আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রক্সি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যারা প্রবাসে রয়েছেন তাদের পক্ষ থেকে অন্য কেউ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (১০ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি কার্যালয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রবাসীদের প্রক্সি ভোট প্রদানের বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) আগেই থেকে আছে। এরই জন্য আরপিও সংশোধনের প্রয়োজন হবে না। তবে কীভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা সেটা ভিন্ন বিষয়। এক্ষেত্রে অ্যাপের মাধ্যমে করার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে তবে তা প্রাথমিক পর্যায়ে চূড়ান্ত কোনোকিছু হয়নি।
প্রবাসীদের প্রক্সি ভোট প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা ছিল প্রবাসীদের ভোটে সংযুক্ত করা। সে আলোকে আমরা একটা বৈঠক করেছি। বিভিন্ন মাধ্যম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে ছিল অনলাইন ভোটিং, প্রক্সি ভোটিং। তবে কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে এনআইডি নিবন্ধন ও প্রবাসী শাখার পরিচালক আব্দুল মমিন সরকার বলেন, প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে কিছু প্রস্তাব কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। সব প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কমিশন প্রক্সি ভোটের পদ্ধতিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এটা নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রক্সি ভোটের বিষয়ে আমরা একটি প্রস্তাব কমিশনের কাছে উপস্থাপন করব। পরবর্তীতে কমিশনে অনুমোদনের পর সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হবে। কমিশন সভায় প্রক্সি ভোটের বিষয়টি অনুমোদনের পর বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বড় বড় আইটি ফার্মের সাথেও আলোচনা করে মতামত নেওয়া হবে। প্রক্সি ভোটের বিষয়ে কারিগরি সকল দিক যাচাই-বাছাই পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসি কর্মকর্তা জানিয়েছে, একটা অ্যাপস তৈরি করা হবে। সেখানে প্রবাসীরা নিবন্ধন করবেন। সেই অ্যাপসের মধ্যেই প্রবাসীরা তার নমিনি ঠিক করে দিবে এবং সেই নমিনি ভোট দিতে পারবেন। এভাবেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রক্সি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, ইসির কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
বৈঠক শেষে সারাহ কুক বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। আর এজন্য যেকোনো সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’
আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চেয়েছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এছাড়াও তারা জানতে চেয়েছিলেন আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে। তারা সহায়তা করতে চান। আমরা যা যা করছি, সেসব বিষয়ে জানানো হয়েছে তাদের।
অবজারভার রিভাইস করা হবে, এছাড়া কেনাকাটার ব্যাপার আছে —এসব কথা জানিয়ে ডিসেম্বরেই জাতীয় নির্বাচনের টাইমলাইন যাতে আমরা মিস না করি সেটাও বলা হয়েছে জানান তিনি।
সিইসি আরও বলেন, নির্বাচনে ও ভোটের জন্য পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন।
এমএইচএইচ/এমএইচটি