মদিনার উহুদ পাহাড় মুসলমানদের কাছে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এই পাহাড়ের পাদদেশেই সংঘটিত হয়েছিল গাজওয়ায়ে উহুদ। এ যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাহাবায়ে কেরামের আত্মত্যাগ, ঈমান ও ধৈর্যের বহু শিক্ষা।
উহুদ পাহাড় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এটি এমন পাহাড়, যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি।’ (সহিহ বুখারি: ২৮৮৯)
এই পাহাড়ের একটি গুহাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি দাবি প্রচলিত আছে। বলা হয়, গাজওয়ায়ে উহুদের সময় আহত হওয়ার পর নবীজি (স.) সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গুহাটিতে এখনো তাঁর শরীরের সুগন্ধ পাওয়া যায় বলেও অনেকে দাবি করেন।
গুহাটিতে কি নবীজি (স.) গিয়েছিলেন?
উহুদের ওই গুহাকে নবীজি (স.)-এর আশ্রয় নেওয়ার স্থান হিসেবে অনেকে উল্লেখ করেন। তবে নির্ভরযোগ্য হাদিস বা প্রামাণ্য ইসলামি সূত্রে তাঁর সেখানে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়।
গাজওয়ায়ে উহুদের যুদ্ধে নবীজি (স.) আহত হয়েছিলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম তাঁকে রক্ষা করেছিলেন-এ ঘটনা সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তবে উহুদ পাহাড়ের কোনো নির্দিষ্ট গুহায় তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন, এমন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: উহুদ যুদ্ধ: পরাজয় নাকি শিক্ষা, কোরআন কী বলে
তাহলে সুগন্ধির রহস্য কী?
গুহাটিতে সুগন্ধ পাওয়া যায় এমন কথা অনেকের মুখে শোনা যায়। তবে সেই সুগন্ধ নবীজি (স.)-এর শরীরের সুগন্ধ-এমন কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায় না।
গুহায় সুগন্ধ পাওয়া গেলে তার পেছনে দর্শনার্থীদের ব্যবহার করা আতর বা অন্যকোনো সুগন্ধির প্রভাব থাকতে পারে। তাই সেখানে সুগন্ধ পাওয়া যাওয়াকে নবীজি (স.)-এর শরীরের সুগন্ধির নিদর্শন বলা যায় না।
গুহাটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ কেন?
উহুদ পাহাড়ের সঙ্গে গাজওয়ায়ে উহুদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এ কারণে মদিনায় আসা অনেক মানুষ উহুদ প্রান্তর দেখতে যান।
তবে উহুদের ওই গুহাকে ঘিরে নবীজি (স.)-এর সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিশেষ বরকতের নানা কথা ও প্রচলিত দাবির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন: রাসুল (স.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব: একটি কালোত্তীর্ণ মডেল
ইসলামে কোনো স্থান, পাথর বা পাহাড়কে বিশেষ বরকতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতে হলে শরিয়তের প্রমাণ প্রয়োজন। শুধু কোনো স্থান ঐতিহাসিক হওয়া বা সেখানে কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে প্রচলিত থাকার কারণে সেখানে বিশেষ আমল নির্ধারণ করা যায় না।
উহুদে গেলে কী করবেন?
উহুদ পাহাড়ে গেলে গাজওয়ায়ে উহুদের ইতিহাস স্মরণ করা যায়। সাহাবায়ে কেরামের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়। তাঁদের ঈমান, ধৈর্য ও আনুগত্যের কথা মনে করা যায়।
তবে কোনো গুহা বা পাথরকে বিশেষ বরকতের উৎস মনে করা উচিত নয়। সেখানে গিয়ে পাথর স্পর্শ করা, চুমু দেওয়া, আরও কিছু সুগন্ধি ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা বিশেষ সওয়াবের আশায় কোনো আমল করার নির্ভরযোগ্য শরয়ি প্রমাণ নেই।
নবীজি (স.)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে হওয়া উচিত। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কোনো স্থানকে ঘিরে প্রমাণহীন বিশ্বাস তৈরি করা ঠিক নয়।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ২৮৮৯, সহিহ মুসলিম: ১৩৯৩




