Dhaka Mail Logo

বিনোদন

শখের বিয়ে ভেঙে যায় পাঁচ বছরে, কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন মিম

বিনোদন ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

শিশুশিল্পী হিসেবে যে কয়জন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম সাবরীন সাকা মিম। বড়বেলাতেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন। তবে ক্যারিয়ারের শুভক্ষণে হঠাৎ পর্দার আড়াল হয়ে যান এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুলের পডকাস্ট ‘পুতুলঘরে আত্মকথন’-এ অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ এবং নিজের ব্যক্তিগত নানা অজানা অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।

খুব শখ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন সাবরিন শাকা মীম। সংসারের নৌকা বেশি দূর বাইতে পারেননি। পাঁচ বছরের মাথায় ডুবে গিয়েছিল স্বামীর সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকার স্বপ্ন। মীমের ভাষায়, ‘মানুষের ভাগ্য তাদের হাতে লেখা হয় না। খুব শখ করে বিয়ে করেছিলাম। অন্য আট-দশটা মেয়ে যেমন চিন্তা করে। সবকিছু সুন্দরমতো চালানোর চেষ্টাও ছিল। আমার যিনি পার্টনার ছিলেন তাঁরও চেষ্টা ছিল। কিন্তু হলো না। একসময় বুঝতে পারলাম আসলে হবে না। বুঝতে পারার অনেক দিন পর পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলাম। এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছি। অবশেষে সাড়ে পাঁচ বছর পর আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

image

সংসার ভাঙলেও কারও ওপর দোষ চাপাতে নারাজ মীম। বলেন, ‘কাউকে দোষ দেব না। হয়তো আমিও দোষী, সে-ও দোষী। এক হাতে তো তালি বাজে না। আমাদের সমাজে অনেকে একসাথে থেকেও একসাথে থাকে না। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, বেঁচে থাকতে হলে নিজের মতো করেই বাঁচতে হবে।’

সংসার টেকাতে শ্বশুরবাড়ির ইচ্ছাতে ক্যারিয়ারের সুসময়ে অভিনয় ছাড়েন মিম। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। সাড়ে পাঁচ বছরের মাথায় দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। অভিনয় ছাড়া প্রসঙ্গে মিম বলেন,  ‘অভিনয় থেকে সরে আসার পেছনে শুধু এটাই একমাত্র কারণ ছিল তা না। তবে বিষয়টা মেনে নিয়েছিলাম। প্রত্যেকটা মানুষেরই নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ থাকে, তাই ধরে নিয়েছিলাম হয়তো অভিনয়টা তাঁদের কাছে খুব একটা পছন্দের জায়গা ছিল না। তাঁদের পছন্দকে সম্মান জানিয়েছিলাম। এ নিয়ে অনেক সময় মন খারাপ হয়েছে কিন্তু খুব বেশি কথা বলিনি। কখনও কারো সঙ্গে ঝামেলা হয়নি। তাঁদের সিদ্ধান্তকে সবসময় সম্মানের চোখে দেখেছি।’

image

বিচ্ছেদের সময় নিজের পরিবারকে পাশে পেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “যেদিন ডিভোর্সের সাইনটা করি সেই সময় রোজার মাস ছিল। আমার হাত কাঁপছিল। খুব ভয় লাগছিল। কিন্তু আমার বাবা-মা এবং বোন আমাকে যে মানসিক সাপোর্ট দিয়েছেন তা অবিশ্বাস্য। সেদিন রাতে বাবা বললেন, ‘চল, বাইরে সেহরি খাব।’ আমাকে স্বাভাবিক করতে তারা সবাই আমার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর পরিবারের মানসিক পরিবর্তনের জন্য সবাইকে নিয়ে প্রায় আড়াই মাস আমেরিকায় কাটাই।”

