কাতারের উন্নয়নের সাক্ষী, এখনও অবিশ্বাস্য লাগে শেহার বানুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০৪ পিএম
কাতারের উন্নয়নের সাক্ষী, এখনও অবিশ্বাস্য লাগে শেহার বানুর
দৃষ্টিনন্দন দোহা- আল জাজিরা

শেহার বানু রিজভী ২০০৪ সালে বিয়ের পরপরই পাকিস্তানের করাচির বর্ধমান মহানগর থেকে কাতারের শান্ত শহর দোহায় চলে আসেন। তৎকালীন ২৩ বছরের পাকিস্তানি যুবতী কাতারি রাজধানীকে দেখে মুগ্ধ হতে পারেননি। তার মনে হয়েছিল যে কেউ তাকে মরুভূমির মাঝে এনে ছেড়ে দিয়েছে।

সেই সময়ে রাস্তাগুলো ছিল খালি। ছিল না শপিংয়ের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা। একটি নির্জন পাঁচতারা হোটেল, একটি বেসিক মল এবং অফিসের বিল্ডিংগুলো। এই ছিল পশ্চিম উপসাগরে দাঁড়িয়ে থাকা রাজধানী দোহার চিত্র।

দোহার অবতরণের শুরুর কথা মনে করে শেহার বলেন, 'এখানে আসার পর রাস্তায় ড্রাইভ করার জন্য প্রাথমিক কিছু নিয়ম করে দিয়েছিলেন স্বামী। সেটি হলো আপনি যদি হারিয়ে যান তাহলে সাগরতীরের দিকনির্দেশনাগুলো অনুসরণ করুন। তাহলেই নিজের বাড়ি পেয়ে যাবেন। কারণ সেই সময়ে নেভিগেশনের জন্য এখনকার মতো অ্যাপ ছিল না।'

তবে গত ১৮ বছরে এর ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। উপসাগরীয় বাস্কের তীরে চকচকে নতুন বিল্ডিংগুলো আভিজাত্যের জানান দেয়।

নতুন জেলা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং অত্যাধুনিক ভেন্যুগুলো শান্ত দোহাকে জনাকীর্ণ নগরীতে পরিণত করেছে। এখনও এর প্রসার হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কাতার যেন এক টুকরো ‘স্বর্গ’

যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে যে, কাতারের এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শ্রম আইন লঙ্ঘণ হয়েছে। দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করানো হয়েছে শ্রমিকদের। কাতারি কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে শ্রম আইনগুলো সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মাত্র পাঁচ দশক আগে স্বাধীনতা ঘোষণা করা দেশ কাতার ২০১০ সালে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পায়। এরপরই দেশটির জনসংখ্যাও খুব দ্রুত বেড়ে গেছে। দেশটির ৩০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে বেশিরভাগই অভিবাসী শ্রমিক।  যাদের বেশিরভাগ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে এসেছে।

qatar
শেহার বানু ও তার পরিবার- আল জাজিরা

গালফ টাইমসের এডিটর-ইন চিফ ফয়সাল আল-মুধাখা বলেন, কাতার ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছে। এখনও এর অনেক নিয়ম রয়ে গেছে যেগুলো উপযুক্ত নয়।

তিনি বলেন, এখন আমরা বিশ্বকাপ আয়োজন করছি। এর মাধ্যমে আমরা ১২ বছরের সংস্কারের প্রতিফলন ঘটিয়েছি। বিশ্বকাপের জন্যই এটি সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও এটি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি মনে করি বিশ্বকাপের পরও আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই ধারা অব্যহত থাকবে।

ছয় লেন মহাসড়ক, ঝা চকচকে মেট্রো ট্রেন ব্যবস্থা এবং কমিউটার বাসসহ কাতার এখন যোগাযোগের হাব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যা ২০০০ সালের দিকে অকল্পনীয় ছিল। সেই সময় কাতারের মতো একটি ছোট দেশ ফুটবল বিশ্বকাপের মতো আয়োজন করতে পারে- এই ধারণা করাও ছিল কল্পনাতীত।

শেহার বানু বলেন, ২০০৬ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়ান গেমসের উব্দোধনীতে ছিলাম। সেই সময় এটা অবিশ্বাস্য ছিল যে কাতারের মতো দেশ এমন আয়োজন করছে। তারপর আস্তে আস্তে পরিবেশ বদলে গেছে। নতুন খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম দেখে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে কাতার খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: নেই নদী, হয় না বৃষ্টিও: যেভাবে পানি পায় কাতার

সৌদি আরবের ন্যাশনাল ভিশন-২০৩০ এর মতো অর্থনৈতিক বৈচিত্র আনতে কাতারও এমন পরিকল্পনা নিয়েছে। যা জোরকদমে চলছে।

শেহার বানুর মতে, খেলাধুলায় নারী ও মেয়েদের সংখ্যা ছিল নগণ্য। আমার মেয়ে ছোটবেলায় ফুটবল নিয়েছিল কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ছেড়ে দেয় কারণ সেখানে মেয়েদের দল ছিল না। কিন্তু এখন, কিশোর বয়সে সে একটি একাডেমিতে খেলে। এটি তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলতে দিয়েছে এবং তারকাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিয়েছে।

কাতারের এই উন্নতি এখনও অবিশ্বাস্য লাগে শেহার বানুর। অবিশ্বাস্য মনে হয় তার কাছে।

সূত্র: আল জাজিরা

একে