Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ব্যাটারি রিকশা উচ্ছেদ হলে ‘শ্রমিক অভ্যুত্থানের’ হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নামে ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ উচ্ছেদ ও বৈধ মিটার কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ করেছেন চালকরা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া গরিবের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া হলে দেশে ‘শ্রমিক অভ্যুত্থান’ ঘটবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়ে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশে প্রধান বক্তা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের নামে সরকার বৃহৎ লুটেরা পুঁজির স্বার্থে ভুলনীতি গ্রহণ করেছে। অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করার কথা বলে সরকার মূলত গ্যারেজগুলো উচ্ছেদ করছে, যেখানে নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হয়। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

ব্যাটারি রিকশা উচ্ছেদের প্রতিবাদে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল
 ব্যাটারি রিকশা উচ্ছেদের প্রতিবাদে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল

সরকারকে ‘ভুল পথ’ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে সিপিবি’র এই নেত্রী বলেন, ‘লুটেরাদের স্বার্থরক্ষায় দেশকে ভুল পথে পরিচালনার নীতি থেকে সরকার বিরত না হলে, শ্রমিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশকে সঠিক নীতিতে পরিচালনার দায়িত্ব শ্রমিকরাই নেবে।’

রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর-গেন্ডারিয়া অঞ্চল কমিটির সমন্বয়ক রিপন হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি মিন্টু মোল্লা, শ্যামপুর থানার সভাপতি মো. রাকিব ও গেন্ডারিয়া থানার সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান বক্তব্য দেন।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, সরকারের ভুলনীতি ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট যানজট এবং বিদ্যুৎ সংকটের দায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো হচ্ছে। কেউ শখ করে রিকশাচালক হয় না, কর্মসংস্থানের অভাবই প্রান্তিক মানুষকে এই পেশায় বাধ্য করে।

বিকল্প ব্যবস্থা না করে ধনিকশ্রেণির স্বার্থে চালকদের জীবিকা থেকে উচ্ছেদ করা চলবে না জানিয়ে বক্তারা বলেন, সঠিক নীতি গ্রহণ করলে কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখেই যানজট ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন সম্ভব। অর্থনীতিতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবদান অস্বীকার করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালালে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিরোধ করবে।

সমাবেশ শেষে দয়াগঞ্জ মোড় থেকে চালকদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এসময় শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো-

১. সড়ক-উপযোগী নকশায় আধুনিকায়ন করে বিআরটিএ থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স ও যৌক্তিক রুট পারমিট প্রদান।

২. চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া।

৩. সব অংশীজনের অংশগ্রহণে নীতিমালা প্রণয়ন।

৪. চাঁদাবাজি-হয়রানি বন্ধ এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নামে বৈধ বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা।

৫. শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি গঠন।

৬. সড়কের লেন পদ্ধতি সচল করে সার্ভিস লেন ও চার্জিং স্টেশন নির্মাণ।

৭. ব্যাটারিচালিত যানবাহন সংক্রান্ত সব রিট দ্রুত নিষ্পত্তি ও শ্রমিক নেতাদের নামে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

৮. জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন।

৯. ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন ও শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বর্তমান গ্যারেজগুলোকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা।

১০. অসাধু বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে রিকশার যন্ত্রাংশসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো।

১১. শ্রমিকদের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু করা।

১২. দেশের অর্থনৈতিক ও মানবিক বিবেচনায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের পুঁজিকে নিরাপদ করে পর্যায়ক্রমে মানুষকে প্যাডেলচালিত বাহনের অমানবিক শ্রম থেকে মুক্ত করা।

আরএনবি/এএম