মিডিয়ার তারকাদের বিচ্ছেদ নিয়ে সমাজে মানুষ বাঁকা চোখে দেখে উল্লেখ করে আক্ষেপ প্রকাশ করেন মীম। বলেন, ‘অনেকে খুব সহজে বলে ফেলেন— মিডিয়ার মেয়েদের বিয়ে, বিচ্ছেদ নাকি কোনো ব্যাপারই না! কিন্তু এই সিদ্ধান্তের জন্য কত লম্বা সময় ধরে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, কত সংগ্রাম করতে হয়— তা অনেকে বোঝেন না। সংসার ভাঙনের কষ্ট একজন সাধারণ মেয়ে আর একজন মিডিয়ার মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

image

সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সাহস পান না। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় আমার দ্বারা আর হবে না। বিয়ে তখনই করা উচিত যখন আমি বুঝব যে একটা ছেলের ভালো-খারাপ সব সহ্য করে নিতে পারব। সে-ও আমার ভালো-খারাপ সবকিছু সহ্য করে নিতে পারবে। যখন বুঝতে পারব তাকে ছাড়া থাকা সম্ভব না, তাকে নিয়ে মরতে পারব— তখনই আসলে বিয়ে পর্যন্ত এগোনো উচিত।’

ক্যারিয়ারের ব্যস্ততম সময়ে হঠাৎ করে ২০১২ সালের পর অভিনয় থেকে সরে যান মীম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনার শেষ দিকে এসে হুট করে নাটক বন্ধ করে দিই। ২০১২-এর পর নাটকে অভিনয় করিনি। একান্ত ব্যক্তিগত কারণে নাটক থেকে অভিনয় ছাড়তে হয়। এভাবে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা কখনও ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে, না ছাড়লেও হচ্ছিল না। জোরপূর্বক ছাড়ানো হয়েছে বলব না। অভিনয় ছেড়ে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম।’

image

২০১৩ সাল থেকে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন। বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারী। মা-বাবার সুরক্ষার কথা ভেবে সেখান থেকেও সরে দাঁড়ান মীম। বলেন, ‘২০১৩ থেকে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করি। ভালোই চলছিল। ২০২০ সালে করোনা শুরু হলে মনে হয়েছিল, আমি তো মেকআপ করতে পারি না— শুধু লিপস্টিক আর কাজল দিতে পারি। নিউজ পড়তে গেলে মাস্ক খুলে অন্য কারও দিয়ে মেকআপ করাতে হবে। বাসায় আব্বা-আম্মা। ওনারা তখন ওরকম অসুস্থ না কিন্তু বয়স তো হয়েছে। কোভিড আমাদের কাছে অত্যন্ত ভয়ংকর ছিল। তেমন কিছু বুঝতাম না। সেই কারণে মনে হয়েছিল কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখা উচিত। করোনার সময় ছয় মাস বাসায় বসে ছিলাম। একপর্যায়ে খারাপ লাগতে শুরু করল। অফিসে গিয়ে বললাম চাকরিটা আর কন্টিনিউ করছি না। সেই যে ছাড়লাম আর ঢোকা হয়নি।’

দীর্ঘ দিন ধরে ক্যামেরার পেছনে চলে গেলেও মানুষের ভালোবাসা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি। মীম বলেন, ‘এখনও কত মানুষ আমাকে পর্দায় খুঁজে বেড়ায়! তারা ভাবে— সেই মীম কোথায় চলে গেল? কেন হারিয়ে গেল? আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি দুটি— প্রথমত আমার পরিবার, আর দ্বিতীয়ত মানুষের ভালোবাসা। নাটকের মীম হিসেবে অগুনতি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। তাই কোনো আক্ষেপ নেই। যেভাবে বড় হয়েছি হয়তো জীবনটা অন্যরকম হতে পারত। তা হয়নি। আমি মনে করি— যেটা হয়নি, সেটা ভাগ্যে ছিল না। যা হয়েছে, তা-ই আমি মেনে নিয়েছি।’

ইএইচ/