রাজধানীর বসিলা ও ওয়াশপুরের সড়কের পাশে কোথাও তৈরি হচ্ছে রিকশার কাঠামো, কোথাও লাগানো হচ্ছে মোটর ও ব্যাটারি। আবার কোনো কোনো দোকানের সামনে সারি করে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য প্রস্তুত রিকশা। নির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরি হলেও উৎপাদনের আগে বা পরে কাঠামো, ব্রেক, গতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদ্যুতিক সংযোগ কিংবা ব্যাটারির নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তার সুস্পষ্ট তথ্য নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো দোকানে মাসে ২০টির বেশি রিকশা বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকারভেদে এসব রিকশার দাম ৮৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ব্যাটারির ধরন ও মানের ওপর নির্ভর করে কোনো কোনো রিকশার দাম ২ লাখ টাকা পর্যন্তও পৌঁছায়।
অথচ রাজধানীর সড়কে ব্যাটারি রিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যে বাহন প্রতিদিন নতুন করে সড়কে নামছে, তার উৎপাদন ও বিক্রির পর্যায়ে নজরদারি কোথায়?
নির্দিষ্ট মডেল, নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা
সম্প্রতি বসিলা ও ওয়াশপুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকান ও গ্যারেজে ব্যাটারি রিকশা তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। কোথাও শ্রমিকেরা রিকশার কাঠামো তৈরি করছেন, কোথাও চলছে মোটর ও ব্যাটারি সংযোজনের কাজ। প্রস্তুত রিকশাও রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য।
স্থানীয় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো কোনো দোকানে মাসে ১০ থেকে ১৫টি রিকশা বিক্রি হয়। আবার কোনো কোনো দোকানে বিক্রির পরিমাণ ২০টিরও বেশি।
রিকশা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে এক দোকানদার বলেন, এসব রিকশা তৈরির ক্ষেত্রে আলাদা করে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। নির্দিষ্ট মডেল দেওয়া আছে। তারা মূলত সেই মডেল অনুসরণ করেই রিকশা তৈরি করেন।

এই বক্তব্য থেকেই সামনে আসে নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন। রাস্তায় চলাচলের উপযোগী হিসেবে বিক্রির আগে এসব রিকশার কাঠামো কতটা মজবুত, ব্রেক ঠিকমতো কাজ করছে কি না, মোটরের গতি কতটা নিয়ন্ত্রিত, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ কি না—এসব পরীক্ষা করা হয় কি না, তা স্পষ্ট নয়।
কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব বাহন তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়। উৎপাদন ও বিক্রির পর্যায়ে কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সড়কে চলাচলকারী যাত্রী, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
প্রতিদিন নতুন বাহন নামছে সড়কে
বসিলা ও ওয়াশপুরের দোকানগুলোর চিত্র বলছে, ব্যাটারি রিকশার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সক্রিয়। একটি দোকান থেকেই মাসে ১০ থেকে ১২টি কিংবা ২০টির বেশি নতুন রিকশা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিদিনই নতুন করে এসব বাহন সড়কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিকশার কাঠামো, মোটর, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের মানের ওপর দাম নির্ভর করে। সাধারণ ব্যাটারির তুলনায় দামি ব্যাটারি ব্যবহার করলে রিকশার দামও বাড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোট দাম ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়।
কিন্তু একটি রিকশা দোকান থেকে বিক্রি হয়ে সড়কে নামার আগ পর্যন্ত তার নিরাপত্তা যাচাইয়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়।
সড়কে বাড়ছে দাপট, বাড়ছে যানজট
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে গত কয়েক বছরে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল বেড়েছে। স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াত এবং তুলনামূলক কম খরচের কারণে এসব বাহনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা, সরু গলি ও গণপরিবহন কম থাকা এলাকায় ব্যাটারি রিকশা অনেকের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
তবে প্রধান সড়কে এসব বাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। হঠাৎ গতি পরিবর্তন, বিপরীতমুখী চলাচল, যেখানে-সেখানে থামা এবং অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এতে যানজট বাড়ার পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
রাজধানীর মিরপুর রোডসহ বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারি রিকশার চলাচল নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। একদিকে এসব বাহন দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রধান সড়কে চলাচলের সময় অনেক যাত্রী ও পথচারী নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন।
একজন যাত্রী বলেন, ব্যাটারি রিকশায় দ্রুত ও সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া যায়। তবে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকা এবং বেপরোয়া চালানোর কারণে অনেক সময় এই সুবিধাই অসুবিধায় পরিণত হয়।
আরেক যাত্রী বলেন, এলাকার ভেতরের সড়কে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও প্রধান সড়কে ব্যাটারি রিকশায় চলাচল তার কাছে নিরাপদ মনে হয় না।

