শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

উচ্চশিক্ষা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে বিদেশে স্কলারশিপ পাবেন

অভিবাসন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও চাইলে বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যেতে পারেন। স্কলারশিপের জন্য দরকার, ভালো রেজাল্ট, ভাষা দক্ষতা, সময়মত পরিকল্পনা গ্রহণ ও নিরলস প্রচেষ্টা। এ কয়টি জিনিসই বিদেশে উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পাওয়ার পূর্বশর্ত। আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, বা পড়াশোনা শেষ করছেন সেটা কোনো বিষয়ই না। 

স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যেতে চাইলে বেশ কিছু বিষয়ে ভাবতে হবে। অন্যথায় পণ্ডশ্রম হবে। তখন স্কলারশিপ নামক সোনার হরিণ আর ধরা দেবে না। মনে রাখতে হবে যে শিক্ষার্থী দেশে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য যোগ্য সে বিদেশেও বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য। রেজাল্ট খারাপ, ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা নেই এমন শিক্ষার্থীর জন্য কিন্তু ফুল স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব না। 


বিজ্ঞাপন


তবে বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আংশিক স্কলারশিপ দেয়। মূলত দেখার বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ উচ্চশিক্ষা বৃত্তির জন্য যা চায় আপনার তা আছে কিনা?

অথবা যে দেশে বা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চান সে দেশ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করতে হবে। এবং খেয়াল রাখতে হবে কখন তারা উচ্চশিক্ষা বৃত্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

study

বিদেশে উচ্চশিক্ষা পেতে ভাষা দক্ষতা জরুরি


বিজ্ঞাপন


বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে প্রথমেই লাগে ভাষা দক্ষতা।  আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশের প্রধান ভাষা যেহেতু ইংরেজি তাই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। যেহেতু পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই নিজদেশের ভাষা অথবা আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা করতে হয়।

সুতরাং বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন ভাষাগত দক্ষতা। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে প্রায় পৃথিবীর সব দেশেই ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা যায়। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন মাত্রায় স্কোর চাওয়া হয়। তবে বেশিরভাগই আইইএলটিএস (IELTS) স্কোর ৫.৫ থেকে ৬.৫। এবং টোফেল (TOEFL) স্কোর ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত চায়। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে জিআরই (GRE) অর্থাৎ- Graduate Record Examination, জিম্যাট (GMAT) অর্থাৎ- Grauate Management Admission Test, নিউস্যাট (NEWSAT) ইত্যাদি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

study-pic

কীভাবে বিদেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাবেন?

ধরেন আপনি কানাডার একটি বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে চান। তাহলে আপনার প্রথম কাজ হল সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। প্রস্ততি বলতে শুধু ভালো ফল অর্জন করলেই চলবে না। বরং যে দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান সে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে ভালো ধরণা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার যোগ্যতাটাও তৈরি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে ভর্তির প্রাথমিক অনুমতি জানিয়ে যে চিঠি দিবে তাই অফার লেটার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত অফার লেটার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বার বার পড়তে হবে।

আরও পড়ুন: ইতালিতে নার্সিং ভিসায় চাকরির সুযোগ

কোন দেশের স্টুডেন্ট ভিসা নেবেন?

আপনি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাবেন কিনা এর ওপর ভিত্তি করে দেশ নির্বাচ করা উচিত। কারণ বিদেশে পড়ালেখার সঙ্গে ব্যয়ের সম্পর্ক রয়েছে। যদি স্কলারশিপ পেয়ে যান, তাহলে বিশ্বের এক নম্বর দেশের ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে অসুবিধা নাই। কিন্তু যদি স্কলারশিপ না পান। অথবা আংশিক স্কলারশিপ পান সেক্ষেত্রে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী দেশ নির্বাচন করা উচিৎ। কেননা, আমেরিকায় সাধারণত গ্রাজুয়েট লেভে পড়তে বছরে বিশ লাখ টাকা লাগে। কানাডায় বছরে পনের লাখ টাকা লাগে। অস্ট্রেলিয়া ও ইউকে-তে পনের থেকে আঠারো লাখ টাকা লাগে। মালয়েশিয়া, চায়না ও ইন্ডিয়ায় মোটামুটি বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মতই পড়া লেখার খরচ।

visa_pic

কীভাবে স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং করবেন?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর তাদের পাঠানো অফার লেটার বা ভর্তির অনুমতিপত্রে উল্লেখিত ডেডলাইনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় ভর্তি বাতিল হবে। তাই নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বে আপনাকে সেদেশের ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব নিয়মই এক রকম। কোন দেশে ভিসা পেতে হলে প্রথমে সে দেশের ভিসার আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হয়।

কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ভিসার আবেদনপত্র সরবরাহ করে থাকে। তা না হলে নির্দিষ্ট দূতাবাস থেকে ভিসার আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ভুল ভাবে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রসহ দূতাবাসে জমা দিতে হবে এবং নির্দিষ্ট দিনে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। 

study-ic

ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগে

শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র: সনদপত্র, নম্বরপত্র, প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রশংসাপত্রের সত্যায়িত ফটোকপিসহ মূলকপি।
পাসপোর্টঃ পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ১ বছর থাকতে হবে এবং পেশা, জন্ম তারিখ ও অন্যান্য সকল তথ্যের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার
কাগজ পত্রের মিল থাকতে হবে। 

আপনার পাসপোর্ট করা না থাকলে পাসপোর্ট করে নিন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রমাণপত্র বা অফার লেটার সংগ্রহ করুন।

আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্র: আপনি স্বচ্ছল কিনা তা প্রমাণ দেখাতে ব্যাংক সলভেন্সি রিপোর্ট দেখাতে হবে।

ছবি: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, পরিস্কার ও মার্জিত পোশাকে তোলা স্মার্ট ও স্পষ্ট ছবি হলে ভালো হয়। ছবি রঙিন হওয়াই উত্তম।

টিউশন ফি’র ব্যাংক ড্রাফট: প্রতিষ্ঠান ভেদে টিউশন ফি ভিন্ন হয়ে থাকে।

পুলিশ ছাড়পত্র: পুলিশ ছাড়পত্রের জন্য নিজ নিজ থানায় যোগাযোগ করে একটি নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে এটি সংগ্রহ করা যায়। তবে আপনার বিরুদ্ধে দেশ ও আইনবিরোধী কোনো কাজে জড়িত থাকের অভিযোগ থাকলে আপনি পুলিশ ছাড়পত্র পাবেন না।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

এজেড

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন