মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বিমানে ইহরাম বাঁধার সহজ পদ্ধতি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

বিমানে ইহরাম বাঁধার সহজ পদ্ধতি

ইহরাম হলো হজ ও ওমরা পালনের জন্য অন্যতম মৌলিক প্রস্তুতিমূলক ইবাদত। শরিয়াহ অনুযায়ী, নির্ধারিত মিকাত (সীমানা) অতিক্রম করার আগেই ইহরাম বাঁধা বাধ্যতামূলক। রাসুলুল্লাহ (স.) বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য পাঁচটি মিকাত নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন, ‘এই মিকাতসমূহ ওই অধিবাসীদের জন্য এবং যারা ওই পথ দিয়ে আসবে তাদের জন্য।’ (সহিহ বুখারি: ১৫২৪)

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী অধিকাংশ আকাশপথে ইয়ালামলাম মিকাতের ওপর দিয়ে যেতে হয়। তাই বিমানে ইহরাম বাঁধার সঠিক নিয়ম জানা প্রতিটি হজ ও ওমরা যাত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিজ্ঞাপন


১. যাত্রার আগের প্রস্তুতি

বিমানের শৌচাগার অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে ইহরাম পরিধান করা কঠিন। তাই আগেই প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম। শরিয়াহ নির্দেশনা অনুযায়ী করণীয়- নখ কাটা, গোঁফ ও অপ্রয়োজনীয় পশম পরিষ্কার করা এবং গোসল করা (সম্ভব না হলে অজু করা)।

পোশাক: পুরুষরা বাসা বা এয়ারপোর্ট থেকেই দুই টুকরো সাদা সেলাইবিহীন কাপড় পরতে পারেন। নারীরা স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরবেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ইহরাম শুধু পোশাক নয়; এটি নিয়ত ও তালবিয়াভিত্তিক একটি ইবাদত। নিয়ত ও তালবিয়া ছাড়া শুধু কাপড় পরিধান করলে ইহরাম শুরু হয় না।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: ইহরাম অবস্থায় উকুন মারাও কি নিষিদ্ধ? মারলে জরিমানা কী

২. বিমানে অবস্থানকালীন করণীয়

বিমান যখন মিকাতের কাছাকাছি পৌঁছায় (সাধারণত জেদ্দা অবতরণের ৪৫–৬০ মিনিট আগে), তখন সতর্ক থাকতে হয়। অধিকাংশ এয়ারলাইনস মিকাত আসার আগে ঘোষণা দিয়ে থাকে। চাইলে অজু অবস্থায় সিটে বসেই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যায় (সুন্নাত, বাধ্যতামূলক নয়)

৩. মূল ধাপ: মিকাত ও নিয়ত

ইহরামের মূল সূচনা হয় নিয়তের মাধ্যমে। মিকাত অতিক্রমের ঠিক আগমুহূর্তে হজ বা ওমরার সংকল্প করতে হবে।

ওমরার নিয়ত: ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা উমরাতান’ (অর্থ: হে আল্লাহ, আমি ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে আপনার দরবারে হাজির।)

হজের নিয়ত: ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা হাজ্জান’ (অর্থ: হে আল্লাহ, আমি হজ পালনের উদ্দেশ্যে আপনার দরবারে হাজির।)

মুস্তাহাব দোয়া: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা (অথবা হাজ্জা) ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি’ (অর্থ: হে আল্লাহ! আমি হজ/ওমরা পালনের ইচ্ছা করছি, আপনি তা সহজ করে দিন ও কবুল করুন।)

আরও পড়ুন: ইহরাম অবস্থায় নারীরা যে ভুলটি বেশি করেন

৪. তালবিয়া পাঠ (ইহরামের সূচনা)

নিয়তের পরপরই উচ্চস্বরে (নারীরা নিচু স্বরে) তালবিয়া শুরু করতে হবে- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক...’। তালবিয়া শুরু করার সঙ্গেই ইহরাম কার্যকর হয়ে যায় এবং তখন থেকে সুগন্ধি ব্যবহার, চুল বা নখ কাটা এবং সেলাই করা পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ হয়।

৫. মাসয়ালা ও সতর্কতা

  • দম বা কোরবানি: মিকাত অতিক্রমের পর ইহরাম করলে ‘দম’ ওয়াজিব হবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া)
  • জেদ্দার অবস্থান: জেদ্দা মিকাতের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত, তাই সেখানে নেমে ইহরাম শুরু করা যথাযথ নয়
  • নিরাপদ পদ্ধতি: ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে মিকাতের আগেই ইহরাম শুরু করা বৈধ ও নিরাপদ (রদ্দুল মুহতার)

৬. সাধারণ ভুল ধারণা

  • জেদ্দা এয়ারপোর্টে নেমে ইহরাম শুরু করা যাবে—এটি ভুল ধারণা
  • শুধু কাপড় পরাই ইহরাম—এটিও ভুল; নিয়ত ও তালবিয়া ছাড়া ইহরাম সম্পন্ন হয় না

বিমানে ইহরাম বাঁধা জটিল কোনো বিষয় নয়; বরং সঠিক সময়জ্ঞান ও শরিয়াহ নির্দেশনা জানা থাকলেই এটি সহজ। মিকাত আসার আগে নিয়ত ও তালবিয়া নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একজন যাত্রী শুদ্ধভাবে তার হজ বা ওমরা সফর শুরু করতে পারেন।

সূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, ফতোয়ায়ে আলমগিরি, রদ্দুল মুহতার, আল-মাজমু, সৌদি স্থায়ী ফতোয়া কমিটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর