একে সালমান
১১ মে ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
রাজধানীতে ছিনতাইয়ের অভিনব কৌশলে সক্রিয় হয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা প্রাইভেটকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পরিকল্পিতভাবে তারা পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদের টার্গেট করে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর মারধর করে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। নগদ টাকা না পেলে ভুক্তভোগীর ব্যাংক কার্ড বা বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে জোরপূর্বক অর্থ উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু লুটপাটেই থেমে না থেকে অনেক ক্ষেত্রে অপহরণের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে—ফলে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এমন একটি ঘটনার অভিযোগ সামনে আসার পর নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাহমুদ ইশতিয়াক রোববার (১০ মে) উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা উত্তরা এলাকায় আরও ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
লিখিত অভিযোগে মাহমুদ ইশতিয়াক জানান, রোববার দুপুর ১২টার দিকে তিনি উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের বিএনএস সেন্টারের পেছনের সড়ক দিয়ে বাইসাইকেলে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার তার বাইসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেয়। তিনি বিষয়টিকে চালকের অসাবধানতা ভেবে গুরুত্ব দেননি। কিছু দূর এগোতেই একই গাড়ি আবারও ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে পড়ে যান। প্রতিবাদ করলে গাড়ি থেকে নেমে আসা দুই যুবক তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে জোর করে গাড়িতে তুলে নেন তারা।
আরও পড়ুন
বাড়ছে শিশু নির্যাতন, তিন মাসে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ১৬৫
অপরাধীদের হাতে ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’, নতুন শঙ্কা
মাহমুদের অভিযোগ, গাড়িটি উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে আরও পাঁচ থেকে সাতজন যুবক এতে যোগ দেন। তারা তার কাছে ব্যাংক কার্ড আছে কি না জানতে চান এবং বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করেন। পরে তাকে জোর করে একটি বিকাশ দোকানে নিয়ে গিয়ে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করিয়ে নেন। এরপর আবারও তাকে গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। তবে বিকাশ দোকানের মালিক ও আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঢাকা মেইলকে মাহমুদ ইশতিয়াক বলেন, আমাকে তুলে নেওয়া প্রাইভেটকারটির নম্বর ছিল 'ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-৭৮৩৯।' প্রথমে ইচ্ছাকৃতভাবে দুইবার ধাক্কা দেয়। প্রতিবাদ করতেই আমাকে মারধর করে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে তারা আমার বাসার ঠিকানা যাচাই করে এবং উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের একটি কোচিং সেন্টারে ফোন দিয়ে আমাকে চেনে কি না জানতে চায়। কোচিং সেন্টারের পরিচালক আমাকে না চেনার কথা বললে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী বলেন, গাড়িতে তুলে নেওয়ার পর আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে। প্রাণে বাঁচতে বাধ্য হয়ে বিকাশ থেকে ১৫ হাজার টাকা তুলে দিই। টাকা পাওয়ার পর আমাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে বিকাশ দোকানদার পুলিশকে খবর দিলে তারা পালিয়ে যায়।
উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা জুলফিকার আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রায়ই দেখি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে অপরিচিত লোকজন ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকায় জড়ো হয়। অনেক সময় কাউকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরও করতে দেখা যায়। বাধা দিলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
উত্তরা জসীমউদদীন এলাকার বাসিন্দা তোহরাব উদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, উত্তরা এলাকা অপহরণকারীদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠেছে। প্রায় সময় উত্তরা এলাকায় অপহরণের ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুন
সংরক্ষণে নেই তথ্য, অপরাধ করেও নাগালের বাইরে গৃহকর্মীরা!
পল্লবী থানার কয়েকজন পুলিশের ‘চাঁদার সাম্রাজ্য’
বিএনএস সেন্টারের পেছনের সড়কের চা দোকানি জাফর উদ্দিন বলেন, এ সড়কে প্রায়ই গাড়ির ধাক্কাধাক্কি আর ঝামেলা হয়। অপহরণের ঘটনা চোখে না পড়লেও মানুষের মুখে শুনেছি, এখান থেকে অনেককে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর ঢাকা মেইলকে বলেন, ভুক্তভোগীকে উত্তরা বিএনএস সেন্টার এলাকা থেকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তুরাগ থানা এলাকায় তার বিকাশ থেকে টাকা তোলা হয়। খবর পেয়ে তুরাগ থানা পুলিশ তাকে সহায়তা করেছে। আমাদের এলাকা থেকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। আর টাকা উত্তোলনের ঘটনা যেহেতু তুরাগ এলাকায় ঘটেছে, তাই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তুরাগ থানা নেবে। এ ঘটনায় আমরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা করছি।
একেএস/জেবি