- লাভের আশায় মজুত করছে পেট্রোল পাম্পের মালিকরাও।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে তালগোল পাকানো শুরু হয়। প্রথম প্রতিক্রিয়া শুরু হয় দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে। মাত্র দু’দিনের মাথায় বিপিসির ডাক আসে তেল বিক্রয়ে, রেশনিং সিস্টেমের সপ্তাহ খানেক পর এই সিস্টেম স্থগিতও করা হয়।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু তেল বিক্রয়ে সংকট কাটেনি এখনো। চট্টগ্রামের দুই তৃতীয়াংশ পেট্রোল-অকটেন ও ডিজেল পাম্প এখনো বন্ধ। কোন কোন পাম্পে জ্বালানি বিক্রয় করা হলেও তেল সংগ্রহে স্মরণকালের জট লাগছে জ্বালানি তেল নির্ভর গাড়ির চালকদের। এর মূলে তেলের প্রাপ্যতা নিয়ে অবিশ্বাস।
শুধু গাড়ির ক্ষেত্রে নয়, সাগরে মেরিন ফুয়েল সংকটে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা বিদেশি মাদার ভ্যাসেল, জেট ফুয়েল সরবরাহ সংকটে বিমান বন্দরে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের খবর প্রচার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি জনমনে চরম অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
অথচ সরকার ও বিপিসি বলছে, দেশে এখনো কোনো রকম জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি সাশ্রয়ে কেবল কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মাত্র। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এই তথ্যের প্রমাণ মেলে।
বিজ্ঞাপন
গত ২২ মার্চ সন্ধ্যায় প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি ও গ্যাস ওয়েলসহ ২৫ জ্বালানিবাহী জাহাজ খালাস সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ওমান থেকে আসা এলপিজি সেভান নামের একটি জাহাজ এলপিজি খালাস করছে।
এবি অলিভিয়া নামের আরও একটি জাহাজ থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে এসে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে জাহাজটি থেকে এখনো খালাস কার্যক্রম শুরু হয়নি। এছাড়া বিউইকে বর্নহোম এবং মর্নিং জেন নামের দুটি জাহাজ বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। জাহাজ দুটি ২৫ মার্চ পৌঁছাবে।
বিপিসির তথ্যমতে, জাহাজগুলো থেকে খালাস করা জ্বালানি সরাসরি চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ডিপোগুলোতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখান থেকে পাইপলাইনে দেশের অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিপো থেকে ডিলারের মাধ্যমে দেশের সবকটি ফিলিং স্টেশনে পাঠানো হচ্ছে। ফলে দেশে এখনো কোনোরকম জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি।
আরও পড়ুন—
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, বলছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, চট্টগ্রামের দুই তৃতীয়াংশ ফিলিং স্টেশনে তেল নেই। কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি হলেও যানবাহন চালকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেই নিতে হচ্ছে। এছাড়া, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বাঙ্কারিং কার্যক্রম থমকে যাওয়ায় জ্বালানি ও পণ্য নিয়ে আসা মাদার ভ্যাসেলগুলো সাগরে অচল হয়ে ভাসছে। বর্তমানে এমন জাহাজের সংখ্যা ৭০টি ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিপিসির গণসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মনিলাল দাশ বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর আগের মতোই সবকটি ফিলিং স্টেশন ডিলারদের নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমরা শুনতে পাচ্ছি দুই তৃতীয়াংশ ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ। তবে আমরা গেলে দেখা যায় তারা তেল বিক্রি করছে। মনে করা হচ্ছে-দাম বাড়ার লোভে ডিলার এবং ফিলিং স্টেশনের মালিকরা কোনোরকম কারসাজি করে তেল মজুত করে তালগোল পাকাচ্ছে।
ডিলার ও ফিলিং স্টেশন মালিকরা যা বলছেন
ডিলারদের ভাষ্য, ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ না বাড়ানোয় জ্বালানি তেলের সংকট কাটছে না। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এখনও আগের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামের দুই তৃতীয়াংশ পেট্রোল পাম্প সচল হয়নি এখনো। কয়েকটি পাম্প সচল থাকলেও প্রতিদিন লেগে থাকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের সারি। যা মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগরীর গণি বেকারি এলাকায় কিউ সি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা গাড়ির চালকরা জানান, নগরীর দুই তৃতীয়াংশ পাম্পে তেল নেই। কিছু পাম্পে সরবরাহ আগের তুলনায় বাড়লেও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। সীমিত সরবরাহের কারণে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও বাসের দীর্ঘ সারি লেগে আছে। ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কমলেও যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভিড় কমেনি।
চালকরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ এলাকায় দুটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ। বায়েজিদ পেট্রোল পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে দীর্ঘ এক কিলোমিটার লাইন লেগে গেছে। ওই পাম্পের কর্মচারী সুমন জানান, আমাদের চাহিদা ৯ হাজার লিটার হলেও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার লিটার। তেল আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় পাম্প চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম সরবরাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক পাম্প বাধ্য হয়ে বিক্রি বন্ধ রাখছে।
আরও পড়ুন—
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কো-কনভেনর মিজানুর রহমান রতন বলেন, কাগজে-কলমে রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ এখনো সীমিত। এতে সাধারণ মানুষ ও পাম্প মালিক উভয়ই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অন্যদিকে পাম্প মালিকদের আরেক অংশের সভাপতি নাজমুল হক জানান, দীর্ঘদিন রেশনিং চালু থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। হঠাৎ করে তা স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেট ও মেরিন ফুয়েল বাঙ্কারিং হচ্ছে না
জ্বালানি তেল সরবরাহ সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরে থমকে আছে মেরিন ফুয়েল বা সামুদ্রিক বাঙ্কারিং কার্যক্রম। ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে বিভিন্ন আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ৭০টিরও বেশি বিদেশি মাদার ভেসেল গন্তব্যে ফিরতে পারছে না। আটকে আছে কার্গোবাহী বহু লাইটারেজ জাহাজও।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিয়ন্ত্রিত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার ওপর ডিলারদের একাংশ জ্বালানি তেল মজুত করার শঙ্কা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডেন সেলের আহ্বায়ক শফিক আহমেদ এনার্জি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একের পর এক বিদেশি জাহাজ বসে আছে, জ্বালানি নেই। একই সাথে কার্গোবাহী অনেক লাইটার জাহাজও কর্ণফুলী নদীতে আটকা পড়ে আছে। জ্বালানির অভাবে তারা লাইটারেজ জাহাজগুলো বহির্নোঙরে যেতে বা গন্তব্যে রওনা দিতে পারছে না।
সংস্থার তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে ৭০টিরও বেশি বিদেশি মাদার ভেসেল আমদানি পণ্য খালাস করে সাগরে ভাসছে। আবার ১০০টি লাইটার জাহাজ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। যা পরিচালনা করতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়।
লাইটার জাহাজ সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন নদি বন্দর ও ঘাটে পৌঁছে দেয় প্রায় ১১০০ লাইটার জাহাজ। প্রতিদিন ৯০-১০০টি জাহাজ পণ্য খালাসের শিডিউল পায়। এসব জাহাজের জন্য প্রতিদিন আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০-৫০ হাজার লিটার।
তাদের মতে, একটি লাইটার জাহাজের চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতে যেখানে চার হাজার লিটার তেল প্রয়োজন, সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০০-৫০০ লিটার। ফলে জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করতে পারছে না, নোঙরেই পড়ে থাকছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও সংকট তীব্রতর হচ্ছে মেরিন ফুয়েল বা সামুদ্রিক জ্বালানি তেল সরবরাহে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে থমকে গেছে বাঙ্কারিং কার্যক্রম। এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রাম বন্দরকে নো বাঙ্কারিং পোর্ট হিসেবে বিবেচনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্দরের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানি শুল্ক ও পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিপিসির তথ্যমতে, কয়েকজন ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত মেরিন ফুয়েল থাকলেও তারা তা বাজারে ছাড়ছে না, বরং মজুত করছে। অন্যদিকে কিছু তেল বিদেশি জাহাজে সরবরাহ করা হলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিদেশি জাহাজে সরবরাহের জন্য গত কয়েক দিন ধরে ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পয়েন্ট ফাইভ সালফার, মেরিন ফুয়েল পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ডিলারদের দাবি, পে-অর্ডার করার পরও বিপিসি থেকে তারা প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। এক লাখ লিটারের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১০-১৫ হাজার লিটার। ফলে বিদেশি জাহাজগুলোতেও চাহিদামতো জ্বালানি তেল সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না।
অনেক ডিলার তেল মজুত করছেন-এমন অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রামভিত্তিক মেরিন ফুয়েল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এআর করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী আবদুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। যেখানে তেলই পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে মজুত করার প্রশ্নই আসে না। আসল কথা হচ্ছে, সারা বিশ্বেই তেলের সংকট চলছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন পরিচালনের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী মাদার ভেসেলগুলো ০.৫ সালফারযুক্ত বিশেষায়িত মেরিন ফুয়েল ব্যবহার করে। ইরান যুদ্ধের কারণে চলতি মাসের শুরুতে সিঙ্গাপুরে এই তেলের দাম বাড়তে শুরু করে, যা বর্তমানে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।
সূত্র আরও জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের অনুমোদন রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল থেকে তেল সংগ্রহ করে মেরিন অয়েল ডিলাররা ট্যাংকারের মাধ্যমে বিদেশি জাহাজে সরবরাহ করেন।
মেরিন ফুয়েলের প্রধান ডিলারদের মধ্যে রয়েছে বিসমিল্লাহ অয়েল সাপ্লাইয়ার্স, এআর করপোরেশন, যমুনা শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং, এএম এন্টারপ্রাইজ, শাহ আমানত মেরিন সার্ভিস, সী গ্রিন এন্টারপ্রাইজ, জ্যোতি অয়েল কোং, আল নুর করপোরেশন, এএম এন্টারপ্রাইজ, কাজী এন্টারপ্রাইজ, এনার্জি নেভিগেশন, কর্ণফুলী বাংকার সাপ্লায়ার্স, শাহ আমানত অটোমোবাইলস, জহুরা করপোরেশন, আবরার মেরিন সার্ভিস, ভিশন করপোরেশন, রয়েল ট্রেডার্স এবং এ পেইস মেরিন এন্ড ফুয়েল সার্ভিস।
ডিলাররা সাধারণত মাদার ভেসেল থেকে পয়েন্ট ফাইভ সালফার মেরিন ফুয়েল সংগ্রহ করে থাকেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন তারা স্থানীয় বাজারের ওপরই বেশি নির্ভর করছেন। জ্বালানির এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও পড়তে শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ২৪৭ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশ জেঠ ফুয়েল সরবরাহ সংকটের কারণে হয়েছে বলে জানান বিমান বন্দরের গণসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল।
বিদ্যুৎ খাতেও প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট
বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লাবাহী বিদেশি জাহাজ বন্দরে এসে বসে আছে, কিন্তু তেলের অভাবে জাহাজ পরিচালনা সম্ভব না হওয়ায় সেই কয়লা খালাস করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ইংল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান বিপিসিকে দেওয়া চিঠিতেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি ঘাটতি অব্যাহত থাকলে রপ্তানি, আমদানি ও বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে গুরুতর ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর মন্তব্য
গত ২২ মার্চ রোববার চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহামুদ চৌধুরি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থায় বিশ্বের অনেক দেশ জ্বালানি তেলের দাম একাধিকবার বাড়ালেও বাংলাদেশে তা বাড়ানো হয়নি। বিকল্প উৎস থেকে সরকার জ্বালানি সংগ্রহ করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
আমির খসরু মাহামুদ চৌধুরি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। ফলে ঈদযাত্রায় কোথাও জ্বালানির সংকটে পরিবহন বন্ধ হয়নি এবং ভাড়াও বাড়েনি। এ অবস্থায় জনগণের সংযম ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎস খোঁজা ও সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সংযম, সহযোগিতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/একেবি

