যার উদাহরণ আমাদের সামনে আছে।

Hadiujjaman2
ঢাকা মেইলের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। ছবি: ঢাকা মেইল

‎পতিত আওয়ামী লীগ সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চলবে না। আমরা দেখেছি সড়ক থেকে সব যানবাহন উধাও হয়ে গেছে। অথবা আপনি একটা নিয়ম করলেন, উপযুক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া সড়কে গাড়ি চালাতে দেবেন না। তখন একটা গোষ্ঠী সড়ক বন্ধ করে দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। বরং উল্টো যেটা হয়ে গেছে, সাধারণ যাত্রীরা জিম্মি হয়ে গেছে। আমাদের দেশে যে পরিবহন আইনের কথা বলা আছে, পরিবহন আইন নিয়ে আমাদের প্রত্যাশাটা বেশি ছিল। আমাদের দেশে ১৯৭৩ সালে সড়ক পরিবহন অর্ডিন্যান্স আছে, সে অর্ডিন্যান্স অনেক পুরাতন। যেহেতু আমাদের দেশে সড়ক ও যানবাহনের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, অনেক সংস্করণ এসেছে। আমরা ভেবেছিলাম ২০১৮ সালে সড়কে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার পর যথাযথ আইন তৈরি হবে। আমরা সড়ক নিয়ে আধুনিক একটা আইনের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু সে সময় তৈরি করা আইন লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে শাস্তিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

‎আমাদের তৎকালীন সরকার সড়কে শিক্ষার্থীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় বলেছিল, আমাদের চোখ খুলে গেছে। আমরা ভেবেছিলাম একটা পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এরপরই আমরা দেখলাম, সরকার আইনের কতগুলো ধারাকে এমনভাবে তৈরি করে আইনটা খণ্ডিত করা হয়েছে। এমন একটি গোষ্ঠীর চাপে আইনকে খণ্ড-বিখণ্ড ও ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল। অথচ এ আইনটার যে অবস্থা ছিল, তা সড়কে শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

‎২০১৮ সালের এই আইনের মাধ্যমে দুর্ঘটনায়কারীর শাস্তি কমিয়ে আনা হয়েছে। অনেক আইনে বলা হয়েছিল, শাস্তি হিসেবে মামলায় জামিন পাবে না। অথচ সে আইন জামিযোগ্য করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো- সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে, আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে মেরেছেন। এটা প্রমাণ করা অসম্ভব ব্যাপার। কারণ আমাদের সামনে অনেক অজুহাত চলে আসবে। হয়ত বলবে, গাড়ি ব্রেকফেল করেছে। অনেক যুক্তি দেখিয়ে এখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

‎তাই এ আইনটাকে আবারও সংস্কার করে আইনের ধারাগুলো ভালোভাবে তৈরি করতে হবে। আমার জানামতে আইনটা রিভিশন চলছে। এখন অপেক্ষা করছি, এ ধারাগুলো কী আসে। কিন্তু বিষয়টা হলো সড়কে সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক। আমরা যখন সড়কের দিকে তাকাই, দেখবেন মূল সমস্যার ৫ শতাংশ বিজ্ঞান এবং ৯৫ শতাংশ রাজনৈতিক। রাজনৈতিক সদিচ্ছায় সমস্যা সমাধান এবং আইনি সমস্যার সমাধান করতে হবে। যতটুকু আমরা পেয়েছি ততটুকু আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। নতুন সরকার এসেছে। বর্তমানে এই আইনটাকে ফাঁকফোকর বাদ দিয়ে নতুনভাবে তৈরি করা উচিত।

‎ঢাকা মেইল: উন্নত দেশগুলোতে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া কেমন হয়?

‎ড. হাদিউজ্জামান: উন্নত দেশে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা নিজে সরাসরি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয় না। বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা নিজে নিচ্ছে, কিন্তু প্রিন্টিংয়ের কাজ দিয়ে দিচ্ছে থার্ড পার্টিকে। উন্নত দেশে যেটা হয়, সাধারণত কিছু অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থাকে। যাদের পরীক্ষাগুলো নেওয়ার সক্ষমতা আছে। তারা মূলত পরীক্ষা নেয়।

উন্নত দেশে মূলত মাইনাস মার্কের মাধ্যমে একজন চালককে নম্বর দেওয়া শুরু হয়। যেমন- ১০০ মার্ক থেকে তার ভুলের জন্য নম্বর কাটা হয়। চালকের পাশে বসে থাকা ইন্সট্রাকটর কখনো চালকের ভুলের জন্য সাবধান করবে না। কোনো কথাই বলবেনা। বরং মুচকি হেসে চালকের সাথে কথা বলবে।

‎ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পরিবহন আছে। চালক যে পরিবহনের জন্য পরীক্ষা দেবে সে পরিবহনে তাকে বসানো হবে। এরপর তার পাশে একজন ইন্সট্রাকটর বসে সড়কে গাড়ি চালানোর জন্য বলবে। চালক যথারীতি গাড়ি চালানো শুরু করবে। তখন চালকের আসনের পাশে বসে থাকা ইন্সট্রাকটর দেখবে, চালক সড়কের ব্যাকরণ জানে কি না, চালক সড়কের সিগন্যাল মেনে গাড়ি চালাচ্ছে কি না। যখন সে বামে অথবা ডানে গাড়ি ঘোরাচ্ছে, তখন সে সিগন্যাল লাইটগুলো ব্যবহার করছে কি না। হুটহাট করে হর্ন বাজাচ্ছে কি না। এসব বিষয় নিয়ে চালকের পাশে বসে তার মার্ক কাটতে থাকে। ৪০ এর নিচে মার্ক চলে গেলে সে চালক ফেল বলে গণ্য হয়।

‎এরপর যেখান থেকে গাড়ি চাালানো শুরু করেছেন সেখানে গাড়িটি নিয়ে আসবেন। উন্নত দেশগুলোতে সর্বশেষ যে পরীক্ষায় প্রায় সবাই পাস করতে পারে না তা হলো- গাড়ি এসে পার্কিং করে রাখার জায়গা। এখানে এসে ভুল করবেই। পার্ক করার সময় যে পার্কিং ব্রেক আছে সেটা আপনি অ্যাক্টিভেট করলেন কি না, এটা লক্ষ্য করবে। যদি এটা না করেন আপনি পাস করলেও আপনাকে ফেল করিয়ে দেবে।

‎আমাদের দেশেও এরকম ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের আলাদা ইন্সট্রাক্টর আছে। কিন্তু বিআরটিএ সরাসরি পরীক্ষা নিচ্ছে। তাদের তো শুধু মনিটরিং করার কথা সঠিক প্রক্রিয়ায়। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা নেবে, দক্ষ ড্রাইভারকে তারা লাইসেন্স দেবে। কিন্তু বিআরটিএ ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজেরাই পরীক্ষা ধরে রাখছে। আবার তারা বলছে, আমাদের লোকবল কম। যদি লোকবল কম হয়, পরীক্ষা উপযুক্তভাবে নেওয়া না হয়, তাহলে এটা কেন ধরে রেখেছে। এসব কিছু যদি সরকার তার নিজস্ব সদিচ্ছায় পরিবর্তন করতে পারে, তাহলে দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় দুর্ঘটনা রোধসহ নানা সমস্যার সমাধান হবে।

‎বিইউ/একেএস/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর