ফ্যাসিবাদী তৎপরতা, জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় বিরোধিতা এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ মার্চ অব্যাহতি দেওয়া হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. নওয়াব আলী খানকে। সন্দেহজনকভাবে, অব্যাহতির পরের দিন ৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির দিনে দফতরটির ফাইলপত্র বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এই পরিচালকের বিরুদ্ধে।
এরপর ৮ মার্চ নতুন পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন সাবেক পরিচালক। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইতোপূর্বে আওয়ামী আমলেই সোয়া ৬ কোটি টাকার বিলে ঘাপলা ধরা পড়ে। তাতে নওয়াব আলীর নাম আসে।
বিজ্ঞাপন
তথ্য সূত্রে, গত বুধবার (৫ মার্চ) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালকের পদ থেকে ড. নওয়াব আলীকে অব্যাহতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে এস্টেট অফিসের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতে নিয়ম অনুযায়ী নতুন পরিচালককে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা না করে দফতরটির অতীতের বিভিন্ন ফাইলপত্র বাসায় নিয়ে যান বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, অভিযুক্ত নওয়াব আলী গত ৬ মার্চ ছুটির দিনে দফতরটির বিভিন্ন ফাইলপত্র তিনটি মিনি ব্যাগ ও একটি বড় বস্তাবন্দি করান। এসব ফাইলপত্র বের করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়। গোপনে প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি ব্যবহার করে ডরমিটরি সংলগ্ন ২ নম্বর গেট দিয়ে ফাইলপত্র ক্যাম্পাসের বাহিরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরীফ উদ্দীন এসব নথি ক্যাম্পাস থেকে বের করতে সাহায্য করেন। পরে এসব জিনিসপত্র কুষ্টিয়ায় নওয়াব আলীর নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে ওই সূত্র নিশ্চিত করে।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ফাইলপত্র বাসায় নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি নতুন পরিচালক হই ৫ মার্চ। ৮ মার্চ তিনি আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। সাবেক পরিচালক ঠিক কী কারণে ৬ মার্চ ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তা আমি জানি না। তবে ধারণা করা হচ্ছে সোয়া ৬ কোটি টাকার ভুয়া বিলের তথ্য থাকতে পারে তার ওই ফাইলপত্রে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরীফ উদ্দীন বলেন, আমার জানামতে তার অনেক ব্যক্তিগত বইপত্র ছিল। তার বইপত্র বাসায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য চেয়েছিলেন। এইতো এছাড়া কিছুই না।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ড. নওয়াব আলী জানান, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত বই ও আমার পিএইচডির কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল। সেগুলোই আমি ক্যাম্পাস থেকে বাসায় এনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যাদি বাসায় এনে আমার কোনো কাজ নেই। অব্যাহতির পর নতুন পরিচালককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি।
বইগুলো রাখার মতো আপনার বর্তমান অফিসে কি সেই জায়গা ছিল না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে যে অফিসে আছি, সে অফিসে রাখার মতো এত জায়গা নেই। তাই বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আরআর/এফএ