তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ হাজি। বার্ষিক হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে এই জমায়েত হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
ভোর থেকেই সাদা ইহরামে আবৃত হাজিরা মক্কার অদূরে অবস্থিত ৭০ মিটার উচ্চতার পাথুরে পাহাড় ও এর চারপাশের বিস্তীর্ণ সমভূমিতে অবস্থান নেন। কোরআন তেলাওয়াত ও নিবিড় প্রার্থনায় মশগুল হাজিদের দুই হাত তুলে কান্নাভেজা কণ্ঠে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ, দয়া, রহমত ও সুস্থতা কামনা করতে দেখা যায়। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে আত্মসমর্পণের এই দৃশ্য হজের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে পরিচিত।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: আরাফাতে হাজিরা কতক্ষণ থাকবেন, কী আমল করবেন
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রতিটি মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ। হাজিদের কাছে কয়েক দিনের এই আনুষ্ঠানিকতা শুধু একটি সফর নয়, এটি আত্মিক পরিশুদ্ধি ও অতীত গুনাহ মোচনের এক অনন্য সুযোগ।
বিজ্ঞাপন
লাখো হাজির এই বিশাল জনস্রোত সামলাতে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফিল্ড টিম যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার উদ্দেশে। সেখানে রাতযাপন করে তারা মিনায় প্রতীকী ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ’ অনুষ্ঠানের জন্য ছোট কঙ্কর সংগ্রহ করবেন। বুধবার থেকে মিনায় রমি ও কোরবানির কার্যক্রম শুরু হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ; আল আরাবিয়া, আল আউসাত




