সাংবাদিক, সাহিত্যিক, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং চলচ্চিত্র জগতের এক প্রবাদ পুরুষ জহির রায়হানের ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ।
১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হান। পারিবারিক নাম ছিল আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। ডাক নাম ছিল ‘জাফর’। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী প্রথম ১০ জন ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারীর মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। এই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ‘পোস্টার’ গল্প ও ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস রচনা করেন।

১৯৫০ সালে ‘যুগের দাবী’ পত্রিকায় লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ‘প্রবাহ’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করার পর ১৯৬১ সালে ‘কখনো আসেনি’ পরিচালনার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর নির্মিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রের একটি। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’ এবং প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’। এছাড়া ‘হাজার বছর ধরে’, ‘বরফ গলা নদী’ ও ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’-এর মতো প্রখ্যাত উপন্যাস উপহার দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি কলকাতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান চালান। তাঁর কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’-এর প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করেন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, নিগার পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার (মরণোত্তর), একুশে পদক (মরণোত্তর), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (মরণোত্তর) এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ (মরণোত্তর) বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি খ্যাতনামা নায়িকা সুমিতা দেবী ও সুচন্দাকে বিয়ে করেন এবং তাঁর চার পুত্র সন্তানই শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত।
শিল্প-সংস্কৃতিতে অনন্য অবদান রাখা ক্ষণজন্মা প্রতিভা ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে ঢাকার মীরপুরে নিখোঁজ হন।