কেউ কেউ রিকশার অতিরিক্ত ঝাঁকুনি ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়েও অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, এসব বাহনে চলাচলের সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা লাগতে পারে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেকে ব্যাটারি রিকশায় না ওঠার চেষ্টা করেন।
দুর্ঘটনা হচ্ছে, নেই আলাদা হিসাব
ব্যাটারি রিকশার সংখ্যা বাড়লেও এসব বাহনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া কঠিন। বিভিন্ন সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানে তিন চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলেও সেখানে ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের হিসাব একসঙ্গে দেওয়া হয়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২০২৫ সালের হিসাবে, তিন চাকার যান, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার চালক-যাত্রী মিলিয়ে ১ হাজার ৩৭৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন, করিমন, ভটভটি, আলমসাধু ও মাহিন্দ্রার মতো বাহনের চালক-যাত্রী যুক্ত করলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৬৫ জনে।
তবে এই পরিসংখ্যান শুধু ব্যাটারি রিকশার নয়। ফলে এসব তথ্যকে ব্যাটারি রিকশার একক দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির হিসাব হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ব্যাটারি রিকশার কারণে কতটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা জানতে আলাদা তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, ব্যাটারি রিকশার কাঠামোগত নিরাপত্তা, ব্রেক, আলো, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চার্জিং নিয়েও প্রশ্ন
ব্যাটারি রিকশার উৎপাদন ও চলাচলের পাশাপাশি এসব বাহনের ব্যাটারি চার্জিং নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ ও দোকানে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও অননুমোদিত বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঢাকার ব্যাটারি রিকশার চার্জিং ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ব্যবহার ও অবৈধ সংযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বরাতে ঢাকায় বৈধ ও অবৈধ চার্জিং স্টেশনের সংখ্যার তথ্য উল্লেখ করা হয়। তবে এসব সংখ্যার সর্বশেষ অবস্থা ও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যাটারি রিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্জিংয়ের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা বা অনিরাপদ গ্যারেজে চার্জিং করা হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
ব্যাটারি রিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার নিয়ে সিটি করপোরেশন ও সচেতন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এসব বাহনকে নিবন্ধন, নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচল, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তাবিধির আওতায় আনার উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিংয়ের ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় এসেছে।

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, ব্যাটারি রিকশার উৎপাদন ও বিক্রি অব্যাহত থাকলে শুধু সড়কে অভিযান চালিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। উৎপাদন, বিক্রি, ব্যাটারি সংযোজন, চার্জিং এবং সড়কে চলাচল—সব পর্যায়ে সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
চালকদের একটি অংশের দাবি, হঠাৎ করে ব্যাটারি রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হলে তাদের জীবিকা সংকটে পড়বে। অনেকেই এই বাহন চালিয়ে সংসার চালান। আবার যাত্রীদের একটি অংশ মনে করেন, গণপরিবহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাটারি রিকশা তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারি রিকশাকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হলে বিকল্প গণপরিবহনব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। নির্দিষ্ট রুটে ছোট যান চলাচলের ব্যবস্থা, চালকদের প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও যানবাহনের নিরাপত্তা পরীক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রধান সড়কে চলাচলের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।
উৎপাদনস্থলেই নজরদারি
বসিলা ও ওয়াশপুরে সরেজমিনে পাওয়া তথ্য বলছে, ব্যাটারি রিকশা তৈরির দোকানগুলোতে নিয়মিত উৎপাদন ও বিক্রি চলছে। কোনো কোনো দোকানে মাসে ২০টির বেশি রিকশা বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ এসব বাহন তৈরির সময় নিরাপত্তা পরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
নির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করে রিকশা তৈরি করা হলেও সেই মডেলের নিরাপত্তা, কাঠামোগত স্থায়িত্ব, ব্রেকিং ব্যবস্থা কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগের মান পরীক্ষা করা হয় কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, উৎপাদনস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সড়কে চলাচলের সময় তার প্রভাব পড়তে পারে।
ব্যাটারি রিকশা বন্ধ করা হবে, নাকি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে বৈধতা দেওয়া হবে—এই বিতর্কের পাশাপাশি এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এসব বাহন তৈরির সময় মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না। কারণ, প্রতিদিন নতুন রিকশা তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন থেকে সড়কে চলাচল পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি না থাকলে ঢাকার সড়কে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
‘ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিষয়ে সরকারের কী সিদ্ধান্ত, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সরকারের সামনে যেহেতু একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাই একসঙ্গে সব অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত, অটোরিকশাগুলোকে কোনো একটি প্রক্রিয়ার আওতায় এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং মান অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করা। যেসব অটোরিকশার মান ভালো, সেগুলোকে অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। যেগুলোর মান মাঝারি, সেগুলোকে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও শর্তসাপেক্ষে চলাচলের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। আর যেসব অটোরিকশা একেবারেই নিম্নমানের ও ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
আদিল মুহাম্মদ বলেন, একসঙ্গে সব অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া হলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই ধরনের সমস্যাই তৈরি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করে অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে নতুন অটোরিকশা তৈরি ও বিক্রির বিষয়েও নজর দেওয়া জরুরি। যেসব বাজার বা কারখানা থেকে নতুন অটোরিকশা তৈরি হয়ে সড়কে নামছে, সেগুলো চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। কারণ, নতুন অটোরিকশা তৈরি অব্যাহত থাকলে পুরোনোগুলো নিয়ন্ত্রণ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
অটোরিকশার ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, ‘এ ক্ষেত্রে অটোরিকশার ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যে সংযোগ রয়েছে, সেটিও সামনে আনতে হবে। কারা এসব বাহন তৈরি ও বিক্রির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে, কোথা থেকে অর্থের জোগান আসছে এবং কারা এর সুবিধাভোগী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, তবে সবকিছু একসঙ্গে বন্ধ না করে ধীরে ধীরে একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি গণপরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সরকার যদি বড় পরিসরে ভালো গণপরিবহন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে মানুষ বিকল্প হিসেবে অতিরিক্ত অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে। এতে ধীরে ধীরে অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এম/এআর




