রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

‘রেড সি’র বাণিজ্যিক শাখায় সেরা ‘দ্য রিটার্ন অফ দ্য প্রডিগাল সন’

আলমগীর কবির, জেদ্দা থেকে
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

‘রেড সি’র বাণিজ্যিক শাখায় সেরা ‘দ্য রিটার্ন অফ দ্য প্রডিগাল সন’

মূল প্রতিযোগিতার বাইরে থাকলেও ‘রেড সি’ ফিল্ম ফেস্টিভালের সবচেয়ে আলোচিত পুরস্কার হলো ‘রেড সি সউক অ্যাওয়ার্ড’। ‘সউক’ হলো উৎসবের বাণিজ্যিক শাখার নাম। আরবি এই শব্দের বাংলা অর্থ বাজার। কান চলচ্চিত্রে যাকে বলা হয় মার্শে দ্যু ফিল্ম। মূলত সৌদি আরব ও আফ্রিকা অঞ্চলের নতুন পরিচালকদের প্রতিভা বিকাশ ও উৎসাহিত করার জন্য এই পুরস্কারের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়।

আসরের তৃতীয় সংস্করণে মঙ্গলবার রাতে এই শাখায় এবার সেরা পুরস্কার পেয়েছে রানী মাসলহা পরিচালিত ‘দ্য রিটার্ন অফ দ্য প্রডিগাল সন’। যার অর্থমূল্য এক লাখ মার্কিন ডলার। রেড সউক অ্যাওয়ার্ডের অংশ হিসেবে আরও আটটি ফিচার প্রজেক্ট এবং দুটি টিভি সিরিজকে নগদ অর্থ ও ইন-কাইন্ড পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


‘দ্য রিটার্ন অফ দ্য প্রডিগাল সন’ মিসর, তিউনিসিয়া এবং ফ্রান্সের সহ-প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে। মিসরের সালেম নামের এক শূকর পালনকারীর গল্প এটি। যিনি দেশটির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ‘কপ্ট’ বংশের মানুষ। শূকর পালনের জন্য প্রায়ই নির্যাতিত হন তিনি। বিশেষ করে ২০০৯ সালে দেশটিতে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ পর্যায়ে হোসনি মুবারক সরকার সব শূকর জবাই করার জন্য আইন পাশ করেন।

 

সিনেমাটির পরিচালক রানী মাসলহা এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার ও রাজনৈতিক চাপে শূকরগুলি ‘জবাই’ করা হয়, যা মিসরের খ্রিস্টান সমাজে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।


বিজ্ঞাপন


পরিচালক বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে মিসরে শূকরের সঙ্কট দেখা যাওয়ার বিষয়টি আমি সামনে আনতে চাইনি। আমি মূলত বোঝাতে চেয়েছি সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে খামারি কতটা সঙ্কটের মধ্যে পড়েন সেটা। আমার গল্পে দেখা গেছে, সালেম তার পরিবার থেকে নিজেকে মুক্ত করা, তার নিজের পছন্দ কাজ করা এবং তার ব্যক্তিত্ব ফিরে পাওয়ার বিষয়টি।

রানী মাসলহার প্রথম সিনেমা ছিল ‘জিরাফাদা’। যেটি ২০১৩ সালে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রদর্শন করা হয়েছিল। ওই সিনেমারই ফলোআপ গল্প ‘দ্য রিটার্ন অফ দ্য প্রডিগাল সন’।

এই সিনেমার প্রযোজকদের একজন হাবিব আত্তিয়া। ২০২১ সালে তিনি ‘দ্য ম্যান হু সোল্ড হিজ স্কিন’ এবং ২০২২ সালে ‘ব্রাদারহুড’ সিনেমার জন্য দুবার অস্কারে মনোনীত হয়েছিলেন। এছাড়া তার সিনেমা ভেনিস ও বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে পুরস্কৃত হয়েছে।

 

রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিবানী পান্ডে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সূচনা করে বলেন, ২০২২ সালের চেয়ে চলতি বছর এই উৎসবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। আসলে ‘রেড সি সউক’ই হলো উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। এর মাধ্যমে অনেকগুলো প্রকল্পের জন্ম হয় এবং সারা বছর ধরে রেড সি ফিল্ম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এগুলোর অগ্রগতি দেখভাল করা হয়।

আরব ও আফ্রিকা অঞ্চলের প্রকল্পগুলিকে সউকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যে কারণে এই অঞ্চলের চলচ্চিত্রগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে ডাকা হয়েছে উল্লেখ করে পান্ডে বলেন, অধিকাংশ চলচ্চিত্র উৎসবেই এই অঞ্চলের কাজগুলো উপেক্ষিত থাকে এবং কম অর্থায়ন করা হয়। এ কারণে সউক-এ আমরা ওই প্রতিভাগুলো তুলে ধরার দায়িত্ব নিয়েছি।

তিনি বলেন, এবার আমাদের বাণিজ্যিক শাখায় সিনেমা বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে ৫৭০টি বৈঠক হয়েছে। এরমধ্যে ২৬ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। দুর্দান্ত কিছু কাজের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।

রেড সি ফিল্ম ফাউন্ডেশনের সিইও মোহাম্মদ আল-তুর্কি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বছরের রেড সি সোক অ্যাওয়ার্ডের বিজয়ীরা আগামী দিনের সিনেমাটিক কণ্ঠস্বর। আমরা তাদের প্রতিভা এবং গল্প বলার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পেরে রোমাঞ্চিত যা নিঃসন্দেহে সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়িয়ে দেবে।

red-sho--inner-01

পুরস্কার বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা

আরব সিনেমা সেন্টার (এসিসি)
ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডাম প্রডিউসারস ল্যাবে দুটি সমর্থিত স্থান 
সৌদি বিজয়ী: গাইদা আবুআজ্জাহ (‘হাসনার পাশে’) 
আরব বিজয়ী: ফাতমা রাছা শেহাদেহ (‘দ্য গার্ল অ্যান্ড মিসিং বেড’)

এমএডি সলিউশ
এটি হচ্ছে প্রোডাকশন এবং পোস্ট-প্রোডাকশনে থাকা প্রকল্প গুলো উন্নয়নে ৫০ হাজার মার্কিন ডালারের একটি তহবিল। এই পুরস্কার জিতেছে ‘নস্টালজিয়া: এ লাইফ ইন ফার্স্ট চ্যাপ্টার্স’। এটি পরিচালনা করেছেন আমির ফখর এলদিন।

ওটিকনস
এটি মূলত একটি সিনেমার অগ্রগতির জন্য সঙ্গীত পরামর্শ পরিষেবা দেওয়ার পুরস্কার। যার আর্থিক মূল্য ৫ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: মাহদি ফ্লাইফেলের ‘মেন ইন দ্য সান’।

শিফট স্টুডিও
এই বিভাগে পুরস্কার পান দুজন। তারা ১২ হাজার মার্কিন ডলারের দুটি প্যাকেজ পান সিনেমার প্রচাররের জন্য।
বিজয়ী: নেলসন মাকেঙ্গো ’র ‘রাইজিং আপ অ্যাট নাইট’।
বিজয়ী: হুগো সালভাটেরার ‘মাই সেম্বা’।

শিফট স্টুডিও অ্যাওয়ার্ড
এটা মূলত একটি ডিসিপি প্যাজক। এই পুরস্কার বিজয়ীকে দেওয়া হয় ৮ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: মাহদি ফ্লাইফেলের ‘মেন ইন দ্য সান’। 

টিট্রাফিল্ম
নির্মাণাধীন একটি চলচ্চিত্রের জন্য সহায়তা প্রদানই এর উদ্দেশ্য। এর আর্থিক মূল্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: ‘অ্যানিমেল’। পরিচালনা করেছেন এমা বেনেস্তান।

