বিশ্বে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা তেল যুদ্ধের উত্তাপ এখন বাংলাদেশেও দৃশ্যমান। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, ভিড় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চালকদের এই ভোগান্তি কমাতে এবং তেলের সঠিক অবস্থান জানাতে ‘তেল কই’ (Tel Koi) নামে একটি উদ্ভাবনী অ্যাপ তৈরি করেছেন এক তরুণ প্রযুক্তিবিদ।
আরও পড়ুন: খোলা বাজারের তেল ব্যবহারে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে যেসব ক্ষতি হয়
বিজ্ঞাপন
হয়রানি কমাতে প্রযুক্তিগত সমাধান
অনেকেই এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। এই সমস্যার সহজ সমাধান দিতে এগিয়ে এসেছেন সজিব খান। তিনি বর্তমানে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘পাঠাও’-তে ডেটা অ্যানালাইটিকস ও এআই অটোমেশন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী এমন একটি ওয়েবভিত্তিক অ্যাপ তৈরি করেছেন, যা স্মার্টফোন বা কম্পিউটার—যেকোনো ডিভাইস থেকেই সহজে ব্যবহার করা যায়।
যেভাবে কাজ করে ‘তেল কই’ অ্যাপ
এই অ্যাপটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর 'রিয়েল-টাইম' বা তাৎক্ষণিক তথ্য প্রদান ক্ষমতা। এর মাধ্যমে চালকরা মুহূর্তেই জানতে পারবেন-
বিজ্ঞাপন
কোন নির্দিষ্ট পাম্পে এখন তেল মজুদ আছে।
কোন পাম্পে লাইনের দৈর্ঘ্য কতটুকু বা ভিড় কেমন।
কোথায় জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমান বাজারমূল্য কত।

সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, ব্যবহারকারীরা নিজেরাও এখানে তথ্য যুক্ত করতে পারেন। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ২৮৭টি পেট্রোল স্টেশনের তথ্য এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে।
সামাজিক সংকটে জেন-জি প্রজন্মের ভূমিকা
সজিব খানের এই উদ্যোগটি একা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি (Gen-Z) প্রযুক্তির মাধ্যমে নানা সামাজিক সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। চাঁদাবাজি রুখতে ‘চান্দাওয়াচ’ কিংবা রমজানে ইফতারের অবস্থান জানাতে ‘বিরিয়ানি দিবে’ অ্যাপের মতো উদ্ভাবনগুলো এরই উদাহরণ।
আরও পড়ুন: পেট্রোল-অকটেন বোতলে ভরে রাখলে ঘটতে পারে বিস্ফোরণ
‘তেল কই’ অ্যাপটি প্রমাণ করে যে, সঠিক সুযোগ ও মেধা কাজে লাগিয়ে আমাদের তরুণরা দেশের বাস্তব সংকটগুলো মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। প্রযুক্তির এই সৃজনশীল ব্যবহার চালকদের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি পাম্পগুলোর বিশৃঙ্খলা কমাতেও বড় সহায়তা দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
এজেড

