বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর শীর্ষ নেতা কে সি ত্যাগী বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মনে হয় বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএল থেকে ছাড়ার বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবা উচিত।
তার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী মুসলিম-প্রধান দেশ বাংলাদেশে জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে একজন হিন্দু ক্রিকেটারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন- ৯ কোটি ২০ লাখে বিক্রির পর চুক্তি বাতিল, মুস্তাফিজ এখন কত পাবেন?
আরও পড়ুন- আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ বাংলাদেশে, ভারতের যে প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহরুখ খান-মালিকানাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়ার দাবি উঠেছিল। এর পরই গত সপ্তাহে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানায়, কেকেআর মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে হবে এবং চাইলে বিকল্প খেলোয়াড় নিতে পারবে।
আরও পড়ুন- ‘বাংলাদেশ ভারতে আসবে কি না সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন- ‘আশা করি মুস্তাফিজের মতো মাশরাফিকেও বাদ দেবে ভারত’
এই ইস্যুতে এর আগে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও মত দিয়েছেন। কেউ খেলাকে রাজনীতির সঙ্গে না মেশানোর আহ্বান জানিয়েছেন, কেউ আবার ভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন।
এবার বিষয়টিতে মন্তব্য করলেন জেডিইউ নেতা কে সি ত্যাগী। তিনি বলেন, “খেলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব খেলাধুলার আবহেও পড়ে। সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারতের সমাজ ক্ষুব্ধ। এই অনুভূতিগুলোই হয়তো বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।”
তবে ব্যক্তিগত মত জানিয়ে ত্যাগী বলেন, “রাজনীতি যেন অতিরিক্তভাবে খেলাধুলাকে প্রভাবিত না করে। বাংলাদেশ যখন তাদের জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে একজন সংখ্যালঘু, হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাসকে দায়িত্ব দিয়েছে, তখন আমাদের বিষয়টি নতুন করে ভাবা উচিত।”
তার ভাষায়, “আমরা বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছি। অথচ বাংলাদেশই একজন হিন্দু ক্রিকেটারকে অধিনায়ক করে শক্ত বার্তা দিয়েছে।”
মুস্তাফিজ ইস্যুতে এরপর হয়েছে আরও অনেক কিছুই। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরও করবে না টাইগাররা, ফলে সূচিতেও বদল আসছে। এছাড়া ভারতের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো আছেই।