আরব রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (এআরটি)
এই পুরস্কারটি দেওয়া হয় শুধুমাত্র সৌদি আরবের প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য। এর আর্থিক মূল্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: লিনা মাহমুদের ‘দ্য নাইট হুইস্পারার’।

এছাড়া একটি ধরনেই আরেকটি পুরস্কার দেওয়া হয় আরব অঞ্চলের প্রকল্পগুলো উন্নয়নের জন্য। যার আর্থিক মূল্য ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: ড্যানিয়েল আরবিডের ‘লাভ কঙ্কারস অল’।

এমবিসি একাডেমি/শাহিদ
সৌদি আরবের প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়। আর্থিক মূল্য ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: ‘ইন দ্যা বিগেনিং, ইট ইজ দ্য এন্ড’। পরিচালনা করেছন গাদিরে বিনাব্বাস।

৭৫ হাজার মার্কিন ডলার অর্থমূল্যের আরেকটি পুরস্কার দেওয়া হয় সৌদি প্রকল্পের উন্নয়ন বা পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য।
বিজয়ী: ‘বায় হাসান’স সাইড’ আমাল ইউসিফ।

এমবিসি গ্রুপ থেকে আরব প্রকল্পের উন্নয়ন বা পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য দেওয়া হয় ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের আরো একটি পুরস্কার।
বিজয়ী: আহমেদ ইয়াসিন আল-দারাদজির ‘ম্যাডনেস অ্যান্ড হানি ডেস’।

সিরিজ ল্যাব অ্যাওয়ার্ড
এই পুরস্কারটি দেওয়া হয় মূলত সিরিজ ল্যাব জুরি বোর্ড থেকে। যার আর্থিক মূল্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: সালেহ আল-হামাদের ‘আই অফ দ্য কাইট’।
বিজয়ী: হানা সালেহ আলফাসি দ্বারা ‘আওয়ার সন ইজ প্রেটিয়ার’।

ডব্লিউআইপি অ্যাওয়ার্ড
এটি মূলত রেড সি সউক পোস্ট-প্রোডাকশনের জুরি বোর্ডের বিশেষ স্বীকৃতি। এর আর্থিক মূল্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: হুগো সালভাটেরার ‘মাই সেম্বা’

একই বিভাগ থেকে আরেকটি পুরস্কার দেওয়া হয় পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য। যার আর্থিক মূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: আমির ফখর এলদিনের ‘ইউনান’।

লজ অ্যাওয়ার্ড
রেড সি সউক প্রোডাকশন অ্যাওয়ার্ড প্রজেক্ট মার্কেট জুরি দ্বারা এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আর্থিক মূল্য ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: আমাল ইউসিফের ‘বাই হাসনা'স সাইড’।
বিজয়ী: ভিনচু নাসুগো’র ‘ফ্যান্টাস্টিক টেল’।
বিজয়ী: নাইশে ন্যামুবায়ার ‘ব্ল্যাক স্নেক’।
বিজয়ী: ফাতমা রিয়াহির ‘মাই ফাদার কিল্ড বুরগিবা’।

red-sho--inner-02

পিএম অ্যাওয়ার্ড
এটি হলো প্রজেক্ট মার্কেটে রেড সি সউক-এর জুরি বোর্ডের বিশেষ পুরস্কার। যার মূল্য ২৫ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: ড্যানিয়েল আরবিডের ‘লাভ কঙ্কারস অল’।

সউক ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড
এই পুরস্কারের মূল্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: সামেহ আলার ‘হয়েন আই ক্লোজ মাই আইস, আই সি ইউর আইস’।

সউক প্রোডাকশন অ্যাওয়ার্ড
এটাই এই বিভাগের দামি পুরস্কার। যার আর্থিক মূল্য ১ লাখ মার্কিন ডলার।
বিজয়ী: রানী মাসলহার ‘দ্য রিটার্ন অফ দ্য প্রোডিগাল সন’

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর