- # টহল টিম বৃদ্ধি করা হয়েছে
- # তালিকা ধরে অপরাধীদের নজরদারি চলছে
- # ব্যাংকগুলোতে প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর যাচ্ছে পুলিশ
- # অলিগলিতে চলছে মোটরসাইকেল টহল
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি পেয়ে ঢাকা ছেড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ফলে ঢাকার অলিগলি, রাস্তাঘাট, বিপনীবিতান ও সড়কগুলো এখন অনেকটাই জনশূন্য। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। বিশেষ করে চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পুলিশের অধিকাংশ সদস্য। ঢাকাকে নিরাপদ করতে চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধের বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
বিজ্ঞাপন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদে প্রতিটি থানার পক্ষ থেকে টহল টিম বাড়ানো হয়েছে। যোগ হয়েছে বাড়তি ফোর্স। থানায় থানায় অপরাধীদের তালিকা ধরে নজরদারি চলছে। ব্যাংক, বিমা ও বাসা বাড়িগুলোতে চুরি ঠেকাতে কেয়ারটেয়ার বা দারোয়ানদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন তারা। এলাকার অলিগলিতে মোটরসাইকেল টহল অব্যাহত রেখেছে। দাগি অপরাধীরা যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিংও চলছে। সব মিলে ঢাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছে ঢাকার পুলিশ সদস্যরা।
ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়ে। কিন্ত সেই অবস্থা কাটিয়ে ওঠে এখন চাঙ্গা হতে শুরু করেছেন তারা। যার প্রমাণও মিলেছে গত কয়েকদিনে।শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবারই দেশে প্রথম ঈদ পালিত হলো। ঈদের তিন দিনে এখন পর্যন্ত রাজধানীতে কোনো ধরনের চুরি, ছিনতাই বা খুনের খবর পাওয়া যায়নি।
ডিএমপির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার দীর্ঘ ঈদের ছুটির কারণে ঢাকা পুরোপুরি ফাঁকা। এই ফাঁকা ঢাকাকে নিরাপদ রাখতে গত সপ্তাহ ধরেই পুলিশ নানা পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। তারা সেই সব পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজও শুরু করেছেন। তার ফলাফলও পাচ্ছেন নগরবাসী।
বিজ্ঞাপন
ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন ও আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আর এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
জানা গেছে, এবার ঢাকায় চুরি ও ছিনতাই ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এজন্য প্রতিটি থানার পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে টহল টিম। টহল টিমগুলো ভালোভাবে কাজ করছে কিনা সেগুলো দেখভাল করার জন্য অফিসারদের কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবার ডিএমপির সব জোনের অফিসারদের ছুটি দেওয়া হয়নি। যেসব জোন বা এলাকা অপরাধপ্রবণ সেগুলোতে টহল বাড়িয়ে সজাগ রয়েছে পুলিশ। এলাকাভিত্তিক ছিনতাই স্পর্টগুলো চিহিৃত করে সেগুলোতে বাড়তি সাদা ও পোশাকের পুলিশ রাখা হয়েছে।
ছিনতাই ঠেকাতে স্পট শনাক্তকরণ, টহল জোরদার এবং ছিনতাই ধরতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি। চুরি ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক চোরদের তালিকা করে তাদের নজরদারি করছে। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন এলাকার দাগি অপরাধীরা ছাড়া পেয়েছেন। ফলে তাদের গতিবিধি নজরদারি রাখছে ডিবি, সিটিটিসি ও এটিইউ। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক তালিকা করে তাদের ওপরও নজর রাখছে থানা পুলিশ।
ব্যাংকপাড়া ছাড়াও ব্যাংকের প্রতিটি শাখা, এটিম বুথকে কেন্দ্র করে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংক ও বুথের তালিকা করে পাঁচ মিনিট পরপর একটি করে ব্যাংকে প্রবেশ করছেন টহলরত পুলিশ সদস্যরা। সেই ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সজাগ আছেন নাকি ঘুমিয়ে পড়েছেন তারা তা দেখভাল করছেন। আবার কেউ ঘুমিয়ে গেলে তাদের জাগিয়ে সচেতন করে দিয়ে আসছেন তারা।
প্রতিটি ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাতে কোন ধরনের খারাপ কিছু দেখলেই দ্রুত পুলিশকে অবগত করেন। অথবা জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ কল করেন।
এসবের বাইরে এলাকার ফাঁকা সড়কগুলোতে উঠতি যুবকরা যাতে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে না পারে সেজন্য ব্যাড়িকেড ও ব্লক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি এলাকার লোকাল সামাজিক কমিটির নেতাদের ওসি ও থানার ডিউটি অফিসারদের নম্বর দিয়েছে পুলিশ। যেকোনো সমস্যায় যেনো পুলিশকে কল করে বিষয়টি জানানো হয়।
কয়েকটি থানার পরিদর্শকরা জানান, টহল টিমগুলো রাতদিন কাজ করছেন। আগে ১০টি টহল টিম থাকলে এখন সেটি বেড়ে ১৫টি করা হয়েছে। টহল টিমগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য ওয়্যারলেস বা ওয়াটকিতে সেই টিমের অফিসারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলছে। এছাড়াও জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ কোনো অভিযোগ এলেই তা নজরে নিয়ে দ্রুত ছুটে যাচ্ছে পুলিশ।
তবে গত তিন দিন ঢাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের কোনো খবর পায়নি পুলিশ। এখন যা পাচ্ছেন তা হলো জমি দখল, পারিবারিক কলহ ও মারামারি সংক্রান্ত।
ট্রাফিকের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কগুলোতে যাতে কেউ আইন ভঙ্গ করতে না পারে, সেজন্য কাজ করছে পুলিশ। কেউ আইন অমান্য করলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খিলগাঁও ও মতিঝিল জোনের দায়িত্বে থাকা এসি কাজী ওয়াজেদ আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, এবার গুলিস্তান, মতিঝিল ও খিলগাঁও এলাকায় ঈদের আগে ও পরে তেমন কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। লোকজন নির্বিঘ্নে ঈদ করতে করেছে। পুলিশ নগরবাসীর নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছেন।
রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা এখন আমার এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে অলিগলিতে মোটরসাইকেল ডিউটি শুরু করব। আমি নিজেই রাতে শাহবাগ, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট এলাকা মোটরসাইকেলে ঘুরে দেখব, যাতে এলাকা ও মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি দেখলে অপরাধীরা তটস্থ হয়। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিটি বাসা বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে নিরাপদ থাকে, চুরির ঘটনা না ঘটে সেজন্য কাজ করছি। আমরা প্রতিটি বাসার কেয়ারটেকার, দারোয়ান ও নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে কথা বলছি। আবার এলাকাভিত্তিক যেসব কমিটি রয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। চুরি ঠেকাতে আমরা তালিকা করেও অপরাধীদের গতিবিধি নজর রাখছি। সব মিলে কিছু হলেই যাতে লোকজন পুশিকে কল করতে পারে সেজন্য ওসি ও ডিউটি অফিসারের নম্বরগুলো দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোন বাসা বাড়িতে কোনো ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিলে তা যেনো দ্রুত পুলিশকে জানানো হয় সে ব্যাপারেও প্রতিটি এলাকার কেয়ারটেকারকে বলা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি অলিগলিতে পুলিশ কাজ করছে।
এমআইকে/এমআর