রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

সংকট বাড়াচ্ছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:০০ এএম

শেয়ার করুন:

সংকট বাড়াচ্ছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত
পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক তেল পাচ্ছেন না। আবার কোথাও তেল এলেও তা অল্প সময়েই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

 

  • মাসিক চাহিদার তুলনায় তিনগুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে
  • বাসাবাড়িতে ড্রামে করে তেল সংরক্ষণের অভিযোগ
  • সরকার বলছে দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই
  • জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করা ঝুঁকিপূর্ণ
  • শাস্তি দিতে পিছপা হলে সরকার বিপদে পড়বে: বিশেষজ্ঞ 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড-এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত সংকটের চেয়ে আতঙ্ক ও অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতাই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে এবং এর ফলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক তেল পাচ্ছেন না। আবার কোথাও তেল এলেও তা অল্প সময়েই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকের মধ্যেই এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে-আজ না পেলে কাল পাওয়া যাবে কি না, সেই আশঙ্কায় অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে তেলের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। বরং আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা এবং ব্যক্তিগতভাবে মজুত করার প্রবণতাই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের একটি অংশ ট্যাংক পূর্ণ করার পাশাপাশি আলাদা করে তেল সংগ্রহ করে বাসা বা অন্যত্র সংরক্ষণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে এবং পাম্পগুলো দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে।

picture_20260325_211738388রাজধানীর গাবতলী ও শাহআলীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল আনলেও তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কে কত তেল নিচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেখানে তার দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ৭০০ লিটার, সেখানে এখন প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার তেল আনতে হচ্ছে। তবু তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

শাহআলী ফিলিং স্টেশন সূত্র জানায়, তারা একদিনে সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন এনে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করে ফেলেছে। অথচ তাদের মাসিক চাহিদা ৯ থেকে ১১ হাজার লিটার হলেও গত মাসে তারা কিনেছে ৩৩ হাজার লিটার। এই অতিরিক্ত তেল কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা তেল জব্দ করছে। কোথাও বাসাবাড়িতে ড্রামে করে ডিজেল সংরক্ষণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও পাম্পে তেল মজুত রেখে বিক্রি না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

arif-hazra-1774666545

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হলে বা তদারকির ঘাটতি থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ে ভোগান্তি থাকলে বোঝা যায় ব্যবস্থাপনায় কোথাও সমস্যা রয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, এতে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কালোবাজারি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়েছে, যা আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে সরবরাহ চেইনে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বাজারে দ্রুত তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

5daa5b56-f6bc-43a0-8942-fd3aa0d91381_20260326_105033228বিভাগটি আরও সতর্ক করে বলেছে, জ্বালানি তেল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় তা অবৈধভাবে মজুত করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই কোনোভাবেই বাসাবাড়ি বা অননুমোদিত স্থানে তেল সংরক্ষণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এই দায়িত্ব পালন করবে এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি তদারকি করবেন।

জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব হবে মজুত প্রতিরোধ, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

রাজস্ব তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬৫ শতাংশ এবং এলপিজির ৫১ শতাংশ ওই অঞ্চল থেকেই আমদানি করা হয়েছে। যদিও পরিশোধিত ডিজেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসে, তবুও এসব দেশও মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ সংকুচিত হলে এর প্রভাব বিকল্প উৎসগুলোর ওপরও পড়ে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) অকটেন বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। সে হিসাবে দিনে অকটেনের চাহিদা গড়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিকটন। চলতি মার্চ মাসের ১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অকটেন বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ টন। এতে চলতি মাসে প্রথম ২৩ দিনে গড়ে প্রতিদিন অকটেন বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫৮ মেট্রিক টন। গত ২৪ মার্চ করপোরেশনে অকটেনের মজুত ছিল প্রায় ১২ হাজার ৫০০ টন। সেখান থেকে ডেডস্টক হিসেবে ১০ শতাংশ বা ১ হাজার ২৫০ টন বাদ দিলে সরবরাহযোগ্য মজুত থাকে ১১ হাজার ২৫০ টন। চলতি মাসের গড় ব্যবহার অনুযায়ী এই মজুত ৯ দিনেরও কম সময় চলবে। এর মধ্যে একটি অংশ ডেডস্টক হিসেবে বাদ দিলে অবশিষ্ট মজুত দিয়ে সীমিত সময়ের চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে জানা গেছে।

Noakhali_20260329_232532107

বর্তমানে দেশজুড়ে বিপিসির অধীনে ১৯টি ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক পাম্পে সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ লাইন এবং তেল পেতে অপেক্ষার সময় বেড়েছে।

জ্বালানি আমদানি বাড়াতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও চুক্তির প্রক্রিয়াও চলছে। দুবাইভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাসকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজাখস্তান থেকে ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, যেখানে প্রতি ব্যারেলের দাম ধরা হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৭ ডলার। তবে এ চালান এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রতি ব্যারেলে ৩ ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হংকংভিত্তিক সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, যারা প্ল্যাটসের দামের তুলনায় প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪০ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিতে পারে।

অন্যদিকে পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল ১ লাখ টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন অকটেন সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে প্রতি ব্যারেলে ৩ ডলার ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৌশল ও জ্বালানি অবকাঠামো সেবাদাতা বিজেএন গ্রুপ ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত মূল্য প্রতি ব্যারেল ৭৯ দশমিক ০৯ ডলার। এছাড়া দুবাইভিত্তিক আইএল টেক ভেনচারস ৩০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি প্রতি দুই সপ্তাহে ১ লাখ টন করে ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে প্রতি টনে ১৫ ডলার ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।

পাম্পসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত কোনো ঘাটতি না থাকলেও আতঙ্কের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে তেল সরবরাহে সামান্য বিলম্ব হলেও গ্রাহকদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাম্প কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, সরবরাহব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, কিছু গ্রাহক বিভিন্ন পাম্প থেকে বারবার তেল সংগ্রহ করছেন, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

1e334a18-4376-488e-a032-11c735d77dae_20260327_120508907

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও গুজব থেকে দূরে থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ম তামিম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে এক ধরনের প্রভাব পড়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু পেট্রোল পাম্পের মালিক এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকে জ্বালানি মজুত করে রাখছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতি রোধে সরকারের উচিত মনিটরিং জোরদার করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

এই বিশ্লেষক বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী সংকটকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করেন, যা নৈতিক ও আইনগতভাবে অনুচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জরিমানার পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো এবং নিয়মিত তদারকি করা জরুরি, যাতে অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হয়। জ্বালানি খাতটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এখানে স্বচ্ছতা ও হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পাম্পে কত জ্বালানি সরবরাহ হচ্ছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে, তার সঠিক রেকর্ড থাকে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে যারা অসাধু কার্যক্রমে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব।’

ড. ম তামিম বলেন, ‘এই খাতে চুরি বা অনিয়মের পেছনে যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, এমনকি কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থেকেও থাকে, তাহলে সেটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধ যে-ই করুক, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকার যদি তার নিজস্ব দলীয় বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পিছপা না হয়, তাহলে তা জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।’

এদিকে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কো-কনভেনর মিজানুর রহমান রতন বলেন, ‘কাগজে-কলমে রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ এখনো সীমিত। এতে সাধারণ ভোক্তা ও পাম্প মালিক উভয়ই ভোগান্তিতে পড়ছেন।’

এএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর