হজ ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ, যে সেখানে পৌঁছানোর সামর্থ্য রাখে।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭) হাজিরা হজ করতে গিয়ে আল্লাহর অতিথি হন। তাদের জন্য রয়েছে অসামান্য মর্যাদা ও পুরস্কারের ঘোষণা।
হাজিরা আল্লাহর বিশেষ মেহমান
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথের সৈনিক, হজযাত্রী ও ওমরা যাত্রীরা আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন এবং কিছু চাইলে তা দান করেন।’ (ইবনে মাজাহ: ২৮৯৩)
কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এক ওমরার পর আরেক ওমরা উভয়ের মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা। আর কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (সহিহ বুখারি: ১৭৭৩)
আরও পড়ুন: মকবুল হজের ৭ লক্ষণ
বিজ্ঞাপন
গুনাহমুক্ত নতুন জীবনের সূচনা
হজ একজন মানুষের অতীতের সব কালিমা মুছে দেয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করল এবং অশ্লীলতা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে সেদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।’ (সহিহ বুখারি: ১৫২১)
দারিদ্র্য ও গুনাহ বিমোচনের মাধ্যম
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘তোমরা ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরা আদায় করো। কেননা এ দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহ দূরীভূত করে, যেমন হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে।’ (ইবনে মাজাহ: ২৮৮৭)
দোয়া কবুল ও আল্লাহর নিরাপত্তা
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘হজ ও ওমরা পালনকারীরা আল্লাহর প্রতিনিধিদল। তারা দোয়া করলে তা কবুল করা হয় এবং ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করা হয়।’ (ইবনে মাজাহ: ২৮৯২) এছাড়া হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া ব্যক্তি সরাসরি আল্লাহর জিম্মায় থাকেন বলেও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। (মুসনাদে হুমাইদি: ১০৯০)
আরও পড়ুন: হজের সামর্থ্য না থাকলে এই ৫টি আমল করুন
আরাফার দিনে আল্লাহর গর্ব
হজের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত হলো আরাফার দিন। এদিন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আরাফার দিনে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে হাজিদের নিয়ে গর্ব করে বলেন- তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা এলোমেলো চুলে, ধুলাবালি গায়ে, আহাজারি করতে করতে দূর-দূরান্ত থেকে উপস্থিত হয়েছে। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের মাফ করে দিলাম।’ (মেশকাতুল মাসাবিহ: ২৬০১)
কবুল হজের একটি আলামত
ওলামায়ে কেরাম বলেন, ‘হজ থেকে ফেরার পর যদি কোনো ব্যক্তির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং সে আগের চেয়ে বেশি দ্বীনদার ও আল্লাহভীরু হয়, তবে বুঝতে হবে তার হজ কবুল হয়েছে।’
হজ আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। যারা হজ সম্পন্ন করে ফিরছেন, তাদের উচিত এই পবিত্রতা ও শুভ্রতা সারাজীবন ধরে রাখা। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি হাজির হজকে কবুল করুন এবং আমাদের সবাইকে বারবার তাঁর মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।




