সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কিং আবদুল আজিজ কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৫ লাখ রিয়াল পুরস্কার

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

কিং আবদুল আজিজ কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৫ লাখ রিয়াল পুরস্কার

সৌদি আরবে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন মুখস্থ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের ১৫ লাখ রিয়ালের বেশি নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের প্রতি তাদের প্রচেষ্টা ও নিবেদনকে উৎসাহিত করতে এ অর্থ দেওয়া হয়।

মক্কায় অনুষ্ঠিত ছয় দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন পুরুষ ও নারী প্রতিযোগী অংশ নেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।

পুরুষ ও নারী প্রতিযোগীদের জন্য পৃথক দুটি বিচারক প্যানেল তাদের তেলাওয়াত শুনে মূল্যায়ন করে। চূড়ান্ত পর্বে কোরআন মুখস্থের দক্ষতা, আয়ত্ত, তেলাওয়াতের মান ও পরিবেশনা বিবেচনা করা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে ৫ হাজার সৌদি রিয়াল করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে মোট বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ ১৫ লাখ রিয়ালের বেশি।

আরও পড়ুন: মক্কার আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৩৩ দেশের প্রতিযোগী

এদিকে এবারের প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারের মূল্য ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল। পাঁচটি বিভাগে মোট ৫০ জন পুরুষ ও নারী প্রতিযোগী বিজয়ী হন। প্রতিটি বিভাগে পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়।

এবারের প্রতিযোগিতায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ।

বিচার কার্যক্রমকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে ইলেকট্রনিক জাজিং ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। স্কোর গণনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। সাংগঠনিক কার্যক্রম, তেলাওয়াত শোনা ও বিচারপ্রক্রিয়াতেও উন্নয়ন করা হয়েছে।

সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শায়খ আবদুল লতিফ আল-শায়খ প্রতিযোগিতায় সৌদি নেতৃত্বের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। পবিত্র কোরআন ও এর হাফেজদের প্রতি সৌদি নেতৃত্বের অব্যাহত যত্নের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মক্কার বিভিন্ন স্থাপনা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে একটি সাংস্কৃতিক সফরের আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে তাদের ক্লক টাওয়ার মিউজিয়ামে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক প্যানেলে বাংলাদেশি

সেখানে তারা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সময় পরিমাপসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক প্রদর্শনীও দেখেন। পরে মক্কা ক্লকের সাংস্কৃতিক ও প্রকৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের ধারণা দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বাছাই পর্ব শেষ করে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী মদিনায় পৌঁছে আনন্দ প্রকাশ করেন।

পর্তুগালের প্রতিযোগী সারাহ সায়ানি পবিত্র কোরআনের প্রতি নিবেদিত ব্যক্তিদের প্রতি সৌদি নেতৃত্বের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এ সফর শুধু একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল না। এটি ছিল এমন এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা, যা দীর্ঘদিন তার স্মৃতিতে থাকবে।

রিইউনিয়নের প্রতিযোগী আমান বাতেল মক্কা ও মদিনার আধ্যাত্মিক পরিবেশের কথা তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সৌদি আরবের যত্নের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মালদ্বীপের প্রতিযোগী মুসা আশরাফ বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে পবিত্র কোরআন পুনরালোচনা করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

মক্কায় পৌঁছানো থেকে মদিনায় স্থানান্তর পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা ও যত্নেরও প্রশংসা করেন তিনি।

সূত্র: আরব নিউজ ও এসপিএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর