রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য বদলি হজ: কে করতে পারবেন ও কীভাবে?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য বদলি হজ: কে করতে পারবেন ও কীভাবে?

হজ ইসলামের অন্যতম একটি রুকন বা স্তম্ভ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে বার্ধক্য বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে অনেক সামর্থ্যবান মুমিন এই ফরজটি নিজে পালন করতে পারেন না। ইসলামে তাদের জন্য ‘বদলি হজ’-এর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বদলি হজ হলো- একজনের ওপর অর্পিত হজের জিম্মাদারি অন্য একজন কর্তৃক পালন করা।

হজের গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- ‘সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)
নবীজি (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি যথাযথভাবে হজ পালন করে, সে মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়া দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।’ (সূত্র: সহিহ বুখারি: ১৫২১)

কারা বদলি হজ করাতে পারবেন?

হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যারা স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিজে যেতে পারছেন না, কেবল তারাই অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করাতে পারবেন। অক্ষমতার কারণগুলো হলো-

  • স্থায়ী অসুস্থতা: এমন রোগ যা থেকে ভবিষ্যতে আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা নেই।
  • বার্ধক্য: অতিশয় বৃদ্ধ হওয়া, যার ফলে দীর্ঘ ভ্রমণের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।
  • শারীরিক প্রতিবন্ধকতা: অন্ধত্ব বা পঙ্গুত্বের কারণে যাতায়াতে অক্ষম হওয়া।
  • নিরাপত্তাহীনতা: জীবনের ঝুঁকি থাকা বা নারীদের ক্ষেত্রে হজের সফরে উপযুক্ত মাহরাম সঙ্গী না পাওয়া।
  • মৃত ব্যক্তি: হজ ফরজ থাকা অবস্থায় হজ না করে মারা গেলে, ওয়ারিসদের ওপর তার অসিয়ত অনুযায়ী বদলি হজ করানো ওয়াজিব।

আরও পড়ুন: হজের সফরে মারা গেলে তার বদলি হজের বিধান কী

প্রতিনিধি হওয়ার শর্তাবলি

বদলি হজ পালনকারীর জন্য কিছু বিশেষ শর্ত ও যোগ্যতা থাকা আবশ্যক-

  • নিজস্ব হজ সম্পন্ন করা: প্রতিনিধি হিসেবে এমন ব্যক্তিকে নির্বাচন করা উত্তম, যিনি আগে নিজের ফরজ হজ সম্পন্ন করেছেন। নিজের হজ না করে অন্যের বদলি হজ করা মাকরুহে তাহরিমি।
  • অভিজ্ঞতা: প্রতিনিধিকে অবশ্যই দ্বীনদার এবং হজের মাসয়ালা-নিয়মাবলি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে।
  • নারীর প্রতিনিধিত্ব: নির্ভরযোগ্য ও মাহরাম সঙ্গী থাকলে একজন নারীও অন্য কারও পক্ষ থেকে বদলি হজ করতে পারেন।
  • প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া: প্রতিনিধিকে অবশ্যই মুসলমান, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।

বদলি হজের ৫টি জরুরি নিয়ম

১. নিয়ত করা: ইহরাম বাঁধার সময় যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে, তার নাম উল্লেখ করে মনে মনে বা মুখে নিয়ত করতে হবে।
২. মিকাত: প্রতিনিধিকে মূল ব্যক্তির দেশের মিকাত (সীমানা) থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। তবে প্রতিনিধি যদি সৌদিতে অবস্থান করেন, তবে তিনি সেখান থেকেই নিয়ত করবেন।
৩. ব্যয়ভার: হজের যাবতীয় খরচ মূল ব্যক্তির (যার পক্ষ থেকে হজ হচ্ছে) সম্পদ থেকে বহন করতে হবে।
৪. পারিশ্রমিক নয়: বদলি হজ কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি নয়। একে উপার্জনের মাধ্যম বানানো জায়েজ নেই। প্রতিনিধি শুধু হজের প্রয়োজনীয় খরচ (যাতায়াত, থাকা-খাওয়া) গ্রহণ করবেন।
৫. উদ্বৃত্ত টাকা: হজের প্রয়োজনীয় খরচের পর টাকা বেঁচে গেলে তা মূল ব্যক্তিকে ফেরত দিতে হবে, যদি না তিনি তা প্রতিনিধিকে উপহার হিসেবে দিয়ে দেন।

আরও পড়ুন: হজের ওসিয়ত না করে মারা গেলে জীবিতদের করণীয় কী

গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসয়ালা

ওমরার বদলি: হজের মতো ওমরাও বদলি করা জায়েজ। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, বৃদ্ধ বা অসুস্থ বাবার পক্ষ থেকে ওমরা করা যাবে। (তিরমিজি: ৯৩০)
অসিয়ত না করলে করণীয়: কেউ হজ না করে মারা গেলে এবং অসিয়ত না করলেও ওয়ারিসরা সওয়াবের উদ্দেশ্যে বদলি হজ করাতে পারেন। এতে মৃত ব্যক্তি দায়মুক্ত হবেন বলে আশা করা যায়।
কাবা দেখলে হজ ফরজ হয় না: গরিব ব্যক্তি প্রতিনিধি হয়ে বদলি হজ করতে গেলে কাবা শরিফ দেখার কারণে তার ওপর নতুন করে হজ ফরজ হয় না। কারণ, তাঁর পুনরায় নিজ খরচে যাওয়ার সামর্থ্য নেই।

বদলি হজ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এক বিশেষ রহমত ও সুযোগ। তবে এটি একটি বড় আমানত। তাই সঠিক ও বিশ্বস্ত প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে হজের আরকান ও আহকামগুলো যথাযথভাবে পালন করা হলে প্রেরক ও প্রতিনিধি- উভয়ই ইনশাআল্লাহ পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন।

সূত্র: সুরা আলে: ৯৭; সহিহ বুখারি: ১৫১৩, ১৫২১ ও ১৮৫২; সহিহ মুসলিম: ১৩৩৫; জামে তিরমিজি: ৯৩০ রদ্দুল মুহতার; ফতোয়ায়ে আলমগিরি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর