বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

তেলের খোঁজে সময় যাচ্ছে পাম্পে, রাইড শেয়ারিংয়ে আয় নেমেছে অর্ধেকে

একে সালমান
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

oil
পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে তেল ভরছেন একজন রাইড শেয়ারিং চালক। ছবি- ঢাকা মেইল

অফিস কিংবা যেকোনো গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছাতে রাইড শেয়ারিংয়ের জুড়ি নেই। নগরবাসীর জন্য একপ্রকার স্বস্তি নিয়ে এসেছিলেন এসব মোটরসাইকেল চালকরা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারের অস্তিরতায় তারাই এখন চরম অস্বস্তিতে।  

‎খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে বিপাকে পড়ছেন রাইড শেয়ারিং চালকরা। তেলের জন্য পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করায় নষ্ট হচ্ছে সময়। ফলে তাদের আয় নেমেছে অর্ধেকে।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার তেলের পাম্প ঘুরে এবং রাইড শেয়ারিং চালকদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। পাম্পগুলোতে ছিল মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ নানা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। 

‎যদিও পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের সঙ্কট কিংবা তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কোনো খবর তাদের কাছে নেই। অযথাই আতঙ্ক ছড়িয়ে মোটরসাইকেল চালক ও প্রাইভেটকার চালকরা পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে যানজট বাড়াচ্ছেন। এমন দীর্ঘ লাইন দেখেই অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

‎‎এদিকে সরেজমিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শেরে বাংলা নগর, হাজারীবাগ ও শাহবাগ এলাকার নয়টি তেলের পাম্প ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি পাম্পে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন মোটরসাইকেল, পিকআপ, প্রাইভেটকার চালকরা। তেল নিতে তিন-চার ঘণ্টাও অপেক্ষা করছেন কেউ কেউ। অনেকে আবার পাম্পে বসেই ইফতার সেরে নিচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন রাইড শেয়ারিং চালকরা। তারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করায় সময় নষ্ট হচ্ছে। ফলে তাদের আয়-রোজগারেও পড়েছে ভাটা। কিছুদিন আগেও দৈনিক যে আয় হতো, সেটা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

নিজের মোটরসাইকেলে যাত্রী টেনে জীবিকা নির্বাহ করেন সাইদুল ইসলাম। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন আগেও তিনি দিনে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা আয় করতেন। কিন্তু এখন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। 

Oil2
তেলের বাজারের অস্থিরতায় পাম্পে দীর্ঘ লাইন ধরছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা। ছবি- ঢাকা মেইল

সাইদুল বলেন, তেলের জন্য পাম্পে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। পাম্পে দীর্ঘ লাইন শেষে ২ লিটারের একটু বেশি তেল নেওয়া যাচ্ছে। এতে দিনে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালানো যাচ্ছে। কিন্তু সেই মোতাবেক আয় হচ্ছে না। একদিন চালিয়ে পরের দিন তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে আবার লাইন ধরতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, আয়ও কমছে।

‎আজিজুল হক নামে আরেক চালক জানান, সকালে বের হয়ে প্রথমেই পাম্পে যেতে হয়। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অর্ধেক দিন শেষ হয়ে যায়। এরপর রাস্তায় নামলেও যাত্রীর দেখা তেমন মেলে না। 

তিনি বলেন, ভোরে সাহরি খেয়েই পাম্পে সিরিয়ালে দাঁড়াই। তখনও দীর্ঘ লাইন থাকে, অনেক সময় ব্যয় হয়। এতে আমাদের আয় কমে গেছে। সরকার যদি শঙ্কার মধ্যে না রেখে একটা স্বস্তির বার্তা দিতো, তাহলে তেলের পাম্পগুলোতে এমন ভিড় হতো না।

মোটরসাইকেলে যাত্রী টেনে জীবিকা নির্বাহ করেন- এমন আরও অনেকে জানান, তেলের অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে রাইড শেয়ারিং বন্ধ করে অন্য পেশার কথা ভাবছেন। এতে যাত্রীদেরও ভোগান্তি বাড়ছে। ফলে এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

‎‎আসাদগেট সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের হেড অব বিজনেস অপারেশন হিমোলাল মন্ডল (হিমালয়) ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের পাম্পে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রতিটি গাড়িতে তেল দিচ্ছি। আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ তেল রয়েছে।’ 

মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা অযথাই ভিড় করে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ হিমোলালের। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণ তেল আছে, তা দিয়ে ঈদের পর পর্যন্তও চলবে। নতুন করে তেল এসেছে, এতে আরও বেশ কয়েকদিন চলবে। অযথাই আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ দিন ধরে ইরানে যৌথ হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। তারা ইসরায়েলে হামলা চালানোসহ ধ্বংস করে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও।

এখানেই শেষ নয়, তুরুপের তাস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তার সহযোগী দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে উল্লেখযোগ্য হারে জ্বালানি তেলের জাহাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। 

কিন্তু ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও চীনসহ কয়েকটি দেশ ছাড়া অন্য দেশের তেলের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সেই অস্থিরতায় ভুগছে বাংলাদেশও।   

‎‎একেএস/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর